বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২১

কৃষক বিক্ষোভে অবরুদ্ধ দিল্লি

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 51
    Shares

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ভারতে কৃষি আইনের বিরুদ্ধে কৃষকদের বিক্ষোভে দেশটির রাজধানী দিল্লি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। বিবিসি জানায়, দিল্লির উত্তরপ্রান্তে এক বিশাল এলাকা কবজা করে নিয়েছেন পাঞ্জাব ও হরিয়ানা থেকে আসা লাখো কৃষক।

নিজেদের ট্রাক্টর ও ট্রলিতে বেশ কয়েক মাসের রেশন নিয়ে হাজির হয়েছেন তারা। খোলা আকাশের নিচে তাঁবু খাটিয়ে শীতের রাত কাটানোর প্রস্তুতি নিয়েই দিল্লির পথ ধরেন তারা। এখন রাজধানীর ‘লাইফলাইন’ জাতীয় সড়ক ৪৪ কার্যত তাদেরই দখলে।

দিল্লির বুকে অবস্থানরত এসব কৃষক বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া আগাম আলোচনার প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিয়েছেন।

সম্প্রতি পার্লামেন্টে পাস হওয়া তিনটি বিতর্কিত কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে তারা তুমুল আন্দোলন শুরু করেছেন।

দিল্লি আসতে নানা বাধাও পেতে হয় তাদের। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন অনেক কৃষক। রাস্তা কেটে দেয়া হলে মাটি ভরাট করে ট্রাক্টর দিয়ে সামনে এগোন তারা।

পাঞ্জাব ও হরিয়ানা থেকে আসা অসংখ্য কৃষক দিল্লিতে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে রাখায় রাজধানীর একটা বিস্তীর্ণ অংশে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আরও বহু কৃষক দিল্লিতে ঢোকার চেষ্টায় সীমান্তে অপেক্ষা করছেন।

এদিকে মাসিক রেডিও ভাষণ ‘মন কি বাত’-এ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ নতুন কৃষি আইনের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

আন্দোলনরত একজন কৃষক সরবজিৎ সিং বিবিসিকে এদিন বলেন, ‘পাঞ্জাব থেকে লাঠি-জলকামান অনেক কিছু সহ্য করে আমরা এতদূর এসেছি।’

তিনি বলেন, ‘আর এখন সরকার বলছে আমাদের চুপচাপ গিয়ে বুরারি ময়দানে বসে পড়তে, যেটা কিছুতেই আমরা মানব না। তাহলে আমাদের এই আওয়াজ চাপা পড়ে যাবে।’

এ কৃষক আরও বলেন, ‘আমরা চাই দিল্লির পানি-দুধ-ফল-সবজি সাপ্লাই লাইন বন্ধ করে দিতে, যাতে সরকারের ওপর চাপ বাড়ে ও তারা আমাদের কথা শুনতে বাধ্য হয়।’

পাটিয়ালা থেকে আসা কৃষক অমৃক সিং বলেন, ‘সরকার যতক্ষণ না তিনটি কালা আইন বাতিল করছে এবং কৃষককে সহায়ক মূল্যের গ্যারান্টি দিয়ে একটি চতুর্থ আইন আনছে ততক্ষণ এই আন্দোলন চলবে।’

বস্তুত শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কৃষকেরা যদি রাস্তা ছেড়ে দিয়ে দিল্লির বুরারি ময়দানে থিতু হন, তাহলে নির্ধারিত ৩ ডিসেম্বরের আগেও সরকার আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।

কিন্তু আজ রবিবার কিষান নেতারা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে সে প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন, অন্যদিকে রাজধানীতে উত্তেজনা বাড়ছে।

দিল্লির রোহিণীর বাসিন্দা এক তরুণী বলেন, ‘কৃষক আন্দোলনের নামে যেভাবে শহরের চাকরিজীবী বা সাধারণ মানুষ সবাই হেনস্তা হচ্ছেন তা মেনে নেওয়া যায় না।’

রাজধানীর সীমান্তে অবস্থানরত কৃষক রমণীরা অবশ্য জানাচ্ছেন, তারা পিছু হঠবেন না এবং দরকারে পাঞ্জাবের গ্রাম থেকে নতুন বাহিনীও দিল্লি অভিমুখে রওনা দেবে।

ইতিমধ্যে দিল্লি-হরিয়ানার বিভিন্ন গুরুদুয়ারা থেকেও আন্দোলনরত কৃষকদের লঙ্গর তৈরি করে বিনে পয়সায় খাওয়ানোর ব্যবস্থা হচ্ছে।

এই আন্দোলনে শিখদের খালিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মদদ আছে, এমন মন্তব্য করে কৃষকদের আরও চটিয়ে দিয়েছেন হরিয়ানার বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টার।

আর আজ নতুন করে তারা খেপেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদির ভাষণেও।

তিনি বলেন, ‘পার্লামেন্ট অনেক ভেবেচিন্তেই কৃষি সংস্কারের লক্ষ্যে নতুন আইন এনেছে। তাতে কৃষকদের অনেক বাধা দূর হয়েছে, অতি অল্প সময়েই তারা এর লাভ পাচ্ছেন।’

এদিকে দিল্লিতে কৃষক আন্দোলনে যোগ দেওয়া অ্যাকটিভিস্ট মেধা পাটকরের কথায়, ‘সরকার তো দাবি করে তাদের সব সিদ্ধান্তই মানুষের পক্ষে। কিন্তু দেশের কিষান-মজদুররা সেই চালাকি এখন ধরে ফেলেছে, এবং তারা বুঝে গেছে সরকার শুধু বৃহৎ কর্পোরেটদেরই ধামাধরা।’

দুপক্ষের এই অনড় অবস্থানের মধ্যেই নজিরবিহীন কৃষক আন্দোলনে রাজধানী দিল্লির একটা বিস্তীর্ণ অংশ অচল হয়ে রয়েছে গত বাহাত্তর ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 51
    Shares