শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৬
শীর্ষ সংবাদ

কীভাবে আইপিএলে পুরো সিজন খেলতে পারছেন সাকিব?

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 3
    Shares

অধিকার ডেস্ক:: ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড আইপিএলের সব ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নিলামের আগেভাগেই পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিল, ‘পুলে যে বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা আছেন তাদের কাউকেই ১৯ মে’র পর আর পাওয়া যাবে না’। তারপরও কীভাবে সাকিব আল হাসান কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে পুরো সিজন খেলতে পারছেন, তা নিয়ে রীতিমতো রহস্য সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ইতোমধ্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তারা পুরো আইপিএল সিজন খেলার জন্যই সাকিব আল হাসানের ‘ছুটি’ মঞ্জুর করছেন—যদিও নিতান্ত অনিচ্ছাতেই যে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে সেটাও তার কথা থেকে পরিষ্কার। সোমবার তিনি ঢাকায় বলেন, ‘যদি কেউ বলে আমি টেস্ট খেলবো না, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলবো, তাহলে আসলে আমাদের করার কিছুই থাকে না। আমাদের পরিষ্কার কথা, কাউকে আমরা জোর করে খেলাবো না।’

কিন্তু এই ‘ছুটি’টা সাকিব ঠিক কীভাবে আর কবে আদায় করে নিয়েছেন, সেটা নিয়েই ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ভারতের ক্রিকেট মহলের নানা স্তর থেকে জানতে পেরেছে, তিনি যে পুরো আইপিএল সিজনটাই খেলবেন, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইয়ে নিলামের আগেই সাকিব আল হাসান সে বার্তা ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছিলেন।

যে তারকা ক্রিকেটারকে সিজনের অনেকটা অংশে, বিশেষ করে নকআউট পর্যায়ে পাওয়াই যাবে না, তার চেয়ে যাকে টুর্নামেন্টের পুরো সময়টা পাওয়া যাবে, নিলামে তার বাজার দর বা চাহিদা যে অনেক বেশি হবে সেটা খুব স্বাভাবিক। আর আইপিএল নিলামের আগে সাকিব ঠিক সেটাই নিশ্চিত করতে পেরেছিলেন।

এখানে পুরো ঘটনাক্রম দেখলে বিষয়টা আরও পরিষ্কার হবে।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) রাতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) আইপিএলের সব ফ্র্যাঞ্চাইজিকে একটি ‘অ্যাডভাইজরি’ বা চিঠি পাঠিয়ে জানায়, কোনও বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে তারা যদি নির্বাচনও করেন তাহলে কিন্তু তাকে ১৯ মে থেকে আর পাওয়া যাবে না। কারণ, সে সময় শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ তিন ম্যাচের সিরিজ খেলবে বলে নির্ধারিত আছে।

ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ক্রিকবাজ’ আরও জানায়, বাংলাদেশ ছাড়া আর বাদবাকি সব দেশের খেলোয়াড়দের যে পুরো সিজনটাই পাওয়া যাবে, বিসিসিআই সেটাও ‘ক্ল্যারিফাই’ করে দেয়।

সোজা কথায়, এর অর্থ দাঁড়ায় কোনও ফ্রাঞ্চাইজি যদি নিলামে সাকিব বা মুস্তাফিজকে কেনেও তাহলে ১৯ মে (কিংবা তার আগেই) তাদের ‘ন্যাশনাল ডিউটি’র জন্য ছেড়ে দিতে হবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের যা তথ্য দিয়েছে, তার ভিত্তিতেই বিসিসিআই তখন এই অ্যাডভাইজরি দিয়েছিল বলাই বাহুল্য।

কিন্তু এর দেড়দিন পরে যখন চেন্নাইয়ের নিলামে কলকাতা রাইট রাইডার্স সাকিবকে ৩ কোটি ২০ লক্ষ রুপিতে কেনে, তখন কিন্তু তারা এটা জেনেই কেনে যে সাকিবকে পুরো সিজনের জন্য পাচ্ছে।

কলকাতা নাইট রাইডার্সের একটি সূত্র  বলেন, ‘দেখুন সাকিবের মতো অভিজ্ঞ একজন অলরাউন্ডারকে আমরা দলে ফিরিয়ে এনেছি কিছু নির্দিষ্ট ক্যালকুলেশন করেই। এখন লিগের শেষ দিকের গুরুত্বপূর্ণ পর্বটায় বা এলিমিনেটর রাউন্ডেই তার অভিজ্ঞতা সবচেয়ে কাজে লাগবে—এটা নিশ্চয় আমাদের মাথায় ছিল।’

আইপিএলের আগামী মৌসুম শুরু হচ্ছে ১১ এপ্রিল থেকে, চলবে ৬ জুনের ফাইনাল অবধি। ফলে ১৯ মে’র পর সাকিবকে পাওয়া যাবে না, এটা জানলে হয়তো নাইট রাইডার্স সাকিবের জন্য ঝাঁপাতই না। কিন্তু ঠিক কীভাবে তারা জানতে পারলেন সাকিবকে পুরো সিজনের জন্য পাওয়া যাবে এবং তিনি ছুটি ‘ম্যানেজ’ করে ফেলেছেন—এ বিষয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্সের কর্মকর্তারা কিছু বলতে নারাজ।

ফলে এই ধারণাই বদ্ধপরিকর হচ্ছে যে, ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে ভারতীয় বোর্ডের চিঠি আর ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকাল তিনটায় চেন্নাইতে ক্রিকেটারদের নিলাম, এরই মাঝে কোনও একটা সময় সাকিব আল হাসান তার ‘ছুটি’ বিসিবির কাছ থেকে মঞ্জুর করিয়ে নিয়েছেন। কীভাবে তিনি সেটা করেছেন তার উত্তর আছে সাকিবের কাছেই। আর বাংলাদেশ ক্রিকেটের বাদশাহ যে নিজের নিয়মেই সবকিছু করে থাকেন, সেটাও এ ঘটনায় আরও একবার প্রমাণিত হলো।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 3
    Shares