শনিবার, নভেম্বর ২৮

কলেজ ছাত্রীর ওড়না নিয়ে গেলেন ছাত্রলীগ নেতা

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় কলেজ পড়ুয়া ছোট বোনকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় ছাত্রলীগ নেতা ইশান ইসলাম আরিফের (২৪) নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে বড় বোনকে আহত করার অভিযোগে মামলা হয়েছে। হামলার সময় ছোট বোনকে টানা হেঁচড়া ও যৌন নিপীড়ন করার অভিযোগও করা হয়েছে।

ওই মামলায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইশান ইসলাম আরিফকে গ্রেফতারের পর বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।

অভিযুক্ত ইশান ইসলাম আরিফ গৌরনদী শহরের পালরদী এলাকার মো. হাবিবুল্লাহর ছেলে। আরিফ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক ও কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য।

হয়রানির শিকার তরুণী বরিশাল নগরীর সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্রী।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, আরিফ ওই কলেজ ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। তিনি বিষয়টি তার অভিভাবকদের জানান। এরপর তারা আরিফকে উত্ত্যক্ত করতে নিষেধ করে শাসিয়ে যান। এতে ছাত্রলীগ নেতা আরিফ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। বুধবার বিকেলে পৌর শহরের মৎস্য খামারের সামনে ওই কলেজ ছাত্রী ও তার বড় বোনকে পেয়ে আরিফ অশ্লীল বাক্য বলতে থাকেন। এতে বড় বোন প্রতিবাদ করলে আরিফ ও তার সহযোগীরা হামলা চালান। এ সময় কলেজ ছাত্রী ছোট বোন এগিয়ে গেলে তাকে টানা হেঁচড়া ও যৌন নির্যাতন করেন। তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে কলেজ ছাত্রীর ওড়না নিয়ে আরিফ ও তার সহযোগীরা চলে যান।

এ ঘটনায় বিকেলেই ওই ছাত্রীর বড় বোন বাদী হয়ে গৌরনদী থানায় মামলা করেন। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে আরিফকে গ্রেফতার করে।

স্থানীয়রা জানান, ছাত্রলীগ নেতা আরিফের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। স্কুল-কলেজগামী মেয়েদের উত্ত্যক্ত, মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। কিছুদিন আগে গৌরনদী গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক ছাত্রীকে তুলে নিয়ে যান আরিফ। পরবর্তীতে রাজনৈতিক নেতাদের চাঁপের মুখে ওই ছাত্রীকে ফেরত দেন আরিফ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গৌরনদী মডেল থানার এসআই আব্দুল হক জানান, মামলা দায়েরের পর তার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে ইশান ইসলাম আরিফকে গ্রেফতার করে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত আরিফকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


এখানে শেয়ার বোতাম