সোমবার, মার্চ ৮
শীর্ষ সংবাদ

কোটি শ্রমিককে বঞ্চিত করে গণতন্ত্রের কথা বলা নিষ্ঠুর প্রহসন : রাজেকুজ্জামান রতন

এখানে শেয়ার বোতাম

বগুড়া প্রতিনিধি:: অর্থনৈতিক শোষণ ও অগণতান্ত্রিক শ্রম আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রত্যয় নিয়ে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বগুড়া জেলা শাখার ৫ম কাউন্সিল পরবর্তী শ্রমিক সমাবেশ সংগঠনের জেলা আহবায়ক কমরেড সাইফুজ্জামান টুটুল এর সভাপতিতে অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটে ঐতিহাসিক সাতমাথায় সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বাসদ কেন্দ্রীয় সদস্য শ্রমিক জননেতা কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন। আরও বক্তৃতা করেন জেলা বাসদ আহবায়ক অ্যাড.সাইফুল ইসলাম পল্টু, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যক্ষ ওয়াজেদ পারভেজ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কমরেড নব কুমার কর্মকার, আবু রায়হান, সানোয়ার বাবু, সুরেশ চন্দ্র দাস মনো।
সভা পরিচালনা করেন শ্রমিক ফ্রন্ট জেলা সাধারণ সম্পাদক কমরেড মাসুদ পারভেজ।

সমাবেশে কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, “বাংলাদেশের উৎপাদনের মূল চালিকা শক্তি শ্রমজীবী মানুষের জীবন দিন দিন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ৬ কোটি ৩৪ লক্ষ শ্রমজীবী মানুষ কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে দিন রাত পরিশ্রম করছে শুধু মাত্র দু’বেলা দু’মুঠো খাবার যোগার
করার জন্য। দেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নিত হচ্ছে, দেশের জিডিপি বাড়ছে, মাথাপিছু আয় বাড়ছে কিন্তু এই সব কিছুর যোগানদাতা শ্রমিকদের জীবনের উন্নতি হচ্ছে না।

বিশ্বের সবচেয়ে কম বেতনে কাজ করে বাংলাদেশের শ্রমিক অথচ গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন খাতে প্রতি বছর রপ্তানি আয় বাড়ছে। কৃষি ভিত্তিক শিল্প কারখানা গড়ে না তোলায় বেকার সমস্যার সমাধান হচ্ছে না; আর এই বেকারত্ব দেখিয়ে শ্রমিকদেরকে কম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা সৃষ্টি করে ট্রেড ইউনিয়ন আধিকারকে সংকুচিত করে রাখা হয়েছে। কাজ করতে এসে জীবন হারাচ্ছে যে শ্রমিক তার পরিবার ন্যায্য ক্ষতিপূরণ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। পরিবহন, হোটেল, রিক্সা, পাদুকা, তাঁত, নির্মাণ, পাঠকলসহ বিভিন্ন সেক্টরের শ্রমিকদের চাকরির নিশ্চয়তা, ন্যায্য মজুরির দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া অধিকার আদায় হবেনা।”

তিনি আরো বলেন, “লক্ষ কোটি শ্রমিককে বঞ্চিত করে দেশে গণতন্ত্রের কথা বলা একটি নিষ্ঠুর প্রহসন মাত্র।” কথায় কথায় শ্রমিক ছাঁটাই, নির্যাতন বন্ধ ও ন্যায্য মজুরীর আন্দেলনকে শক্তিশালী করার তিনি দেশের শ্রমজীবী-মেহনতি মানেুষের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান।

অধ্যক্ষ ওয়াজেদ পারভেজ উত্তরবঙ্গসহ সারাদেশে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন, কৃষি উপকরণের দাম কমানো, কৃষিফসলের লাভজনক দাম নিশ্চিত করতে শ্রমিক-কৃষকের ঐক্যবদ্ধ গণ আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান।

নব কুমার কর্মকার বলেন, “পুঁজিবাদ দেশে শোষণের অর্থনীতি, নিপীড়নের রাজনীতি চালু রেখেছে। সে কারনেই স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর কোটিপতির সংখ্যা যত বাড়ছে শ্রমিকদের অধিকার ততই কমছে।” তাই তিনি মজুরি ও ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে
পুঁজিবাদী ব্যবস্থা পাল্টানোর আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত করার আহবান জানান।

সমাবেশে কমরেড সাইফুজ্জামান টুটুলকে সভাপতি ও মাসুদ পারভেজকে সাধারণ সম্পাদক করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটিকে কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন পরিচয় করিয়ে দেন।


এখানে শেয়ার বোতাম