মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৯

করোনায় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে শিক্ষার্থীদের গণভোটের আয়োজন

এখানে শেয়ার বোতাম

নিজস্ব প্রতিবেদক:: প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস ইউনিটির সংগঠক অরূপ দাস শ্যাম ও নিশাত সানি এক যুক্ত বিবৃতিতে জানান, “ইউজিসি সর্বশেষ সার্কুলারের মাধ্যমে বাস্তবে অনলাইন ক্লাস-পরীক্ষা চালু এবং সেমিস্টার ও টিউশন ফি আদায়ের বৈধতা দিলে, যা সিংহভাগ শিক্ষার্থীর জন্য প্রচণ্ড বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্বল নেটওয়ার্ক, মোবাইল ডাটার লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি ও সার্বিক লকডাউন পরিস্থিতির কারণে অনলাইন ক্লাস-পরীক্ষা একটা অবাস্তব ব্যাপার। অনলাইনে ক্লাস ও পরীক্ষা হলে ন্যূনতম মেধার মূল্যায়নও হবে না। আবার প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা ঝুলে থাকবে। ফলে আমরা মনে করি, গোটা বিষয়টিতে শিক্ষার্থীদের কোনো স্বার্থ নেই, বরং আছে শিক্ষা ব্যবসার সুচতুর কৌশল। আমরা গোড়া থেকেই লক্ষ করছি, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো সংকট দেখা দিলে ইউজিসি মালিকদের পক্ষ গ্রহণ করে। বরাবরের মতো তারা এবারও একই কাজ করল।”

বিবৃতিতে তাঁরা আরও বলেন, “সারাদেশ যখন করোনা মহামারীতে আক্রান্ত, এক অসহায় জীবনযাপন করছে নিম্নমধ্যবিত্ত-মধ্যবিত্তসহ সারাদেশের মানুষ, যখন আর্থিক অসঙ্গতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, জীবনধারণ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে, ঠিক সেই সময়ে ইউনিভার্সিটির মালিকদের স্বার্থে গলা মিলিয়ে ইউজিসির এধরনের বিজ্ঞপ্তি শিক্ষার্থীদের উপর বাড়তি মানসিক ও আর্থিক চাপ তৈরি করেছে। আমরা জানি, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিম্নমধ্যবিত্ত-মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এক বড় অংশের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে আসে।

তাঁরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যখন অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেয়, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ করে আসছিল। তারা করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার দাবি করছিল। জোরপূর্বক অনলাইনে ক্লাস নেওয়া হলেও বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই নানা কারণে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। এরকম পরিস্থিতিতে ইউজিসির এমন বিজ্ঞপ্তি আমাদের হতাশ করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা করোনাকালীন সময়ে অনলাইন ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখার দাবি জানাচ্ছি। আমরা এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের মতামত যাচাইয়ের জন্যে ১৬ মে থেকে ৫ জুন পর্যন্ত গণভোটের আয়োজন করেছি।”


এখানে শেয়ার বোতাম