সোমবার, মার্চ ১
শীর্ষ সংবাদ

কমার্শিয়াল চলচ্চিত্রেও সরকার অনুদান দেবে : তথ্যমন্ত্রী

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক :: কমার্শিয়াল চলচ্চিত্রেও সরকার অনুদান দেবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘আগে সরকার শুধু আর্ট ছবিতে অনুদান দিতো। কমার্শিয়াল ছবির জন্য কোনও অনুদান দেওয়া হতো না। এখন থেকে আমরা কমার্শিয়াল ছবিতেও অনুদান দেবো। তবে সেগুলো অবশ্যই সিনেমা হলে মুক্তি দিতে হবে। কিছু আর্ট ফিল্মে অবশ্যই আমাদের অনুদান দিতে হবে; না হয় আর্ট ফিল্ম তৈরি হবে না।’

শনিবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর ফিনলে স্কয়ারের সিলভার স্ক্রিন সিনে কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প এবং বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ’ শিরোনামে এই সেমিনারের আয়োজন করে সিলভার স্ক্রিন। অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী প্রধান অতিথি ছিলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘যারা অনুদান নিয়ে ছবি তৈরি করেন, তাদের অনেকেই যেটি করেন তা হলো—ওই ছবিগুলো সিনেমা হলে মুক্তি দেন না। নির্মাতারা সেগুলো কোনও চ্যানেলের কাছে বিক্রি করে দেন বা অন্য কারও কাছে বাইরে বিক্রি করা হয়। কারণ নির্মাতার নিজের বিনিয়োগ তো সেখানে কম।’

একটি ছবি বানানোর জন্য ৬০ লাখ টাকা অনুদান অনেক কম মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘বোম্বেতে স্ক্রিপ্ট রাইটারাই এখন ৬০ লাখ টাকার বেশি নেয়। এমনকি পশ্চিম বাংলাতেও দেখা যায়, স্ক্রিপ্ট রাইটাররা প্রচুর টাকা নেয়। আমরা এজন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি, সিনেমায় অনুদানের অঙ্কটা বাড়াবো। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা করা হয়েছে। এখন বছরে পাঁচ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হয়, এটি সামনে ১০ কোটি টাকা হবে। একটি ছবিতে আগে ৬০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হতো। এখন একটি ছবিতে কমপক্ষে ৭৫ লাখ টাকা অনুদান দেবো, অথবা আরও বেশি দেওয়া যায় কিনা আমরা দেখবো।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারিভাবে সারাদেশে কিছু তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ করবো। সেগুলোর সঙ্গে ৩০০ আসনের একটা সিনেমা হল থাকবে। সেই হলগুলো সরকার পরিচালনার করবে না। এগুলো লিজ আউট করে দেওয়া হবে। কারণ সরকার পরিচালনা করতে গেলে দেখা যাবে সেগুলো চলছে না। প্রাথমিকভাবে সারাদেশে আমরা ২৫-৩০টি হল করবো।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে, যদি কেউ সেগুলো চালু করতে চায়, তারা যেন সেগুলো আধুনিকায়নের জন্য সহজ শর্তে ঋণ পায়, সেজন্য আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনরের সঙ্গে কথা বলেছি, আমরা সেই ব্যবস্থা করবো। কারণ আমরা পুরাতন বন্ধ হয়ে যাওয়া সিনেমা হলগুলো পুনরায় চালু করতে চাই।’

প্রত্যেক সিনেমায় একটি সামাজিক বার্তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সিনেমায় সমাজের জন্য একটি বার্তা থাকা উচিত। সব সিনেমায় যে বার্তা দেওয়া সম্ভব হবে তা নয়, তবে বেশিরভাগ সিনেমায় দেওয়া সম্ভব। সমাজের যে অসংগতি আছে, সমাজে যন্ত্রের যে প্রভাব এসব তুলে আনা যায়।’

সেমিনারে দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশের সম্পাদক রুশো মাহমুদ শিরোনামের ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। পরে একই পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক কবি কামরুল হাসান বাদলের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন চলচিত্র প্রযোজক চলচ্চিত্র নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী, দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়েশা খান, দৈনিক পূর্বকোণ সম্পাদক ডা. রমিজউদ্দিন চৌধুরী, আরটিভির সিইও আশিকুর রহমান ও প্রথম আলো’র চট্টগ্রাম অফিসের বার্তা প্রধান ওমর কায়সার। এতে সভাপতিত্ব করেন কবি ও সাংবদিক আবুল মোমেন।


এখানে শেয়ার বোতাম