শনিবার, মে ৮
শীর্ষ সংবাদ

করোনার মধ্যেই দরবেশের হাটে ভয়াবহ আগুন, কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: করোনাভাইরাসের কারণে শুধু শহরাঞ্চল নয়, লকডাউন প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলও। গ্রামের সাধারণ মানুষও ঘরে অবস্থান করছেন। ফলে, বন্ধ রয়েছে গ্রামীণ হাট-বাজারও। কিন্তু, এরই মধ্যে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেলো ফেনী জেলার, দাগনভূঁইয়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের একটি বাজারের ২০ থেকে ২২টি দোকান।

করোনার কারণে বন্ধ থাকায় মানুষের উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে, যে কারণে আগুণের ব্যাপ্তি ছিল বেশি। খুব সহজেই ছড়িয়ে পড়ে এবং পাঁচটি মার্কেট সম্পূর্ণ ভস্মিভূত করে দেয়।

দাগনভূঁইয়া উপজেলার ১ নং সিন্দুরপুর ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় বাজার হচ্ছে দরবেশের হাট। এই হাটেরই উত্তর বাজার নামক এলাকায় তিনটি মার্কেটে একসঙ্গে আগুন লাগে। রহমানিয়া, রুহামা, মোহনের মার্কেটসহ ৫টি মার্কেটে মোট ২২টি দোকান আগুনে পুড়ে যায় বলে সূত্র জানায়।

স্থানীয় সাংবাদিক কাজী হাবিবুল্লাহ সুমন জানান, ‘বিকাল ৩টার দিকে আগুনের সূত্রপাত। তবে কিভাবে আগুন লেগেছে, কারণ জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে থাকতে পারে। দোকান-পাট বন্ধ থাকার কারণে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্তত ২২টি দোকান পুরোপুরি ভস্মিভূত হয়ে গেছে। দোকান মালিকপক্ষ বলছে, কমপক্ষে ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে তাদের। খবর পেয়ে এলাকাবাসী দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এরপর ফায়ার সার্ভিস যোগ দেয় আগুন নেভানোর কাছে। দীর্ঘ চেষ্টার পর অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।’

খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ১ নং সিন্দুরপুর ইউনিয়নের চেয়ারমান নুর নবী, উপজেলা চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতন, ইউএনও এবং দাগনভূঁইয়া থানার ওসি।

১ নং সিন্দুরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুর নবী বলেন, ‘দরবেশের হাতের উত্তর বাজারে অন্তত ৫টি মার্কেট পুরোপুরি পুড়ে গেছে। প্রায় ২০ থেকে ২২ দোকান একেবারে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এগুলোর মধ্যে ছিল কাপড়ের, জুয়েলারি, মেডিসিন, লেপ-তোষক, ইলেক্ট্রনিক্স, কসমেটিক্স এবং বড় মুদি দোকান। খবর পেয়ে আমি নিজে ছুটে গেছি সেখানে। উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও, ওসি এসেছেন। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ ৫ কোটি টাকার মত হবে।’

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য প্রাথমিকভাবে কিছু ত্রাণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘আগামীকাল ক্ষতিগ্রস্থদেরকে জন্য ত্রাণ ও আর্থিক সহযোগিতা করা হবে। কারণ এসব দোকান ছিল তাদের একমাত্র আয়ের উৎস। এখন এভাবে আগুনে সব শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা নিঃস্ব হয়ে গেছে। সাময়িকভাবে তারা যেন চলতে পারে, সে জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে কিছু ত্রাণের ব্যবস্থা করা যায়। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকেও আমরা সহযোগিতা করে যাবো তাদেরকে।’


এখানে শেয়ার বোতাম