রবিবার, জানুয়ারি ১৭

করোনা উপসর্গ নিয়ে ৪ জেলায় ১১ জনের মৃত্যু

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: নরসিংদী, বগুড়া, চাঁদপুর ও খুলনা জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা উপসর্গ নিয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নরসিংদীর তিন জন, বগুড়ার একজন, চাঁদপুরের চার জন এবং খুলনার তিন জন রয়েছেন। স্থানীয় চিকিৎসক, সিভিল সার্জন ও জনপ্রতিনিধি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

নরসিংদী:

নরসিংদী সদর উপজেলায় করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে দুই নারীসহ তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) বিকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুইক রেসপন্স টিমের আহ্বায়ক মো. শাহ আলম মিয়া।

তারা হলেন—নরসিংদী পৌর শহরের পশ্চিম কান্দা পাড়ার কাজল রানী সাহা (৫৭), গাবতলী এলাকার নাজমুল কবীর (৫৫) এবং মাধবদীর আজিজুন বেগম (৫৫)।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে তাদের দাফন বা সৎকারের ব্যবস্থা করেছে সদর উপজেলার কুইক রেসপন্স টিম।

সদর উপজেলার কুইক রেসপন্স টিম সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ মে থেকে জ্বর, ঠাণ্ডা, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন শহরের পশ্চিম কান্দা পাড়ার কাজল রানী সাহা। গত ২ জুন তারিখে তার নমুনা সংগ্রহ করে সিভিল সার্জনের কার্যালয়। অবস্থার অবনতি হলে গত ৫ জুন তাকে রাজধানীর উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রবিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এছাড়া ৬-৭ দিন ধরে একই উপসর্গে ভুগছিলেন মাধবদী পৌর এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আ. মান্নানের স্ত্রী চার সন্তানের জননী আজিজুন বেগম। সোমবার দুপুর ১টার দিকে তিনি মারা যান।

অন্যদিকে, নরসিংদী শহরতলীর গাবতলী এলাকার নাজমুল কবীর নামে এক ব্যবসায়ীর কিছুদিন ধরে করোনা উপসর্গ দেখা দেওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দুপুর ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এ নিয়ে নরসিংদীতে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১৯ জন। তাদের মধ্যে পাঁচ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ আসে। অন্যদের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল এখনও পাওয়া যায়নি। করোনা আক্রান্ত হয়ে এ জেলায় এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১১ জন।

বগুড়া:

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে রবিবার (৭ জুন) রাতে করোনা উপসর্গ নিয়ে রফিকুল ইসলাম (৮০) নামে এক ব্যবসায়ী মারা গেছেন। তার নমুনা সংগ্রহ করে ওই হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

শজিমেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, বগুড়ার ধুনটের ভান্ডারবাড়ি গ্রামের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম শহরের রহমান নগরে তার ছেলের বাড়িতে থাকতেন। তিনি শ্বাসকষ্ট নিয়ে ৫ জুন ভর্তি হন। ৭ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি মারা যান।

বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন ও অন্যরা জানান, সোমবার পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বগুড়ায় হাসপাতাল ও বাড়িতে সাবেক সংসদ সদস্যসহ দুই নারী, দুই মুক্তিযোদ্ধা, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, কলেজ শিক্ষকসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১৪ জন। এছাড়া ঢাকায় চিকিৎসা নিতে গিয়ে সাংবাদিক, চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ, পুলিশ, আনসার অ্যাডজুট্যান্ট, নেভির গাড়ি চালক মিলে ছয় জন মারা গেছেন। সর্বশেষ রবিবার রাতে বগুড়ায় ১৬১ জন করোনা আক্রান্ত হন। এ নিয়ে জেলায় ৭৯০ জন করোনা পজিটিভ হলেন।

চাঁদপুর:

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্টে আরও চার জন মারা গেছেন। রবিবার (৭ জুন) রাতে ও সোমবার (৮ জুন) সকালে তারা করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাদের মৃতদেহ উপজেলা দাফন কমিটি স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফন করেছে।

৪ নম্বর কালাচাঁদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. গোলাম মোস্তফা জানান, চাঁদপুর গ্রামের কাজী বাড়ির মো. শাহজাহান (৬৫) জ্বর, সর্দি, কাশি নিয়ে রবিবার চাঁদপুর সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি হন। রাত সাড়ে ১২টায় তিনি সেখানে মারা যান।

১১ নম্বর পশ্চিম হাটিলা ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন লিটু জানান, কাঁঠালি গ্রামের সোলায়মান পাটওয়ারী (৬৫) রবিবার রাতে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা হন। সোমবার সকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তার মৃতদেহ দাফন করা হয়েছে।

১০ নম্বর গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন বাচ্চু জানান, ডাটরা শিবপুর সর্দার বাড়ির মাওলানা এনায়েত উল্লাহ (৬০) মাস্টার জ্বর ও কাশি নিয়ে মরা যান। সোমবার সকালে মারা তার মৃতদেহ দাফন করা হয়েছে।

হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আজাদ হোসেন মজুমদার জানান, সোমবার সকাল ৭টায় পৌরসভার এনায়েতপুর গ্রামে খাঁন মো. বেপারী বাড়িতে মৃত চান মিয়া খানের ছেলে ইসমাইল (৫৫) জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে মারা যান। মৃত্যুর পর তার নমুনা সংগ্রহ করেছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ। পরে বাদ জোহর স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাকে দাফন করা হয়েছে।

হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা সোয়েব আহম্মদ চিশতি বলেন, ‘হাজীগঞ্জে তিন জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। এর মধ্যে হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার মৃত একজনের নমুনা সংগ্রহ করতে পেরেছি। বাকি দু’জন মারা যান রাতে কিন্তু আমরা খবর পাই সোমবার সকালে। খবর পেতে অনেক দেরি হওয়ায় তাদের দু’জনের নমুনা সংগ্রহ করা যায়নি। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের সবইকে দাফন করা হয়েছে।

এছাড়া আরেকজন চাঁদপুর সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে মৃত্যুবরণ করেছেন। তার নমুন সংগ্রহ করা হয়েছে। চাঁদপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল জানান, হাজীগঞ্জের মো. শাহজাহান নামে এক ব্যক্তি রাত ৯টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে রাত সাড়ে ৯টায় তিনি আইসোলেশনে মারা যান।

খুলনা:

খুলনায় করোনা উপসর্গ নিয়ে শিশু ও বৃদ্ধসহ আরও তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে রবিবার (৭ জুন) রাতে দু’জন এবং সোমবার (৮ জুন) ভোরে একজন মারা যান। এ নিয়ে খুলনায় গত ৮১ দিনে করোনা উপসর্গ নিয়ে ৩৫ জনের মৃত্যু হলো। তবে উপসর্গ নিয়ে মারা গেলেও এদের মধ্যে একজনের নমুনা পরীক্ষায় পর করোনা পজিটিভ আসে।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের আইসোলিসন ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন ডা. মিজানুর রহমান জানান, এখানে চিকিৎসাধীন থাকা দুই জন গত রাতে এবং একজন আজ ভোরে মারা গেছেন। তাদের দুই জন মহানগরীর এবং একজন পাটকেলঘাটার। দু’জনেরই করোনা উপসর্গ ছিল। তাই নিশ্চিত হতে সকালে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

তিনি জানান, জ্বর-শাসকষ্টে আক্রান্ত খুলনা মহানগরীর কুলিবাগান এলাকার রাজিব হোসেনের মেয়ে মিমকে (১২) গত ৬ জুন রাত ১১টা ৮মিনিটে খুমেক হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ জুন রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে মারা যায় সে।

এদিকে, সাতক্ষীরার দশ খড়িয়াডাঙ্গার শুশান্ত মণ্ডলের ছেলে রিপনকে ৭ জুন রাত ১১টা ৫ মিনিটে জ্বর-কাশি নিয়ে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসকরা তাকে সরাসরি আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। ওই দিন রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে মারা যান তিনি।

অপরদিকে, খুলনা মহানগরীর রায়ের মহলের মজিদ হাওলাদারের ছেলে দেলোয়ার হোসেনকে (৬৫) ৭ জুন রাত ১১টা ২০ মিনিটে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তার শ্বাসকষ্ট, কাশি, হালকা জ্বর ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ জুন ভোর ৫টা ৩৫ মিনিটে তিনি মারা যান।

উল্লেখ্য, খুলনায় গত ১৯ মার্চ প্রথম করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান রূপসা উপজেলার নুরুজ্জামান ওরফে নূর আলম। পরে তার নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। এরপর আরও তিন জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। খুলনায় এ পর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন চার জন। জেলায় এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২০১ জন। ৪০ জন সুস্থ হয়েছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৪৭ জন।


এখানে শেয়ার বোতাম