রবিবার, মে ১৬
শীর্ষ সংবাদ

করোনা ভাইরাস ও পুঁজিবাদী বিশ্ব

এখানে শেয়ার বোতাম

সরোজ কান্তি ::

এক.

সমাজতন্ত্র ও সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তা কী এটি উপলব্ধি করার জন্য মানবসভ্যতার ইতিহাসে অনেক দৃষ্টান্ত ও উদাহরণ থাকলেও বর্তমান বিশ্বে করোনা ভাইরাস (COVID-19) সঙ্কটের চেয়ে দৃশ্যমান উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আমার কাছে নেই। এই অনভিপ্রেত করোনা ভাইরাস সঙ্কট অল্প ক-দিনে সারাবিশ্বকে বুঝিয়ে দিয়েছে (বস্তুত: দিচ্ছে যেহেতু এখনও এই সঙ্কট থেকে মানবসভ্যতা উত্তরণ হতে পারেনি) বিশ্বের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজনীতি কতোটা দুর্বল ও বিচ্ছিন্ন জনগণ হতে। আজকের পুঁজিবাদী রাজনীতি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বিশ্বরাষ্ট্রের সরকারগুলো যখন তথাকথিত উন্নয়নে ব্যস্ত তখন ক্ষুদ্র করোনা ভাইরাস আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো এইসব অবকাঠামোগত অমানবিক উন্নয়ন কতোটা ঠুনকো ও অপ্রয়োজনীয় জনগণের মৌলিক চাহিদার কাছে।

দুই.

বিশ্ব মোড়লরা অস্ত্রের ঝনঝন শব্দকে বীরত্বের সঙ্গীত মনে করে যখন সারাবিশ্বে যুদ্ধের আগুন জ্বালাতে ব্যস্ত তখন হঠাৎ করে করোনা ভাইরাস যুদ্ধের জ্বলন্ত আগুন নিভিয়ে সারাবিশ্বকে একত্র করেছে সঙ্কট উত্তরণের এক সমবেত প্রার্থনায়। এই প্রার্থনাটা আবার কোনও ধর্মের ছায়াতলে এসে ধর্মের নিয়মকানুন মেনে অদৃশ্য কল্পিত ঈশ্বরের প্রতি মুক্তি লাভের আকুতি নয় বরং বিজ্ঞানের নিয়ম মেনে যারা ভাইরাস নির্মূলে কাজ করে যাচ্ছেন তাদের পেছনে দাঁড়িয়ে অনেকটা কাচুমাচু হয়ে ভুল করা শিশুর মতো ধার্মিক ও বিশ্বাসীদের দাঁড়িয়ে থাকা এই বিশ্বাসে যে কোনও ধর্ম কিংবা ধর্মগ্রন্থের বদৌলতে নয় সমাধান হলে কেবল এই বিজ্ঞানীদের দ্বারাই হবে। তখন, সর্বমহল-ই উপলব্ধি করতে পারছেন মন্দির-মসজিদ নয় আরও বেশি হাসলাতাল, আরও বেশি গবেষণাগার, আরও বেশি শিক্ষাব্যয় কতোটা দরকার ছিল আমাদের। করোনার প্রকোপ দেখে সারা বিশ্ব যখন বুঝতে পারলো সস্তা আবেগ ও অলৌকিক বিশ্বাস মানুষকে বাঁচাতে পারবে না তখন মুখে না-বললেও ধর্মকে নিয়ে ব্যবসা করা ও ধর্মের নামে মানুষে মানুষে বিভাজন সৃষ্টি করা শ্রেণিও আজ বুঝতে পেরেছেন যে বিজ্ঞান-ই মুক্তি — বিজ্ঞান-ই উপাস্য।

তিন.

বিশ্বরাজনীতির একটি ক্ষুদ্র অংশ হিসেবে আমরা যখন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের দিকে তাকাই তখন স্পষ্ট দেখতে পাই তা-ই যা আমরা প্রতিনিয়ত দেখি। শ্রমিকশোষণ, দুর্নীতি, লুটপাট ও জনগণ বিচ্ছিন্ন সরকারের যে সমস্ত আচরণ সর্বদা দেখা যায় দুর্যোগ-মহামারিতেও এর ব্যতিক্রম কিছু দেখা যায়নি। করোনা ভাইরাস হুট করেই বাংলাদেশে চলে আসেনি। বাংলাদেশে আসার পূর্বেও ১৭২ টি দেশকে উক্ত ভাইরাসটি আক্রমণ করেছে। কাজেই বাংলাদেশ যে এই ভাইরাস মোকাবিলায় যথেষ্ট সময় পায়নি এমন নয় বরং সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার কোনও সদিচ্ছা পরিলক্ষিত হয়নি। এর পেছনেও অনেকগুলো কারণ বিদ্যমান। নেতৃত্বের বিকেন্দ্রীকরণের অভাব ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী অন্যতম। জন্মশতবার্ষিকী পালন করা যেতেই পারে এটা খারাপ কিছু নয় বরং আওয়ামিলীগ সরকার যে ঘটা করে আওয়ামীলীগের অবিস্মরণীয় নেতার জন্মদিন পালন করবে এটা সর্বমহলেই অনুমিত। কিন্তু দেশে যখন ভাইরাস আঘাত হানলো ও ভাইরাস আক্রান্ত দেশ থেকে মানুষজন স্বদেশে প্রবেশ করছিলেন তখন সরকার ও সরকারের সামগ্রিক ব্যবস্থাকেই চরম উদাসীন মনে হয়েছিল। কারণ, সরকারের এই সংক্রান্ত কোনও পরিকল্পনা ছিল না। থাকার কথাও নয়। কিন্তু ঘরে যখন আগুন লেগেই গেলো তখন সরকারের উচিত ছিল শত্রু-মিত্র সকলের পুকুর থেকেই পানি উত্তোলন করে সকলকে নিয়েই আগুন নিভানোর প্রচেষ্টা চালানো। সরকার তা করেনি — অবশ্য করতেই হবে এমন কোনও কথাও নেই। সরকার যদি একাই নিজে বেঁচে সবাইকে বাঁচাতে পারে এতে দোষের কিছু নেই বরং আমি বীরত্বই দেখি এবং প্রদর্শিত এই বীরত্বকে আমি শ্রদ্ধা জানাই। কিন্তু এখানে প্রশ্ন হলো: নিজে বেঁচে সরকার সবাইকে বাঁচাতে পারছেন কি? আমি মনে করি — না। সরকার সবাইকে বাঁচাতে পারছেন না। সরকারের ইশতেহারে সবাইকে বাঁচানোর কথা থাকলেও কার্যত: সরকার নিজেকে ও সরকারি সুবিধা ও মদদপুষ্ট শ্রেণিকেই বাঁচাতে তৎপর। তা-না হলে সরকার কেবল শুকনো মুখে ‘ঘরে থাকুন — ঘরে থাকুন’ বলেই ক্ষান্ত হতেন না। ঘরে থাকলেও যে মানুষকে খেতে হয় ও স্ত্রী সন্তানদের খাওয়াতে হয় এই বিষয়টা আমলে নিয়ে সরকার একটা ব্যবস্থা করতেন। ব্যবস্থা না-করার ফলে ঘরে থাকার বদল শ্রমিকদের আজ ঘরের বাইরে আসতে হচ্ছে কাজের জন্য। কারণ সহজ, ঘরে খাবার নেই — কাজ করলে খাবার মিলবে। শ্রমিকদের ভাষায়: “ঘরে থাকলে না-খেয়ে মরবো; বাইরে এলে অসুখে মরবো। মরা ছাড়া আমাদের কোনও গতি নেই। কিন্তু গতি থাকার কি কোনও কথা ছিল না? ছিল তো। সংবিধান মতে বাংলাদেশ রাষ্ট্র পরিচালনার চার মূলনীতির একটি হলো: সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি। কিন্তু দুঃখের বিষয় যেনতেনভাবে সরকার থাকলেও সরকারের দর্পনে রাষ্ট্রের জনগণের জন্য সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তির কোনও প্রতিফলন নেই। যার দরুন আমরা দেখতে পাই মানুষ পেটের দায়ে কাজের জন্য যখন বাইরে বেরুচ্ছেন তখন পুলিশ তাদের পিটাচ্ছে — প্রশাসনের কর্তারা বৃদ্ধদের কানেধরে উঠবস করাচ্ছেন। অবশ্য এই কানেধরে উঠবস করানোর সংস্কৃতি অনেক পুরাতন — এ দেশের রাজনীতি ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।

চার.

করোনা ভাইরাস সঙ্কট মোকাবিলায় অনেকেই চায়না, কিউবা, কেরালার সরকারের উচ্চ প্রশংসা করছেন। সত্যি বলতে তারা প্রশংসার কাজ-ই করেছেন। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো: উল্লিখিত এই দেশসমূহের সরকার ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা কী? একটু পড়াশোনা করলে জেনে থাকবেন এই দেশসমূহের সরকার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হলো সমাজতান্ত্রিক। এই সমাজতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থার ফলেই সরকার জরুরি অবস্থায় মূহুর্তের মধ্যে বলে দিতে পেরেছেন: “আপনারা ঘরে থাকুন। খাদ্য ও প্রয়োজনীয় জিনিসের চিন্তা করবেন না। আমরা আপনাদের ঘরে ঘরে খাদ্য পৌঁছে দিবো।” সেই সঙ্গে সরকার জনগণের বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, পানির বিল পরিশোধ করার সময় এক মাস বাড়িয়ে দিয়েছেন। বাড়িওয়ালাদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন ভাড়া মওকুফ করার। সরকার না-বললেও এই রাষ্ট্রসমূহের জনগণ জানেন যে সরকার তাদের পক্ষের শক্তি — সরকারের ভাবনায় সর্বাগ্রে জনগণ। সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন না-হওয়ার বদলে যখন সরকার ও জনগণের অবস্থান পাশাপাশি হয় তখন সরকার জনগণকে বাইরে রেখে বৃত্ত আঁকতে পারেন না বরং জনগণকে কেন্দ্র করেই সরকার তার শক্তি সামর্থ্য নিয়ে বৃত্ত পরিক্রমা করে সফল কিংবা ব্যর্থ হন। বাংলাদেশের বেলায় এই বিষটা ঠিক উল্টো। এখানে যে সরকার-ই ক্ষমতায় আসেন তারাই বৃত্তের কেন্দ্রে বসে পড়েন। তারপর পুলিশ, প্রশাসন, আমলা, ও নেতৃত্বের ক্রমাগত মিথ্যাভাষণের মধ্যদিয়ে জনগণকে বৃত্তের বাইরে ঠেলে দেন। বৃত্তের ভেতরে অবস্থান করে এক দুর্নীতিবাজ আমলাতন্ত্র ও সরকারি সুবিধা ও মদদপুষ্ট এক পরজীবি ও দালাল সম্প্রদায়। যার ফলে ক্ষমতা ও সুবিধার কেন্দ্রে অবস্থান করে সরকার বৃত্তের বাইরে দৃষ্টিপাত করতে পারেন না (মনোবিজ্ঞান মতে সরকার মোহ ও অহং-র ফলে বৃত্তের বাইরে দৃষ্টিপাত করতে চান না)। যার ফলে ভারসাম্যহীন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যে পরিস্থিতিতে দেখা যায় সরকারি দলের কিংকর্তব্যবিমুঢ়তার কিংকর্তব্যবিমুঢ় মুখচ্ছবি। যে ছবি এখন আমরা দেখছি। পূর্ব পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি না-থাকার ফলে সরকার এক ভুজুংভাজুং কর্মকাণ্ডের মধ্যদিয়ে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমসিম খাচ্ছেন না বললেও স্পষ্টত: বুঝা যাচ্ছে হিমসিম খাওয়ার টলমলে ভাব। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ব্যর্থ হোক এটা কোনওভাবেই কাম্য নয় ও শত্রুরও কামনা করা উচিত নয়। কিন্তু বাস্তবে অসততা ও দুর্নীতির আশ্রয় না-নিয়ে সংবিধানের সমাজতন্ত্র উপেক্ষিত রাষ্ট্রের সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে কি?

পাঁচ.

দেশের সবকিছু যখন বন্ধ ঘোষণা করা হয়ে গিয়েছে তখন গার্মেন্টস শ্রমিকরা কাজ করে যাচ্ছেন। সত্যি বলতে কাজ ছাড়া তাদের গতিও নেই। আবার অন্যদিকে তৈরি পোশাকের অনেক অর্ডার থাকার ফলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের চাহিদা নষ্ট না হওয়ার জন্য প্রণোদনা দিয়ে শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। এখানে উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো: এই যে দেশের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য ঝুঁকির মধ্যে শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে তা দেশের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি গার্মেন্টস মালিকদের স্বার্থ রক্ষা করবে ঠিক-ই কিন্তু শ্রমিকদের স্বার্থ কতোটুকূ রক্ষিত হবে? যখন ঈদ-পূজায় শ্রমিকদের পাওনা মজুরি-বেতন না দিয়েই তাদেরকে ছুটি দেওয়া হয়। এখনও দেখা যাচ্ছে, দেশে পিপিই-র এতোই সঙ্কট যে খোদ ঢাকাতেই পিপিই ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে চিকিৎসক ও চিকিৎসা সেবা প্রদানকারীরা চিকিৎসা দিতে পারছেন না সেখানে আমলাদেরকে পিপিই পরিয়ে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। পিপিই নেই পুলিশের, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনগণের সঙ্গে সরাসরি কাজ করা কর্মীদের। বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে পিপিই ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে ডাক্তাররা চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন না। সরকার কি এই প্রশ্ন করতে পারবেন যে কেন আপনাদের পিপিই ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকবে না, আপনারা তো জনগণের পকেট কাটতে কম কাটেন নি? কিন্তু সরকার এটা করতে পারবেন না কারণ সরকার ব্যবসায়ী শ্রেণির পক্ষের লোক। ব্যবসায়ীদের টিকিয়ে রেখে সরকার টিকে আছেন।

ছয়.

আজকের করোনা ভাইরাস সঙ্কটে সরকারের কাছে জনগণের চাওয়া কী? খাদ্য ও নিরাপত্তা। সরকার যখন ঘরের বাইরে যেতে নিষেধ করেছেন তখন সেই নিষেধাজ্ঞা পালনে কোনই বাঁধা ছিল না যদি সরকার জনগণকে খাবার, বাড়িভাড়া, গ্যাস বিল, বিদ্যুৎ বিলসহ জীবন ধারনের জন্য যা কিছু উপযোগী তা নিশ্চিত করতে পারতেন। কিন্তু এই নিশ্চয়তা প্রদানে সরকারের যথেষ্ট উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। সরকার উদ্যোগ নিতে বাধ্য থাকতেন যদি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জনগণ সাংস্কৃতিকভাবে বিকশিত হয়ে স্বেচ্ছায় স্বশিক্ষিত হয়ে ‘I Hate Politics’ না-বলে রাজনীতি সচেতন হতেন ও রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতেন। তখন, খুব সহজেই বুঝতে পারতেন যে দেশের মানুষকে ৬ মাস খাওয়ানো খুব কঠিন কিছু নয় যখন প্রতি বছর লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যায়। সমাজতন্ত্র জনগণকে কেবল খাবার, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ইত্যাদির নিশ্চয়তাই দেয় না, সেই সঙ্গে দেশের মানুষকে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে বিকশিত হওয়ার শিক্ষাও দেয়। যে শিক্ষা পেলে মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা বাড়ে। মানুষ অবস্থান করে মানুষের হৃদয়য়ের খুব নিকটে। যা আমাদের দেশে আমরা এই সঙ্কটকালে দেখতে পাচ্ছি না। সরকার তো বহু কোম্পানি, বহু ব্যক্তিকেই সরকারি সুযোগ-সুবিধা দিয়েছিলেন। মওকুফ করেছিলেন ভ্যাট, আয়কর, জরিমানা ইত্যাদি। মানুষের এই কান্নার সময়ে কোথায় সেই জনগণের টাকায় সরকারি সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান? সরকারের কি কোনই দায় নেই সেইসমস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে বাধ্য করার নাকি সরকার তার পরবর্তী নির্বাচনের জন্যে তাদেরকে হাতে রেখেছেন?

সাত.

সারা বিশ্ব আজ এক মৃত্যুর মিছিলের অনুগামী। আজ নেই ট্রাম্প ও কিম-র ক্ষমতা, গোলাবারুদ, পারমানবিক বোমার ডিসপ্লে করা দোকানের প্রদর্শন। কেন? তারা কি বুঝতে পারছেন এর সমস্ত কিছু মেকি? গাছে গাছে বাসন্তী রাঙা ফুল, সমুদ্র সৈকতে কচ্ছপের রোদ পোহানো, সমুদের তীরের পাশে ডলপিনের আনন্দ নৃত্য, হঠাৎ করে কমে যাওয়া পরিবেশ দূষণ ইত্যাদি রকমের সুন্দর ও মনোরম দৃশ্য দেখে কি বিশ্ব বুঝতে পারছে পৃথিবীর ক্ষতিসাধনে মানুষ কতোটা দায়ী? মেকি ও বাণিজ্যিক প্রেম-ভালোবাসার দিনে বিশ্ব কি বুঝতে পারছে আমরা কতোটা কাছাকাছি একে অপরের, আমরা কতোটা কাছাকাছি সঙ্গীত, কবিতা, সাহিত্য, নৃত্য, ফুল, প্রকৃতির? প্রকৃতির এই বৈচিত্র‍্যের কাছে কতোটা ঠুনকো আমরা — আমাদের কোনও অধিকার-ই নেই আমাদের স্বার্থে প্রকৃতি ও প্রকৃতির অন্যান্য সৃষ্টিকে ধ্বংস করার। কেবল পুঁজিবাদ ও পুঁজিবাদের ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য, পুঁজিপতি ও পুঁজিপতিদের সরকার কি বুঝতে পারছেন আরও ঘাম ঝরানো সেনাবাহিনী, আরও শক্ত কাঁটাতারের বেড়া, আরও শক্তিশালী পারমানবিক বোমা বানানোর বৃথা প্রচেষ্টা কতোটা হাস্যকর যখন সারাবিশ্ব প্রাকৃতিকভাবেই সমাজতান্ত্রিক হয়ে বসে আছে। যেখানে পৃথিবী সবার। মানুষ, ফুল, পাখি, হরিণ, কালো-সাদা, সাঁওতাল, রোহিঙ্গা, ফিলিস্তিন, সর্বহারা, অসহায়, প্রতিবন্ধী — সকলের। করোনার নামে আজ সারাবিশ্বে একসঙ্গে ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের হৃদয়ের কাছাকাছি অবস্থান করার এক করুণ সুর যে সুরের ঐকতানে মানুষকে মনে করিয়ে দেয় ঘৃণা নয় — আরও প্রেম, আরোও ভালোবাসা প্রয়োজন একটি মানবিক সমাজতান্ত্রিক পৃথিবী গড়ে গোটা প্রকৃতিকে নিয়ে বেঁচে থাকার।

(লেখাটি লেখকের অনেকগুলো লেখার সমন্বিত রুপ।)

লেখক: সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সিলেট জেলা।


এখানে শেয়ার বোতাম