শনিবার, জানুয়ারি ২৩

করোনায় বিদ্যুৎ বিল: অন্যান্য দেশে মওকুফ, বাংলাদেশে উল্টো

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা ও হাওড়ায় বিদ্যুৎ বিতরণ করে সিইএসসি লিমিটেড। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মতো সেখানেও বিদ্যুৎ বিলে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। সেখানে যখন এ নিয়ে উত্তাপ ছড়িয়েছে, তখন মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত বিলের মধ্যে গ্রাহকদের শুধু জুনের ২৫০ ইউনিটের বিল দিতে বলা হয়েছে। অন্য বিল নেওয়ার সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত আছে। সম্প্রতি এ খবর ছেপেছে কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা। সিইসির ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, গত ২০ জুলাই একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গ্রাহকরা চাইলে বিল কিস্তিতেও দিতে পারেন। সে হিসেবে প্রথম মাসে মোট বিলের ৫০ ভাগ আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় মাসে ২৫ ভাগ করে দিলেই চলবে। আরও একটু দূরে গেলে দেখা যায়, মালয়েশিয়া করোনাকালে তাদের সব গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল মওকুফ করে দিয়েছে।

কিন্তু এর ঠিক বিপরীত চিত্র বাংলাদেশে। গ্রাহকরা ভোগান্তির শিকার হলো। মানুষের দুই-তিনগুণ বিল এলো। কিন্তু এই মহামারির মধ্যে যারা ইচ্ছাকৃত এসব করলো তাদের কিছুই হলো না। আর হওয়ার কোনও আশাও দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।

জানতে চাইলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বলেন, ‘সব সময় সব দুর্নীতির ক্ষেত্রে ভোগান্তির শিকার হয় সাধারণ মানুষ। যারা দোষ করে তাদের কিছুই হয়। নিচের দিকের কিছু কর্মকর্তাকে শোকজ করা ছাড়া আর কিছুই করা হয়নি। অথচ নিচের কর্মকর্তারা তো ওপরের নির্দেশ ছাড়া একা একা এসব করতে পারে না। ফলে আসল দোষ যাদের তাদের কিছুই হলো না। মানুষের মুখ বন্ধ করার জন্য করা হয়েছে কতগুলো তদন্ত কমিটি।’

প্রসঙ্গত, মার্চ থেকেই বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের ভোগান্তি শুরু হয়। অস্বাভাবিক বিল নিয়ে অফিসে অফিসে দৌড়াতে হয়। পরের দুই মাস এপ্রিল ও মে মাসেও ধরিয়ে দেওয়া হয় ভুতুড়ে বিল। শত শত মানুষের ভিড় ঠেলে বিদ্যুৎ বিল ঠিক করে আনতে হয়েছে।

করোনার বিস্তার রোধে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গ্রাহকদের জুন পর্যন্ত বিলের বিলম্ব মাশুল মওকুফ করে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় গ্রাহকরা বিদ্যুৎ বিল দিতে গিয়ে ব্যাংকে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে করোনার ঝুঁকিতে পড়বেন। এজন্য আপাতত বিল দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু সরকারের এই উদ্যোগকে পাত্তাই দেয়নি বিতরণ কোম্পানি। নিজেদের ইচ্ছামতো যাচ্ছেতাই বিদ্যুতের বিল করেছে। এসব নিয়ে তদন্তও হয়েছে। সেই তদন্তে বের হয়ে এসেছে কোম্পানির ওপরের দিকের কারও কারও নির্দেশে বাড়তি বিল করা হয়েছে। আর কেউ কেউ নিজে থেকেই এসব আদেশ দেননি। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই আদেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এরপরও তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় সমালোচনা এখনও থামছে না।

বিদ্যুৎ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখনও তদন্ত চলছেই। তবে আগামী রবিবার (২৩ আগস্ট) নাগাদ একটি প্রতিবেদন দেওয়া হতে পারে। যদিও আগে যেসব তদন্ত করা হয়েছে তার ভিত্তিতে শাস্তির খড়গ নেমে এসেছে শুধু নিচের দিককার মানুষের ওপর। যারা সরাসরি বিল করেছে তাদের মধ্যে কয়েকজনকে সাময়িক বরখাস্ত, কারণ দর্শানোর নোটিশ আর কিছু চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। নির্দেশদাতারা রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। এমনকি ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিতে (ডিপিডিসি) অতিরিক্ত বিল করার নির্দেশতাদাকে দিয়েই আবার তদন্ত করানো হয়েছে।

কেন, কার অপরাধে এমনটি ঘটলো জানতে চাইলে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেইন বলেন, ‘আমরা আসলে তদন্ত করছি ডিপিডিসির ওপরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এসেছে সেটা নিয়ে। নিচের স্তরের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, তারা ওপরের নির্দেশে এই বাড়তি বিল করেছেন। আসলেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল কিনা, আর যদি দিয়েই থাকে তাহলে নিচের স্তরের কর্মকর্তারা সেই নির্দেশ অনুযায়ী, নাকি তার চেয়ে বেশি বিল করেছে সেটিই দেখা হচ্ছে। আগামী রবিবারের মধ্যে তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে। ১৭ আগস্ট পর্যন্ত আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। এখন প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে।’

বিল নিয়ে সব গ্রাহকদের অভিযোগের কী হলো জানতে চাইলে ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান বলেন, ‘আমরা আমাদের বিল নিয়ে গ্রাহকদের যে সমস্যা ছিল তা সমাধান করে দিয়েছি। এখন আর কোনও সমস্যা নাই। এখন আমরা মিটার দেখেই বিল করছি। ফলে ভুল হওয়ার আর কোনও সুযোগ নাই।’


এখানে শেয়ার বোতাম