বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২১

কর্তৃপক্ষের হামলায় আহত শাহ মখদুম মেডিক্যাল কলেজের ১৩ শিক্ষার্থী

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 17
    Shares

রাজশাহী প্রতিনিধি:: শাহ মখদুম মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় ১৩ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) বিকাল ৫টার দিকে রাজশাহী নগরীর উপকণ্ঠ খড়খড়ি এলাকার ওই মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে এই ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, তাহসিন, বিদিশা, রায়হান, সাব্বির, সুমন, সুস্মিতা, ফৌজিয়া, মেধা, নিশাত তাসনিম, রিফাত, মিথিলা, ফাইমা ও জেবা। তারা মেডিক্যাল কলেজের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থী নিশাত তাসনিম জানান, শুক্রবার বিকালে মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেলে তারা নিজেদের জিনিসপত্র নিতে যান। এ সময় প্রথমে তাদের হোস্টেলে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কিছুক্ষণ পরে জানানো হয়, হোস্টেলে ঢুকতে দেওয়া হবে। এরপর মেডিক্যাল কলেজ গেট বন্ধ রেখে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে এমডির ভাই মিঠু ও টিটোসহ কয়েকজন। কর্তৃপক্ষের কথায় এমন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।

রামেক হাসপাতালের পুলিশ বক্সের কনস্টেবল মেসকাত জানান, আমি ১৩ জনকে পেয়েছি। তাদের হাসপাতালের ৩১ ও ১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। বেশ কয়েকজনকে তাড়াহুড়ো করে ওয়ার্ডে নেওয়া হয়েছে। বিস্তারিত জানা যায়নি।

নগরীর চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুম মনির বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি।

শাহ মখদুম মেডিক্যাল কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মনিরুজ্জামান স্বাধীন বলেন, ‘আমি মেডিক্যাল কলেজের অফিসে বসে কাজ করছিলাম। বাইরে হৈ-হুল্লোড় শুনে এসে দেখি শিক্ষার্থীরা রাস্তায়। তাদের সঙ্গে কথা বলতে আসে পুলিশ। তখন শিক্ষার্থীরা চলে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘শনিবার (২৮ নভেম্বর) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে টিম আসার কথা রয়েছে। কিছু শিক্ষার্থী পরিবেশ অস্থিতিশীল করছে কেন জানি না।’

জানা গেছে, বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন ও পরিচালনা নীতিমালা-২০১১ (সংশোধিত) প্রতিপালন না করায় ২ নভেম্বর রাজশাহীর শাহ মখদুম মেডিক্যাল কলেজে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ছাত্রছাত্রী ভর্তি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন অন্য বেসরকারি কলেজগুলোতে মাইগ্রেশনের ব্যবস্থা করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

রাজশাহী নগরীর খড়খড়ি এলাকায় অবস্থিত এই মেডিক্যাল কলেজের চেয়ারম্যান রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী।

হামলার দৃশ্য কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সাল থেকে কলেজটিতে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হয়। বর্তমানে সাতটি ব্যাচে প্রায় ২২৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না করায় কলেজটি বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন পায়নি। এতে এমবিবিএস পাস করা চার শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপ করতে না পেরে এক বছর বসে ছিলেন। এ অবস্থায় গত ফেব্রুয়ারি মাসে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। তখন অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কলেজ খোলা রাখা এবং বিকল্প ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

২০১৯ সালের মার্চ মাসে মন্ত্রণালয়ের তদন্তে কলেজ পরিচালনার ক্ষেত্রে শর্তের যে ঘাটতিগুলো পূরণ করতে বলা হয়েছিল, এ বছর ২৯ ফেব্রুয়ারির পরিদর্শনে সেই শর্তগুলোর একটিও বাস্তবায়ন পাওয়া যায়নি। এ কারণে ২ নভেম্বর মন্ত্রণালয় দুটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। একটি চিঠিতে ভর্তি বন্ধ এবং অপরটিতে কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন অন্য বেসরকারি কলেজে মাইগ্রেশনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য চিকিৎসা বিভাগের উপ-সচিব বদরুন নাহার সই করেছেন।

কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামান স্বাধীন বলেন, সম্পূর্ণ নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। যেমন বলা হয়েছে, কলেজের ৬০ হাজার বর্গফুট জায়গার ঘাটতি রয়েছে। বলা হয়নি কতটুকু আছে। আবার বলা হয়েছে গ্রন্থাগারে ২২০ জন শিক্ষার্থীর আসন ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। কতজনের ব্যবস্থা আছে তা বলা হয়নি।

মনিরুজ্জামান স্বাধীন বলেন, বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন তারা। এই আদেশের ফলে অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা অনিশ্চিত হয়ে যাবে। অনেকেই এখানে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। দুই জন শিক্ষার্থীর অভিভাবকও তাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনার জন্য আবেদন করেছেন। তিনি বলেন, তাদের আবেদন বিবেচনা করা না হলে তারা আইনি পথে যাবেন।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 17
    Shares