বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৮

কমরেড আবদুল হক-এর শততম জন্মবার্ষিকী ২৩ ডিসেম্বর

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 33
    Shares

অধিকার ডেস্ক:: আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনে ক্রুশ্চেভ-ব্রেজনেভ-গর্বাচেভ-মাওবাদসহ সকল রূপের সংশোধনবাদ-সুবিধাবাদের বিরুদ্ধে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আপোসহীন কমিউনিস্ট-বিপ্লবী নেতা এবং সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ, আমলা-দালালপুঁজি বিরোধী শ্রমিক কৃষক জনগণের লড়াইয়ের অগ্রসেনানী কমরেড আবদুল হক এর শততম জন্মবার্ষিকী আগামী ২৩ ডিসেম্বর।

কমরেড আবদুল হক এর ১০০তম জন্মবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে কমরেড আবদুল হক-এর ১০০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন কমিটি, সিলেট এর উদ্যোগে বৃহস্পতিবার বিকেল ০৫টায় জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা কার্যালয়ে প্রস্তুতিসভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন কমরেড আবদুল হক-এর ১০০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন কমিটি, সিলেট এর আহবায়ক এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার সভাপতি এডভোকেট কুমার চন্দ্র রায়।

উদযাপন কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক প্রভাষক শাহীন আলমের পরিচালনায় অন্যান্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কমরেড আবদুল হক-এর ১০০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন কমিটি, সিলেট এর যুগ্ম-আহবায়ক এডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম, কমিটির সদস্য সহকারী অধ্যাপক আবুল ফজল, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক রমজান আলী পটু, সিলেট শহর পূর্বাঞ্চল কমিটির সভাপতি খোকন আহমদ, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. সুরুজ আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. ছাদেক মিয়া ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখর সেন, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. আনছার আলী।

সভায় বক্তারা বলেন কমরেড আবদুল হক উপমহাদেশ তথা এ দেশের কমিউনিস্ট আন্দোলন ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ক্ষেত্রে শুধু একটি নামই নয় বরং তিনি হচ্ছেন এই আন্দোলনকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে এক অগ্রসেনানী, মহান দৃষ্টান্তস্থাপনকারী এক উজ্জল নক্ষত্র। ক্রুশ্চেভ-ব্রেজনেভ-গর্বাচেভ, তিনবিশ্ব তত্ত্ব, মাও সেতুং চিন্তাধারা ও মাওবাদ মার্কা সংশোধনবাদসহ সকল রূপের সংশোধনবাদ-সুবিধাবাদের বিরুদ্ধে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ প্রতিষ্ঠায় কমরেড আবদুল হক অনন্য ভূমিকা পালন করেন। সভায় আগামী ২৩ ডিসেম্বর ২০২০, বুধবার, বিকেল ০৪টায় কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ, সিলেট এর সাহিত্য আসর কক্ষে আলোচনাসভা সফল করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

উল্লেখ্য, কমরেড আবদুল হক ১৯২০ সালের ২৩ ডিসেম্বর যশোর জেলার খড়কীতে জন্মগ্রহণ করেন। কমরেড আবদুল হক ব্রিটিশ আমলে কলকাতায় ছাত্রজীবনে শ্রমিক শ্রেণির মতাদর্শ ও রাজনীতিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে তৎকালীন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সংস্পর্শে আসেন এবং শ্রমিক-কৃষক-জনগণের মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এ সময়ে তিনি ‘ভারতীয় ছাত্র ফেডারেশন’-এর বঙ্গীয় শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ প্রক্রিয়ায় তিনি শ্রমিক শ্রেণির আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ১৯৪১ সালে কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থীসভ্য পদ ও পরে পূর্ণ সভ্যপদ লাভ করেন। এ সময়ে ছাত্রআন্দোলন, হলওয়েল মনুমেন্ট ভাঙ্গার আন্দোলন, মহামন্বন্তরে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো, হাটতোলা বিরোধী আন্দোলন, তেভাগা আন্দোলন ইত্যাদি আন্দোলনে তিনি নেতৃত্বকারী ভূমিকা ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। পাকিস্তান আমলে ঐতিহাসিক খাপড়া ওয়ার্ড আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলন, সর্বোপরি কমিউনিস্ট আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনে তিনি সকল রূপের সংশোধনবাদ ও সুবিধাবাদ-টিটো মার্কা, ক্রুশ্চেভ-ব্রেজনেভ-গর্বাচেভ মার্কা, ইউরো কমিউনিজম মার্কা, জুচে ভাবধারা মার্কা, তিন বিশ্ব তত্ত্ব, মাও সেতুং চিন্তাধারা ও মাওবাদ মার্কা, চীনকে সামনে রেখে চীন-ভিয়েতনাম-উত্তর কোরিয়া-কিউবাকে সমাজতান্ত্রিক দেশ আখ্যায়িত করা, ট্রটস্কিবাদী অবস্থান থেকে কমরেড স্তালিনের বিরোধিতা ইত্যাদি সকল রূপের সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে নীতিনিষ্ঠ আপোসহীন আদর্শগত সংগ্রাম পরিচালনা করে তত্ত্বগতভাবে পথিকৃতের অবদান রাখেন। তিনি এ দেশে কমিউনিস্ট আন্দোলনে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ এর তাত্ত্বিক ভিত্তিতে বলশেভিক ধরনের পার্টি গড়ে তোলা; এ দেশের আর্থসামাজিক ব্যবস্থা ও বিপ্লবের চরিত্র নির্ধারণ; বলপ্রয়োগে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের নির্দিষ্ট রূপ, রাজনৈতিক ও সামরিক রণনীতি ও রণকৌশল ইত্যাদি নির্ধারণে বিশেষ অবদান রাখেন। ১৯৯০-৯১ সালে সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ ও পূর্ব ইউরোপের পতনের ঘটনাবলীর মধ্যদিয়ে সাম্রাজ্যবাদ, প্রতিক্রিয়াশীল ও সংশোধনবাদীরা ‘সমাজতন্ত্র ব্যর্থ’, ‘মার্কসবাদ-লেনিনবাদ ব্যর্থ’ এবং ‘পুঁজিবাদ শাশ্বত ও সংকট মুক্ত’ বলে যে প্রতিবিপ্লবী ঝড় তুলে, তার বিরুদ্ধে মার্কসবাদ-লেনিনবাদকে রক্ষায় হিমালয়ের মত অটল থাকার বিপ্লবী দৃঢ়তা ও আশাবাদের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ছিলেন কমরেড আবদুল হক। এ প্রেক্ষাপটে কমরেড আবদুল হক রচিত পুস্তুকগুলো মতাদর্শিক ও রাজনৈতিক সংগ্রাম পরিচালনায় বিশেষ অবদান রাখছে। মহান এই বিপ্লবী নেতা ১৯৯৫ সালের ২২ ডিসেম্বর ৭৫ বছর বয়সে আত্মগোপনে থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 33
    Shares