বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৮

কখন যে রাজনীতির হাওয়া বদলে যায়: রিজভী

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 34
    Shares

অধিকার ডেস্ক:: রাজনীতির হাওয়া যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে উল্লেখ করে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, “আমি বলবো, দেখুন কখন যে রাজনীতির হাওয়া বদলে যায়। রাজনীতির হাওয়া কিন্তু দেখেশুনে আসে না। আবহাওয়ার যেমন নিশ্চয়তা নাই সকালে রোদ বিকেলে বৃষ্টি, রাজনীতির হাওয়াও কিন্তু যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে। সেই দিনের কথা চিন্তা করুন। আজকে আপনারা যে জঘন্য কাজগুলো করছেন এর কিন্তু প্রতিশোধ জনগণ একদিন ঠিকই নেবে।”

রবিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত সিলেটে এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে গৃহবধূকে ছাত্রলীগের দল বেঁধে ধর্ষণ এবং খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি নারীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, “সরকার তার অনাচারগুলো ঢাকার জন্য আর তাদের এই হালুয়া-রুটির সামান্য কিছু ভাগ পাওয়ার জন্য কিছু সাংস্কৃতিক পরজীবীরা একটি নাটক করেছে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়াউর রহমান এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। বিকৃত রুচিসম্পন্ন একটি নাটক গতকাল আরটিভিতে প্রচারিত হয়েছে। আমরা এটার প্রতিবাদ জানিয়েছি। আমরা বলেছি, ইতিহাসকে বিকৃত করে সাংস্কৃতিক ব্যক্তির নামে কয়েকজন পরজীবীরা এ জঘন্য নোংরা কাজ করছে। শেখ হাসিনা আপনাকে বারবার বলেছি, আপনার পদলেহনকারী ওই সব সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের দিয়ে ইতিহাস বিবৃতি আর হাইকোর্টকে ধমক দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি এটা টিকবে না। আজকে আমি ছাত্র ভাইদের সাক্ষী রেখে বলছি, যারা এ সমস্ত জঘন্য বিকৃত ইতিহাস সৃষ্টি করছে তাদের আমরা ব্ল্যাক লিস্ট করছি, তাদের জন্য কালো তালিকা করছি।”

সরকারের উদ্দেশ্যে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, “নিজেদের মনের মতো করে সাজানো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে কত দিন নিজেদের নিরাপদ রাখবেন। আমাদের সঙ্গে জনগণ আছে, আমাদের সঙ্গে রিকশাওয়ালা, শ্রমিক, ছাত্র-শিক্ষক আছে। এদের শক্তিতেই আমরা চলি। ইনডেমনিটি নামের যে নাটকটি রচনা করা হয়েছে এটা একটি মিথ্যাচারের নাটক, আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।”

রিজভী বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কেন কারাগারে নেয়া হয়েছে। কেন সাজা দেয়া হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে কেন সাজা দেয়া হয়েছে। কারণ, শেখ হাসিনা এমন একটি রাজত্ব কায়েম করতে চান যেখানে তার দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা যখন মন চাইবে নারীদের সম্ভ্রম হরণ করবে। এ কারণে খালেদা জিয়াকে শাস্তি দেয়া হয়েছে, তারেক রহমানকে নির্যাতন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতারা টাকা পাচার করবে, ছাত্রলীগ নেতা দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের দায়ে দোষী। কেউ যাতে শব্দ করতে না পারে এ কারণে খালেদা জিয়াকে বন্দী করে রাখা হয়েছে, তারেক রহমানকে নির্যাতন করা হচ্ছে। জনগণের প্রতি সরকারের মনোভাব এমন- ‘তোরা যে যা বলিস ভাই, আমার সোনার হরিণ চাই’।”

বিএনপি ষড়যন্ত্রের চোরাবালি দিয়ে ক্ষমতায় আসার জন্য অলিগলিতে পথ খুঁজছে— আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, “ওবায়দুল কাদের সাহেব, অলিগলিতে ঘুরে বেড়ায় যারা নারীর সম্ভ্রমহানি করে যারা ধর্ষক যারা টাকা পাচারকারী। আর এরা সবাই হচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী, এরা হয় এমপিরা নয়তো ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতা–কর্মীরা। কাদের সাহেব, অলিগলি আপনারা চেনেন। আমরা চিনি রাজপথ, আমরা জানি এই অবৈধ সরকারকে গলায় গামছা দিয়ে রাস্তায় নামাতে হবে। তার জন্য আমরা বুকের শার্ট খুলে দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিকে বরণ করে আমরা রাস্তায় আছি। দিনের সূর্যের আলোতে এই রাস্তায় আছি। আপনাদের মতো রাতের অন্ধকারে তরুণীদের সম্ভ্রমহানি করা টাকা পাচার করা এ ধরনের কাজের সঙ্গে কখনোই বিএনপি কিংবা ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা জড়িত ছিল না।”

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, “১৯৭৩ সালে শহীদ মিনারে প্রথম ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করেছে এই ছাত্রলীগ। এর পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতার ইতিহাস সবাই জানে। এগুলো তথ্যমন্ত্রীর মনগড়া কথার মতো নয়, এগুলো ইতিহাস। ওরা মনে করে, যার বাড়িতে সুন্দরী মেয়ে আছে সেটা ছাত্রলীগের সম্পত্তি, যখন ইচ্ছা তখন বের করে নিবে।”

ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, নির্বাহী কমিটির সদস্য আকরামুল হাসান মিন্টু, ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, সহ-সভাপতি আশরাফুল আলম লিঙ্কন, হাফিজুর রহমান হাফিজ ও মামুন খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন ।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 34
    Shares