শুক্রবার, ডিসেম্বর ৪

খালেদার মুক্তি না হলে গণতন্ত্রের মুক্তি অসম্ভব : ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক :: গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি না হলে দেশের গণতন্ত্রের মুক্তি প্রায় অসম্ভব। তবে তাকে মুক্ত করার দায়িত্ব আমাদেরই। এ জন্য শুধু হলে বসে বক্তৃতা দিয়ে নয়, মাঠে যেতে হবে।

সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার কোন পথে’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ চলছে ওহি দ্বারা। বিচার বিভাগের বিচারপতিরা আমাদের বিবেক, জাতির একমাত্র আশা আকাঙ্ক্ষার জায়গা। সেখানে তারা একটি জামিনের মামলার শুনতে সাহস পান না। নিম্ন আদালতে খুনের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তকেও সুপ্রিম কোর্টে জামিন দেয়ার নজির আছে। এমন বহু উদাহরণ আছে। অথচ বিচারপতিদের জামিন শুনতে হাঁটু কাঁপে, বিবেক তো ঘুমিয়ে আছে, হাঁটু কাঁপছে।

তিনি বলেন, তারা (বিচারক) বললেন, পুরো বেঞ্চ শুনবেন। তারা আবার মেডিকেল রিপোর্ট চাইলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ কি না। তিনি অসুস্থ না হলে হাসপাতালে থাকবেন কেন? আর অসুস্থ না হলে তাকে হাসপাতালে আটকে রেখেছে কেন? বিচারপতিরা হুকুমনামার আশায় থাকলেন, ওহি কখন আসবে! তারপর সাতজন বিচারপতি মিলে জামিনের মামলা শুনলেন। ছয়জন বিশেষজ্ঞের নামে সেই রিপোর্ট এলো। কিন্তু যে মূল বিশেষজ্ঞের নাম থাকার দরকার, তা ছিল না।

বিচার বিভাগ সম্পর্কে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, কথায় কথায় আমাদের বিচারপতিরা বঙ্গবন্ধু বলে ফেনা তুলে ফেলেন, যেকোনো সুযোগ পেলেই টুঙ্গিপাড়া যান, মায়া কান্না করেন। অথচ তার (বঙ্গবন্ধু) সেই অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়ে দেখেন না। অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে শেখ মুজিবুর রহমান বলেছেন, সবচেয়ে বড় অপরাধ বিচার বিভাগকে একাকিত্ব রাখা। খালেদা জিয়ার কারাবাসের দুই বছর হতে চলল। যারা তাকে কারাগারে রেখেছেন তারা আইনের দৃষ্টিতে অপরাধী।

তিনি আরও বলেন, বিচারকরা যদি চোখে দেখতে পেতেন, বিবেক জেগে থাকত, ওহির আশায় না থাকতেন, তাহলে তারা জেল কর্তৃপক্ষ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রুল জারি করতেন, কেন তাকে (খালেদা জিয়া) একাকী রাখা হয়েছে?

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, তার (খালেদা জিয়া) যে মেডিকেল রিপোর্ট তা এত জ্ঞানী সাতজন বিচারপতি একটু লক্ষ্য করে দেখলেন না, সেখানে কোনো মানসিক চিকিৎসক নেই। জেলখানায় তার অন্যান্য রোগের পাশাপাশি মূল রোগ হলো অবসাদ, একাকিত্ব রোগ। অথচ ওই মেডিকেল রিপোর্টে কোনো মানসিক বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেই। এমন একটি অসম্পূর্ণ রিপোর্ট দেখে তারা রায় দিলেন।

অনুষ্ঠানে আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া জেলে থাকলে দেশের গণতন্ত্রও জেলে। আমরা বিচারাঙ্গনে বিচার পাচ্ছি না। আইনজীবীরা মানবিক কারণে জামিন চেয়েও খালেদা জিয়ার জামিন পাননি। আমরা জনগণের পালস বুঝতে পারছি না। আমরা এখন রাজপথে আন্দোলন চাই।

ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, সন্ত্রাসী ও প্রশাসন ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে একত্রে কাজ করেছে। ডিসি, টিএসও, ওসি ও সরকারি অন্যান্য কর্মকর্তারা একযোগে ভোট চুরি করেছে। এটা কি গণতন্ত্রের বিজয়? আওয়ামী লীগ আজ জনগণ থেকে অনেক দূরে। অবিলম্বে এই সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে।

সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি গোলাম রহমান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে এবং ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনুর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এম আমিনুল ইসলাম মনির ও হেমায়ত উদ্দীন বাদশাহর যৌথ সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মাঝে আইনজীবী মনির হোসেন, মো. মোসলেম উদ্দীন, সাইফুর রহমান, বাবর ব্যাপারী, সাইদ হাসান বখতিয়ার, জাকারিয়া মোল্লা, ড. হামিদুর রহমান রাশেদ, এ কে এম মোক্তার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।


এখানে শেয়ার বোতাম