রবিবার, মে ১৬
শীর্ষ সংবাদ

করোনা সন্দেহে যুবকের লাশ বহনে খাটিয়া দেয়নি কেউ

এখানে শেয়ার বোতাম

বাবা আর ভাইরা কাঁধে করে নিল লাশ

অধিকার ডেস্ক:: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের বখতারপুর গ্রামে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে মারা যাওয়া ইটভাটা শ্রমিকের লাশ বহনের জন্য গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে খাটিয়া না দেওয়ার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তাদের এমন অমানবিক আচরণে বিস্ময়, ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে খাটিয়া ছাড়া ওই শ্রমিকের লাশ কাঁধে করে কবরে নিয়ে যাচ্ছেন তিন ব্যক্তি।

স্থানীয়রা জানান, তারা হলেন মৃতের বাবা ও দুই ভাই। মঙ্গলবার রাত ৯ টার দিকে প্রায় ১০ দিন জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভোগার পর নিজ বাড়িতে মৃত্যু হয় তার। বুধবার সকালে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য মৃতের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। দুপুরে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে। জানা যায়, ওই যুবক নরসিংদীর একটি ইটভাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

সূত্র জানায়, করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ওই যুবকের লাশ বহনের জন্য গ্রামবাসীর কাছে পরিবারের পক্ষ থেকে খাটিয়া চাইলে ‘সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে’ খাটিয়া অস্বীকৃতি জানানো হয়। নিরুপায় হয়ে স্বজনরা খাটিয়া ছাড়াই লাশ কাঁধে করে কবরে নিয়ে দাফন করেন।

এদিকে ছবি ভাইরালের এলাকাজুড়ে সচেতন মহলের মধ্য প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে এর দায় নিয়েও। অনেকে বলছেন গ্রামবাসী খাটিয়া না দিয়ে অমানবিক ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন। অধিকন্তু সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা (পিপিই সুরক্ষা প্রাপ্ত ডাক্তার/স্বাস্থ্য কর্মী) ব্যতিত কেউ লাশ স্পর্শ করারও কথা নয়। তবে প্রশাসনের উপস্থিতিতে কীভাবেই বা এমন হৃদয় বিদারক ঘটনার অবতারণা হলো তা বোধগম্য নয়।

লক্ষীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বলেন, “লাশ বহনের কাজে ব্যবহার করার জন্য আমরা একটি লাশ বহনের বাক্স ও পলিথিন দিয়েছিলাম। মৃতের পরিবার তা ব্যবহার করেনি।

“শুনেছি দুই ভাই ও বাবা কাঁধে নিয়ে কবরে লাশ দাফন করেছে।”

মৃত যুবকের বাবা বলেন, “গ্রামের মেম্বারসহ কয়েকজন মসজিদের খাটিয়া ব্যবহার করতে দেননি। পরে বাধ্য হয়ে অন্য জায়গা থেকে খাটিয়া নিয়ে আসি, সেটিও তারা ব্যবহার করতে দেননি, তারা সেটি নিয়ে যায়।

“পরে আমাদের মরদেহ কাঁধে নিয়ে কবরস্থানে দাফন করতে হয়েছে।”

তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, “আমরা পানি দিলেও স্বাস্থ্য বিভাগ আমার ছেলেকে দাফনের আগে গোসল করায় নি, তারা লাশ বহন করে কবরস্থানেও নিয়ে যায়নি।”

এ অভিযোগের ব্যাপারে লক্ষীপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য শরিফ উল্লাহ বলেন, “মারা যাওয়া যুবকের পরিবারের লোকজন আমাদের সঙ্গে উল্টো খারাপ ব্যবহার করেছে।

“তারা দাবি করেছিল-তাদের ছেলের মৃত্যুকে ‘করোনাভাইরাসের নাম দিয়ে সমাজে হেনস্তা করা হচ্ছে।”

তবে তিনি মসজিদের খাটিয়া ব্যবহার করতে না দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাশেম বলেন, আমরা দাফনের সময় উপস্থিত ছিলাম। তবে গ্রামের লোকজন মসজিদের খাটিয়া লাশ বহনে ব্যবহারের অনুমতি না দেয়ায় ভাই ও বাবা কাঁধে বহন করে লাশ দাফন করেছেন।

সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. শামসুদ্দিনে বলেন, মৃত ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব ছিল কি না তা জানতে আমরা বুধবার নমুনা পাঠিয়েছি। তবে এখনো আমাদের হাতে এসে ফলাফল পৌঁছেনি।


এখানে শেয়ার বোতাম