বুধবার, জানুয়ারি ২৭

ক্ষমতার পালাবদলে বিএনপির সম্পাদক এখন আ.লীগের সভাপতি

এখানে শেয়ার বোতাম

গৌতম চন্দ্র বর্মন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:: তিনি ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ঘোষিত দলে অনুপ্রবেশকারীর তলিকায় নামও রয়েছে তার, অথচ তিনিই এখন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। আর এ ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর অন্যতম সদস্য ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন এমপির এলাকায়।

এমনকি তিনি নিজে সদর উপজেলার রুহিয়া থানাধীন ৬টি ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম উল্লেখ করে তা অনুমোদনের জন্য থানা কমিটির বরাবর পেশ করেন এবং থানা কমিটি কোনরূপ যাচাই-বাছাই না করেই তা অনুমোদন দিয়ে দেন।

গত সোমবার (২৭ জানুয়ারী) রাতে জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক এ্যাডভোকেট নাসিরুলের ফেসবুক আইডিতে জেলা আওয়ামী লীগের প্যাডে এমপি রমেশ চন্দ্র সেন স্বাক্ষরিত ৬টি ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করে একটি স্ট্যাটাস দিলে নিমিষেই তা ভাইরাল হয়ে পড়ে। সমালোচনার ঝড় শুরু হয় জেলাজুড়ে।

জানা যায়, ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে জামায়াত-বিএনপি প্রবণ এলাকা আখানগর ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও একই ইউনিয়নের বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং সম্প্রতি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ থেকে প্রকাশিত দলের অনুপ্রবেশকারী মোঃ রোমান বাদশা। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ওই ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ রখছেদুল হক চৌধূরী স্বপন।

এর আগে গত ২৬ জানুয়ারী আখানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে কমিটি ঘোষণা করা হয়নি বলে একটি সুত্র নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সামাউল বলেন, নেত্রী যেখানে বিভিন্ন দল থেকে আওয়ামী লীগে আসা অনুপ্রবেশকারী রা যাতে দলের পদ-পদবি না পান সেজন্য অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা তৈরী করে তা জেলায় জেলায় প্রেরণ করেছেন, অথচ এখানে দলের ত্যাগীদের বাদ দিয়ে বিএনপি থেকে আসা অনুপ্রবেশকারী মোঃ রোমান বাদশাকে দলের সভাপতির দায়িত্ব দিয়ে তাকে পুরস্কৃত করা হলো। আর এতে বাদ পড়লো দলের দূঃসময়ের নেতাকর্মীরা। এছাড়াও ২০০১ সালের ১লা অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচনে আখানগর ইউনিয়নের ভেলারহাট সেন্টারে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নারকীয় তান্ডব চালায় এই মোঃ রোমান বাদশা।

আখানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আরেক নেতা বিনোদ জানান, ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচনের দিন যে ব্যক্তি সংখ্যালঘু ভোটারদের উপর তান্ডব চালিয়ে আমার স্বর্ণের দোকান লুটপাট করেছিলো আজকে তাকেই সভাপতির পদ দেওয়া হলো। তাহলে কি এ ইউনিয়নে একজনও প্রকৃত আওয়ামী লীগার নেই, যে দল সামলাতে পারবে? নাকি সংখ্যালঘু নির্যাতনের জন্য তাকে পুরস্কৃত করা হলো?

এ বিষয়ে জানতে রুহিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ বাবু জানান, প্রতিটি ইউনিয়নেই দলের ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে। আখানগর ইউনিয়নের নির্বাচিত সভাপতি মোঃ রোমান বাদশা এক সময় বিএনপি করতেন সেটা ঠিক, কিন্তু দল ক্ষমতায় থাকার দশ বছর পেরিয়ে গেলেও সেখানে শক্ত কোন অবস্থান তৈরী না হওয়াসহ সার্বিক দিক বিবেচনা করে কাউন্সিলর ও সকল নেতৃবৃন্দের মতামতের ভিত্তিতে তাকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত না করে গোপন স্থান থেকে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা আসছে কি না- এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, গোপনে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হচ্ছে কথাটি ভূল। আসলে সম্মেলন চলাকালীন কাউন্সিলররাই অত্র এলাকার আওয়ামী লীগের অভিভাবক রমেশ চন্দ্র সেনকে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের দায়িত্ব এবং উনি যা সিদ্ধান্ত দেবেন তা মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে জেলা-উপজেলা ও থানা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ইউনিয়ন কমিটিগুলো ঘোষণা করা হচ্ছে।


এখানে শেয়ার বোতাম