সোমবার, মার্চ ৮
শীর্ষ সংবাদ

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান প্রশ্নবিদ্ধ, তারকা দুর্নীতিবাজদের গ্রেফতার করুন : বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি

এখানে শেয়ার বোতাম

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সভায় গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয় সাম্প্রতিক সময়ে যুবলীগ-ছাত্রলীগসহ সরকারদলীয়দের দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির যেসব রোমহর্ষক ভয়াবহ ঘটনা বেরিয়ে আসছে তা সরকারদলীয়দের নজিরবিহীন দুর্নীতির খন্ডাংশ মাত্র।

আজ মঙ্গলবার সকালে সেগুনবাগিচায় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সভা শুরু হয়েছে।

পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান, আবু হাসান টিপু ও আনছার আলী দুলাল।

রাজনৈতিক পরিষদের সভায় গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়,রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতাকে ব্যবহার করে দুর্বৃত্তরা রাতারাতি বিস্ময়কর অর্থসম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে, রাজনীতিতে ঢুকে পড়েছে, ক্লাব, ক্যাসিনো, জবরদস্তি, সন্ত্রাস, মাস্তানকে ব্যবহার করে রীতিমত মাফিয়া সা¤্রাজ্য গড়ে তুলেছে; একশ্রেণীর রাজনৈতিক ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বশে রেখে তাদের অবিশ^াস্য দৌরাত্ম অব্যাহত রয়েছে। এক হাওয়া ভবনের জায়গায় এখন অসংখ্য হাওয়া ভবন তৈরী হয়েছে। ক্যাসিনো মাফিয়া আর ব্যাংক মাফিয়ারা মিলে অনেক ব্যাংক খালি করে ফেলেছে। এদের অফিস আর বাড়ি যেন অবৈধ অর্থের কোষাগার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর বিদেশে এরা কত অর্থ পাচার করছে তা অনুমান করা কঠিন নয়।

সভার প্রস্তাবে বলা হয়, শুরুর দিকে মানুষ দুর্নীতি বিরোধী এই অভিযানকে স্বাগত জানালেও একই অপরাধে অন্যান্য অপরাধীদের গ্রেফতার না করায় এবং ব্যাংক খাতসহ বিভিন্ন খাতের মেগা দুর্নীতিবাজেরা এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকায় দুর্নীতিবিরোধী এই অভিযান ইতিমধ্যে প্রশ্নবিদ্ধ হতে শুরু করেছে। মাদক আর ভেজাল বিরোধী অভিযানের মত দুর্নীতি বিরোধী এই অভিযানও শেকড় বাদ দিয়ে কেবল আগাছা পরিস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে কিনা ইতিমধ্যে এই আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

প্রস্তাবে বলা হয়, গ্রেফতারকৃতরা ইতিমধ্যে অবৈধ অর্থ ও চাঁদাবাজির বখরা নেয়াদের যেসব নাম প্রকাশ করেছে তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় না আনলে এই অভিযান ‘আই ওয়াশ’ হিসেবেই চিহ্নিত হবে।

সভার প্রস্তাবে বলা হয়, এটা অত্যন্ত স্পষ্ট যে সরকার, সরকারি দল, প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদেই ক্যাসিনো বাণিজ্য থেকে শুরু করে দেশে দুর্নীতি আর লুটপাটের মহোৎসব চলে আসছে। সরকার ও সরকারি দলকেই এর দায়দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে।

প্রস্তাবে চলমান অভিযান খাতে মুখ থুবড়ে না পড়ে সে ব্যাপারে সরকারকে সতর্ক করে নিরপেক্ষভাবে ও পেশাদারির সততা ও দক্ষতার সাথে অনতিবিলম্বে সকল স্তরের তারকা দুর্নীতিবাজ ও মাফিয়াদের গ্রেফতার, তাদের যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর অবৈধ সম্পদ উদ্ধার এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের আহ্বান জানানো হয়।

সভায় গৃহীত আরেক প্রস্তাবে সমুদ্রের গ্যাস রপ্তানীর বিধান রেখে মন্ত্রী পরিষদে পাশ হওয়া ‘পিএসসি- ২০১৯’ বাতিল এবং রামপালে সুন্দরবনবিনাশী বিদ্যুৎপ্রকল্প বন্ধের দাবিতে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় কমিটি আহুত দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ সফল করার আহ্বান জানানো হয়।


এখানে শেয়ার বোতাম