সোমবার, নভেম্বর ৩০

কোরবানির পশুর হাট থেকে করোনা সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে : কাদের

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঈদুল আযহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাট থেকে করোনা সংক্রমণের হার আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে কার্যকর গাইডলাইন তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনে পশুর হাটের সংখ্যা কমিয়ে আনতে হবে।

বুধবার সংসদ ভবনের সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, যত্রতত্র মহাসড়ক ও এর আশপাশে পশুর হাটের অনুমতি দেওয়া যাবে না। কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন না করলে কোরবানির পশুর হাট স্বাস্থ্যঝুঁকিকে ভয়ানক মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আগেই করণীয় নির্ধারণের আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, দেশের নয়টি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। করোনার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় আম্পানের রেশ না কাটতে বন্যার পানিতে ডুবে যাচ্ছে বসতবাড়ি, কৃষকের ফসল ও মানুষের স্বপ্ন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা অনুযায়ী বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে ত্রাণ সহায়তা পাঠানো হচ্ছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের আস্থার প্রাচীর ও মনোবলের আলোকশিখা শেখ হাসিনা প্রতিটি বিষয় নিবিড়ভাবে মনিটর করছেন।

ঐক্য ও সাহসিকতার সঙ্গে এসব দুর্যোগ উত্তরণে কাজ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের পাশাপাশি সময়ের সাহসী যোদ্ধা, মানবিক ও জনবান্ধব আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সক্ষমতা দেখিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এবারও আমরা অসহায় মানুষের পাশে থেকে দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, করোনা মোকাবিলায় সরকার নতুন করে ঢাকা মহানগর ও কিছু জেলার নির্দিষ্ট স্থানে লকডাউন কার্যকর করেছে। সেসব স্থানে ইতিবাচক ফল এসেছে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। সরকারকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি এই আপাত বিচ্ছিন্নতা সবার কল্যাণের জন্য করা হয়েছে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, করোনা সংক্রমণ এখন ছড়িয়ে পড়েছে। এই রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়লে তা সীমাবদ্ধ সুযোগ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা কষ্টসাধ্য হবে। সম-সাময়িক বিশ্ব প্রেক্ষাপটে তার প্রমাণ পেয়েছি। এখন ধৈর্য্যরে সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে নিজের দায়িত্ব নিজেকে নিতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। সামান্যতম অবহেলা আর উদাসীনতা আমাদের প্রিয়জন থেকে দূরে সরিয়ে দেবে। এই চিরচেনা জগতকে করে দেবে অচেনা। স্বপ্নের রঙে সাজানো বর্ণিল পৃথিবী হয়ে যাবে বিবর্ণ।

তিনি বলেন, করোনার নমুনা পরীক্ষার ফি নির্ধারণের বিষয়টি সম্প্রতি আলোচিত হচ্ছে। এতে অসহায় দরিদ্র মানুষ পরীক্ষা থেকে দূরে থাকবে বলে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। ফলে সংক্রমণ আরও দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়বে। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সামার্থ্য বিবেচনায় নিয়ে ফি নির্ধারণের বিষয়টি যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে হবে। গরিব খেটে খাওয়া মানুষের ফি দেওয়ার সামর্থ্য নেই। তারা যেন পরীক্ষার বাইরে না থাকেন- সেজন্য বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।


এখানে শেয়ার বোতাম