শনিবার, মে ৮
শীর্ষ সংবাদ

‘কৃষি ও কৃষক-খেতমজুর-দিনমজুরদের সুরক্ষায় পদক্ষেপ জরুরি’

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 474
    Shares

অধিকার ডেস্ক:: কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের বিশাল ব্যক্তি খাত কৃষিতে ও কৃষক- খেতমজুর-দিনমজুরদের সুরক্ষার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো বরাদ্দ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের ঘোষিত হয়নি বলে অভিযোগ করে সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, করোনার প্রভাব ইতোমধ্যে কৃষিতে সংকট তৈরি করেছে। ফল, ফুল, সবজি, মৎস্য চাষীরা, পোল্ট্রি, ডেইরি খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং হচ্ছেন। তাদের সুরক্ষার জন্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ জরুরি।

আজ সংবাদ পত্রে পাঠানো এক বিবৃতিতে সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কমরেড শুভ্রাংশুচক্রবর্তী ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড মনজুর আলম মিঠু (৫ এপ্রিল) সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এই অভিযোগ করেন।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ-মহামারীতে যেমন গরীব ও নিম্নআয়ের মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন, করোনা পরিস্থিতিতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। করোনা মহামারীতে গোটা দেশে লকডাউন এর পরিস্থিতি চলছে। কাজের সুযোগ নেই বহু মানুষের। ক্ষুধার যন্ত্রণা নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন অসংখ্য শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। যাদের হাত চলে পেট চলে হাত না চললে পেট চলে না তাদের ঘরের বাইরে বের হলে যেমনি করোনায় আক্রান্ত হবার ভয় তেমনি ঘরে বসে থাকলে না খেয়ে পরিবার নিয়ে মরার উপক্রম। ঘরে চাল নেই। সামান্য সহযোগিতার আশায়ছুটে আসছে ছোট ছোটশিশুরাও। দেশ জুড়ে এমন নিরব দুর্ভিক্ষের সময়ে সরকারের ভূমিকা মানুষকে ক্রমেই বিপন্ন করছে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনাজনিত বর্তমান পরিস্থিতিতে আর্থিক ঝুঁকি মোকাবেলা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। মোট ৭২হাজার ৭৫০ কোটি টাকার পাঁচটি প্যাকেজে কর্মহীন গরিব মানুষদের জন্য কোন বরাদ্দ নেই।

সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতাবৃদ্ধি ও বিনামূল্যে খাবার প্রদানের কথা বলা হলেও এখাতে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ নেই। গ্রামে ও শহরে কিভাবে নিরন্ন মানুষের মুখে খাবার তুলে দেয়া হবে সে ব্যাপারে সরকারি পরিকল্পনার কথাও জানা যায়নি। ফলে বর্তমান বাস্তবতায় কাজ হারানো ক্ষুধার্ত মানুষের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এ বিরাট সংখ্যক শ্রমজীবী-দিনমজুর-ক্ষেতমজুর পরিবার সমূহের জন্য কমপক্ষে আগামী তিন মাসের প্রয়োজনীয় খাবার ও নগদ অর্থ পাবার কোন নিশ্চয়তা মেলেনি। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, দশ টাকা সের দরে চাল যে অধিকাংশ হতদরিদ্রের কাছে পৌঁছাবে না তা নিশ্চিত। তারা বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধে এ জনগোষ্ঠীকে ঘরে রাখতে হলে তাদের খাবারের দায়িত্ব নেবার কোন বিকল্প নেই।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে নেয়া পদক্ষেপ হিসেবে গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা দশ দিন অতিবাহিত হয়েছে। ইতোমধ্যে সারা দেশের শ্রমজীবী, বস্তিবাসী, হকার, রিকশাচালক, ফুটপাতের ছিন্নমূল, গ্রামের দিনমজুর-ক্ষেতমজুর, ভ্যান চালক সহ নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনে দুর্বিষহ সংকট নেমে এসেছে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সরকারের দ্বিচারিতা, সিদ্ধান্তহীনতা ও সমন্বয়হীনতার জন্য দেশের পোশাক শিল্পের শ্রমিকরা নির্মম হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পোশাক শিল্পের মালিকদের রক্ষায় সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজ থাকলেও শ্রমিকদের রক্ষার জন্য সুনির্দিষ্ট কোন উদ্যোগ নেই।

আগামী ইরি-বোরো মওসুম মওসুম নিয়ে সরকারের কোন পরিকল্পনা নেই। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে শিল্প উৎপাদন বন্ধ, ফলে মাঠে এখন যে ফসল আছে সেই ফসল দেশের মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

করোনা পরিস্থিতি আমাদের চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে দেশের স্বাস্থ্য সেবার অবস্থা কতটা খারাপ। জেলা হাসপাতাল গুলোতে আই সি ইউ,সি সি ইউ নেই ভেন্টিলেশনের কোন আয়োজন নেই। এতদিন পরেও করোনা শনাক্তকরণের কোন আয়োজন জেলা হাসপাতালে করা যায়নি।

নেতৃবৃন্দ এই অবস্থায় নিম্নলিখিত দাবীসমুহ দ্রুতু বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 474
    Shares