মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৩
শীর্ষ সংবাদ

কমরেড আবদুল হক মনে করতেন ‘ইতহাসের রায় সমাজতন্ত্র’

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 47
    Shares

কমরেড আবদুল হক-এর শততম জন্মবার্ষিকীতে বক্তারা

অধিকার ডেস্ক:: আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনে ক্রুশ্চেভ-ব্রেজনেভ-গর্বাচেভ-মাওবাদসহ সকল রূপের সংশোধনবাদ-সুবিধাবাদের বিরুদ্ধে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আপোসহীন কমিউনিস্ট-বিপ্লবী নেতা এবং সাম্রাজ্যবাদ-সামন্তবাদ, আমলা-দালালপুঁজি বিরোধী শ্রমিক কৃষক জনগণের লড়াইয়ে অগ্রসেনানী কমরেড আবদুল হক এর শততম জন্মবার্ষিকীতে বক্তারা বলেছেন, কমরেড আবদুল হক মনে করতেন ‘ইতহাসের রায় সমাজতন্ত্র’।

বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) কমরেড আবদুল হক-এর ১০০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন কমিটি, সিলেট এর উদ্যোগে বিকেল ০৪টায় সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ, সিলেট এর সাহিত্য আসর কক্ষে আলোচনাসভা বক্তারা এই কথা বলেন।

আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন কমরেড আবদুল হক-এর ১০০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন কমিটি, সিলেট এর আহবায়ক ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার সভাপতি এডভোকেট কুমার চন্দ্র রায়।

সভার শুরুতেই কমরেড আবদুল হক এর উপর লিখিত প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সহকারী অধ্যাপক আবুল ফজল।

কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক প্রভাষক শাহীন আলমের পরিচালনায় আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা মো. ছাদেক মিয়া, জাতীয় ছাত্রদল সিলেট জেলা শাখার অন্যতম নেতা মো. বদরুল আজাদ, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. আনছার আলী প্রমুখ।

আলোচনাসভায় বক্তারা বলেন, অসাধারণ মেধাবী ও স্মৃতিশক্তির অধিকারী কমরেড আবদুল হক ১৯২০ সালের ২৩ ডিসেম্বর যশোর জেলার খড়কীতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৩৬ সালে তিনি এন্ট্রাস পরীক্ষায় ৬ষ্ঠ স্থান ও কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় সপ্তম স্থান অধিকার করেন এবং ১৯৪১ সালে অর্থনীতিতে (সম্মান) প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে স্বর্ণ পদকে ভূষিত হন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে এম এ চুড়ান্ত পরীক্ষায় আগেই কমিনিস্ট পার্টির নির্দেশে তিনি চলে যান যশোর এলাকার হাট-বাজারের ইজারাদারদের তোলা আদায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার কাজে। কমরেড আবদুল হক ব্রিটিশ আমলে কলকাতায় ছাত্রজীবনে শ্রমিক শ্রেণির মতাদর্শ ও রাজনীতিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে তৎকালীন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (ঈচও)’র সংস্পর্শে আসেন এবং শ্রমিক-কৃষক-জনগণের মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এ সময়ে তিনি ‘ভারতীয় ছাত্র ফেডারেশন’-এর বঙ্গীয় শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ প্রক্রিয়ায় তিনি শ্রমিক শ্রেণির আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ১৯৪১ সালে কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থীসভ্য পদ ও পরে পূর্ণ সভ্যপদ লাভ করেন। এ সময়ে ছাত্রআন্দোলন, হলওয়েল মনুমেন্ট ভাঙ্গার আন্দোলন, মহামন্বন্তরে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো, হাটতোলা বিরোধী আন্দোলন, তেভাগা আন্দোলন ইত্যাদি আন্দোলনে তিনি নেতৃত্বকারী ভূমিকা ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। পাকিস্তান আমলে ঐতিহাসিক খাপড়া ওয়ার্ড আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলন, সর্বোপরি কমিউনিস্ট আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনে তিনি সকল রূপের সংশোধনবাদ ও সুবিধাবাদ-টিটো মার্কা, ক্রুশ্চেভ-ব্রেজনেভ-গর্বাচেভ মার্কা, ইউরো কমিউনিজম মার্কা, জুচে ভাবধারা মার্কা, তিন বিশ্ব তত্ত্ব, মাও সেতুং চিন্তাধারা ও মাওবাদ মার্কা, চীনকে সামনে রেখে চীন-ভিয়েতনাম-উত্তর কোরিয়া-কিউবাকে সমাজতান্ত্রিক দেশ আখ্যায়িত করা, ট্রটস্কিবাদী অবস্থান থেকে কমরেড স্তালিনের বিরোধিতা ইত্যাদি সকল রূপের সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে নীতিনিষ্ঠ আপোসহীন আদর্শগত সংগ্রাম পরিচালনা করে তত্ত্বগতভাবে পথিকৃতের অবদান রাখেন। তিনি এ দেশে কমিউনিস্ট আন্দোলনে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ এর তাত্ত্বিক ভিত্তিতে বলশেভিক ধরনের পার্টি গড়ে তোলা; এ দেশের আর্থসামাজিক ব্যবস্থা ও বিপ্লবের চরিত্র নির্ধারণ; বলপ্রয়োগে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের নির্দিষ্ট রূপ, রাজনৈতিক ও সামরিক রণনীতি ও রণকৌশল ইত্যাদি নির্ধারণে বিশেষ অবদান রাখেন। ১৯৯০-৯১ সালে সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ ও পূর্ব ইউরোপের পতনের ঘটনাবলীর মধ্যদিয়ে সাম্রাজ্যবাদ, প্রতিক্রিয়াশীল ও সংশোধনবাদীরা ‘সমাজতন্ত্র ব্যর্থ’, ‘মার্কসবাদ-লেনিনবাদ ব্যর্থ’ এবং ‘পুঁজিবাদ শাশ্বত ও সংকট মুক্ত’ বলে যে প্রতিবিপ্লবী ঝড় তুলে, তার বিরুদ্ধে মার্কসবাদ-লেনিনবাদকে রক্ষায় হিমালয়ের মত অটল থাকার বিপ্লবী দৃঢ়তা ও আশাবাদের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ছিলেন কমরেড আবদুল হক। এ প্রেক্ষাপটে কমরেড আবদুল হক রচিত পুস্তুকগুলো মতাদর্শিক ও রাজনৈতিক সংগ্রাম পরিচালনায় বিশেষ অবদান রাখছে।

বক্তারা বলেন, কমরেড আবদুল হক মনে করতেন- শোষিত-বঞ্চিত শ্রমিক-কৃষক-জনগণের দুঃখ-কষ্ট, নিপীড়ন-নির্যাতনের জন্য দায়ী সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলা-দালালপুঁজি এবং তাদের পাহারাদার শোষণমূলক স্বৈরাচারী এই সরকার ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা এবং এই ব্যবস্থাকে উৎখাত করা ভিন্ন জনগণের মুক্তির অন্য কোন পথ নেই। শ্রমিক কৃষক জনগণের ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন-গণঅভ্যূত্থানের মাধ্যমে জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করে সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যে অগ্রসর হতে হবে এবং এটাই হচ্ছে ইতিহাসের রায়।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 47
    Shares