মঙ্গলবার, মে ১১
শীর্ষ সংবাদ

করোনার দিনগুলোতে সচেতন হই

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 93
    Shares

অশেষ কান্তি দে::
করোনা ভাইরাসে আতংকিত বিশ্ব । চীনের উহান প্রদেশে ধরা পড়া এই ভাইরাসে প্রধানত প্রথমে কেঁপে উঠেছিল চীন।তারপর এখন প্রায় গোটা বিশ্ব। অবশ্য চীনারা তাদের দূরদর্শিতা দিয়ে করোনার প্রাদুর্ভাব বলতে গেলে প্রায় কাটিয়ে উঠেছে। উহান প্রদেশে যে মৃত্যুমিছিল শুরু হয়েছিল সেই মৃত্যু মিছিল এখন ছড়িয়ে পড়েছে দেশে দেশে।

চীনারা সবকিছু দ্রুত সামলেছে ঠিক। বুদ্ধিমান চতুর জাতি ওরা।অন্ধবিশ্বাসের বদলে তাদের আছে একটি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি। উহান প্রদেশ এখন করোনামুক্ত।থেমেছে প্রাদুর্ভাব।তার বদলে আজ বাজছে আতশবাজি।

ইতালির অবস্থা এখন চীনকে ছাড়িয়ে।মৃত্যুমিছিল থামছেই না। মানুষ কত সহজেই না মরে যাচ্ছে । কোথায় যাবে এই লাশ।আহা শ্রেষ্ঠ জীব তুমি মানুষ!করোনা ছড়িয়েছে ইউরোপের অন্যদেশগুলোতে।স্পেনে ও আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে বিপদজনকভাবে।প্রকৃতি একসময় প্রতিশোধ নেবে সেই কবে বলে রেখেছিলেন এঙ্গেলস।প্রকৃতি সত্যি সত্যি কী ভয়ানকভাবে প্রতিশোধ নিতে শুরু করেছে আজ!

পরাশক্তি আমেরিকা করোনা আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে এখন রেকর্ড ছাড়িয়েছে। আক্রান্ত যুক্তরাজ্য ও। কানাডার প্রধানমন্ত্রী তো এই প্রাদুর্ভাব দেখে সচেতন ঘোষণা দিয়েছেন।উন্নত দেশ।তার চেয়ে উন্নত করোনায় তাদের সচেতনতা।সব দায়িত্ব এখন রাষ্ট্রের।কেন্দ্রবিন্দুতে তো জনগণই।
ইতালিতে বসবাসরত এক ভারতীয় বাঙালি নারীর কথা শুনছিলাম।তিনি বলছিলেন চীনে প্রথমে যখন শুনেছিলাম করোনা ভাইরাস আক্রান্ত দেশটি তখন পাত্তা দেইনি তেমন ।যখন ইতালিতে এলো তখনো ততোটা না।ঘুরেছেন দিব্যি।।তারপর যখন তা রীতিমতো হয়ে গেলো ভীতিকর তখন তিনি হলেন জাগ্রত।এখন খুব সজাগ সতর্ক রয়েছেন।অন্যদের বলছেন এড়িয়ে না গিয়ে সজাগ হতে।তৎপরতা বাড়ানোর জন্য। ইতালির অবস্থা শুরুতে অমন ছিলো না।আর এখন? তার সাবধানী বাণী।

করোনাকে ঘিরে মানুষের মাঝে হাহাকার বাড়ছে এখন দিনে দিনে।ঢাকা মেডিকেল কলেজের হৃদরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী একজন বয়স্ক রোগী দেখছিলেন গত ১৬ই মার্চ।দেখার পর মনে হলো রোগী কোভিড -১৯ আক্রান্ত।তিনি তাকে ঔষধপত্র দিয়ে বিদায় দিলেন।সাথে পরামর্শ দিলেন দ্রুত আইইডিসিয়ারে যোগাযোগ করার জন্য। ১৮ই মার্চ তার নিজেরই জ্বর চলে এলো।সহকর্মীরা চিন্তিত হলেন।তিনি চলে এলেন বাসায়।স্ত্রীর চোখে অশ্রু ছলছল ।১৯ তারিখ জানতে পারলেন সেই রোগী কোভিড-১৯ পজেটিভ।অবশেষে মৃত্যু হয়েছে লোকটির।হায় পজেটিভ। তিনি বলছেন আমরা পজেটিভ রাজনীতির কথা বলি পজেটিভ থিকিং এর কথা বলি।কিন্ত চিকিৎসাশাস্ত্রে পজেটিভ মানে খারাপ কিছুর অস্তিত্ব।

অসুখ বিসুখ হলে মানুষ চায় স্নেহ প্রিয়জনের স্পর্শ।আর আজ কিনা তুমি দূরে যাও আরও দূরে..। অপেক্ষা করি স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে আলিঙ্গনের জন্য।যদি সুস্থ হই হয়তো আবার হবো প্রাণচঞ্চল।তার মাঝে বিষন্নতা।কন্ঠে রীতিমতো আর্তি ঝরে।

কোভিড -১৯ ভাইরাস বয়স্ক মানুষ ও যারা অন্য রোগাক্রান্ত তারাই রয়েছেন প্রধানত বেশি মৃত্যু ঝুঁকিতে।এই ভাইরাসকে হালকা করে দেখার যে উপায় নেই তা তো আজ পরিষ্কার দেখাই যাচ্ছে।দেখছে আমেরিকা ইতালির মতো দেশগুলো। মৃত্যু মিছিল যেন থামছেই না।কাঁপছে বিশ্ব।যে দেশগুলোর শুরুতে সচেতনতা ছিলো না তেমন তারা ও এখন রীতিমতো জেগে উঠেছে।

করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী যে আতংক ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে সেখানে বাংলাদেশের অবস্থা কী? উন্নত দেশগুলো যেখানে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে সচেতনতাই হতে পারে বিপদের দিনে আমাদের সুরক্ষার রক্ষাকবচ ।বলা হচ্ছে এটা মহামারি।যাকে বলে করোনা মহামারি। এই মহামারি যদি আমাদের সচেতনার অভাবে ছড়িয়ে পড়ে ক্রমাগত কী হতে পারে একবার ভাবা যায়!
আমাদের তো সেরকম আধুনিক প্রস্তুতি নেই।

জনসমাগম আমরা ভালবাসি।অস্ট্রেলিয়া থেকে এসেছেন এক প্রবাসী তাকে রাখা হয়েছে হোম কোয়ারেন্টাইনে।আর যায় কোথায়। গ্রামবাসী পারলে হুমড়ি খেয়ে পড়ে আর কী। হায়রে কৌতূহলী জনতা। যুক্তির ধার ধারে না।বুঝতে চায় না কোনো কিছুই। ইতালি প্রবাসী একজন দেশে এসেই কোন নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে বন্ধুবান্ধবদের সাথে মিলিত হয়ে হলেন আড্ডায় মশগুল। মগ্ন হলেন সেলফিবাজিতে।অথচ তার হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা। সুদূর ইতালির কী ভয়ানক অবস্থা।নিশ্চয়ই তিনি পরিস্থিতি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত।তবু এই খামখেয়ালিপূর্ণ অপ্রত্যাশিত বাড়াবাড়ি।প্রবাসীরা আমাদের প্রাণ।তাদের আমরা শ্রদ্ধার সাথে প্রানেই ধারণ করে রাখতে চাই।

তবু আমরা এদেশের মানুষে আশা রাখি। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে এদেশের মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিহাস নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন মানুষ ও সংগঠন এগিয়ে আসছেন একে একে। এগিয়ে এসেছেন আমাদের প্রিয় ক্রিকেট তারকারা ও। এভাবে হয়তো আরো অন্যরা এগিয়ে আসবেন।এসব ঠিক আছে। আমরা যা চাই যতটা সম্ভব নিরাপদ থাকতে। যত কম সম্ভব প্রানহানী এড়াতে। আর এখানেই এসে যাচ্ছে সচেতনতা।
আসুন আমরা সতর্ক সচেতন হই । নিজেরা বাঁচি। প্রিয়জন ও অন্যদের বাঁচাই।

লেখক:: প্রভাষক, জগন্নাথপুর সরকারি কলেজ।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 93
    Shares