শুক্রবার, ডিসেম্বর ৪

কারা এদের পৃষ্ঠপোষক?

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক::  একাত্তর জার্নালে অতিথি হিসেবে সংযুক্ত হয়েছিলেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক আ ফ ম রুহুল হক স্যার। তার সাথে আলোচনার বিষয় ছিলো মিঠু কন্ট্রাক্টর সিণ্ডিকেট নিয়ে। আমরা সবাই খুব ভালো করেই জানি, এই মিঠু কনট্রাক্টরের উদ্ভব বিএনপি-জামায়াত আমলে হলেও তার পরিপূর্ণ বিকাশ বা উত্থান ঘটেছিলো রুহুল হক স্যারের সময়েই এবং সেই থেকে তার উত্থান তো আর ঠেকানো হয়ইনি বরং পরবর্তীতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রায় সকলেরই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদেই মিঠু সিণ্ডিকেট আরও ফুলেফেঁপে আজ এই পর্যন্ত এসে দাঁড়িয়েছে।

রুহুল হক স্যারকে যখন এই ব্যাপারটি নিয়ে প্রশ্ন করা হলো তখন তিনি নিজের দোষ এড়িয়ে, নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ রেখে সমস্ত দায় তার অধীনস্থদের উপর চাপালেন! ডিজি, সচিব, যুগ্ম-সচিব, সিভিল সার্জন এবং হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজের লোকাল প্রশাসনের উপর চাপালেন। দায় চাপাতে তিনি তার পরবর্তীতে দায়িত্বপ্রাপ্তদেরকেও ছাড় দেননি।

অবশ্য তার এই ব্যাখ্যায় অনুষ্ঠানের সঞ্চালক বা অন্যান্য আলোচক কেউই সন্তুষ্ট হতে পেরেছেন বলে মনে হয়নি, বোধকরি দর্শক-শ্রোতারাও পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি। এটাও সত্য যে, এরকম এড়িয়ে যাওয়ার ব্যাপারটি আসলে কারো কাছেই সন্তোষজনক হতে পারে না।

আমি এই সন্তুষ্টি অসন্তুষ্টি নিয়ে কোন কথা বলতে চাই না। এই আলোচনায় রুহুল হক স্যার দু’টি বিশেষ অভিযোগ করেছেন যেটা আমরা কাছে বেশ গুরুতর অভিযোগ বা ভয়ানক মন্তব্য বলে মনে হয়েছে। তাই এই দু’টি অভিযোগ নিয়েই আমি দু’টি কথা বলতে চাই।

প্রথমত: তিনি বলেছেন মিঠু কনট্রাক্টররা মন্ত্রীর চেয়েও শক্তিশালী হয়, তারা মন্ত্রী বানায় বা মন্ত্রী সরায়! আমরা সাধারণ জনগণও মাঝেমাঝে এমন কথা বলে থাকি, কিন্তু আমাদের কথা আর সাবেক একজন মন্ত্রীর কথা তো এক পাল্লায় মাপার সুযোগ নেই। একজন মন্ত্রী মানে একটি প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্রের একটা প্রতিষ্ঠান কেন এরকম মিঠুদের কাছে জিম্মি থাকবে? মিঠুর মতো এরকম সিণ্ডিকেটের কাছে রাষ্ট্রকে বা রাষ্ট্রের কোন প্রতিষ্ঠানকে কেন অবদমিত হতে হয়? মিঠুদের হাত কেন এতো লম্বা হয়? কারা মিঠুদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়? রাষ্ট্র কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে দেয়? রাষ্ট্র কি এই দায় এড়াতে পারে?

রুহুল হক স্যার দ্বিতীয় যে গুরুতর অভিযোগের কথাটি বলেছেন সেটি হলো- তিনি নাকি মিঠু কনট্রাক্টরের সমস্ত ঠিকুজি ডকুমেন্ট রেডি করে প্রধানমন্ত্রীর হাতে দিয়ে গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে তা তদন্ত করিয়ে এর একটা বিহিত করতে বলেছিলেন।

রুহুল হক স্যার মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পরও আমার প্রাণপ্রিয় রাজনৈতিক সংগঠন ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ আজ প্রায় সাতবছর দেশ চালাচ্ছে। রুহুল হক স্যার যদি মিঠুর ব্যাপারে সত্যি সত্যিই প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করে থাকেন তাহলে আমার সরল মনে প্রশ্ন কেন সরকার মিঠুর ব্যাপারে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করলো না? কেন তাকে ডালপালা মেলে আরও মহীরুহ আকার ধারণ করতে দেওয়া হলো? নাকি সরকার তদন্ত করেছিলো কিন্তু মিঠুর বিরুদ্ধে এইসব অভিযোগের সত্যতা পায়নি? নাকি সরকার তদন্ত শুরু করেছিলো কিন্তু শেষ করার আগেই তা থেমে গিয়েছিলো? যেমন করে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার কল্যাণে আমরা আগেও বেশ কয়েকটি ঘটনায় দেখেছি প্রধানমন্ত্রীর কড়া সতর্কতা ও নির্দেশনার পরও মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কি যেন এক অজানা ইশারায় তা আর বাস্তবায়ন হয়না।

নিন্দুকেরা বলে গণভবনেও নাকি এই মিঠুর যাতায়াত ছিলো। শুধু মিঠু কেন, হালের রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান শাহেদেরও নাকি গণভবনে অবাধ যাতায়াত ছিলো। একজন আওয়ামী অন্তপ্রাণ কর্মী হিসেবে এসব অভিযোগ বিশ্বাস করতে আমার খুব কষ্ট হয়।
আমি চাই না এই অভিযোগগুলো সত্য হোক। আমি চাই না আমার বিশ্বাসটা ভেঙে যাক। দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরাও অনেকসময় গণভবনে প্রবেশের পাস পায় না অথচ এই মিঠু আর শাহেদরা নাকি অবলীলায় গণভবনে ঢুকে যায়। কি আজব অবিমৃষ্যকারীতা!

কারা এদেরকে গণভবনে ঢুকতে দেয়? কারা এদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়?

এর আগেও আমরা দেখেছি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে শাপশাপান্ত করা ‘আই হেইট পলিটিক্স’ প্রজন্মের ছেলেরা সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল সংস্থার মাধ্যমে একেবারে প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি চলে যায়। দলের ত্যাগী তরুণ উদ্যোক্তারা কোন অনুদান পায় না অথচ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধিতাকারী প্রতিক্রিয়াশীল মধুখোর স্মার্ট তরুণেরা ঠিকই প্রযুক্তি অনুদান পায়।

কারা এদেরকে গণভবনে ঢুকায়? কারা এদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়? সময় এসেছে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর বের করার!


এখানে শেয়ার বোতাম