রবিবার, জানুয়ারি ২৪

খালেদা জিয়ার জামিন বাড়ানোর আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: সরকারের নির্বাহী আদেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়াতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবেদনপত্র আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

শুক্রবার আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের লিখিত আবেদন আমরা পেয়েছি। তার আবেদন আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি চেয়ারপারসনের এক স্বজন বলেন, এর আগে খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে তার মুক্তির জন্য সরকারের কাছে আবেদনের প্রেক্ষিতে ২৫ মার্চ জামিন পান খালেদা জিয়া। আবেদনে যুক্তরাজ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু তখন তাকে দেশের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি সরকার। এবার আবার বিদেশে নেয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। আশা করি সরকার খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেবে।

বুধবার খালেদা জিয়ার মুক্তির আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় বলে তিনি জানান।

কারামুক্তির মেয়াদ বাড়াতে সরকারের কাছে আবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার মেজো বোন সেলিমা ইসলাম বলেন, আমি গত কয়েক দিন ধরে অসুস্থ। তাই খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজায় যেতে পারিনি। তাই এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।

গত ২৪ মার্চ আইনমন্ত্রী আনিসুল হক তার গুলশানের বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ সরকার শর্তসাপেক্ষে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছয় মাসের জন্য তার সাজা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দু’টি শর্তে তাকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। সেগুলো হলো, এই সময়ে তার ঢাকায় নিজের বাসায় থাকতে হবে এবং তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না।

আইনমন্ত্রী তখন আরো বলেন, ঢাকার নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা কেয়া এবং এই সময় বিদেশে না যাওয়ার শর্তে তাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আমি মতামত দিয়েছি। সেই মতামত এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে গেছে।

আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের পরদিন ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল থেকে খালেদা জিয়া জামিনে মুক্ত হয়ে গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় চলে যান। এরপর থেকে তিনি সেখানেই আছেন।

খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়াতে সরকারের কাছে আবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ বিষয়ে তার জানা নেই। তবে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা দরকার। এ জন্য তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো দরকার।

তিনি বলেন, লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের নির্দেশনায় দলের একটি চিকিৎসক দল খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করছেন।

৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ থেকে দুই বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে ছিলেন খালেদা জিয়া। তার মধ্যে গত ১১মাস ধরে তিনি বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ২০০৮ সালে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ মামলা দায়ের হয়।


এখানে শেয়ার বোতাম