বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৮

কওমী সাম্রাজ্যে বড় ধরনের উত্থান-পতন ঘটবে

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক::  আহমদ শফী পরাজিত জেনারেল, সন্ধি করে করে আরো সাত বছর টিকে ছিলেন মাত্র। পরাজিত জেনারেলদের লিগ‌্যাসী কেউ মনে রাখে না, সেখানে প্রতিবিপ্লব হয়তো তাই অবধারিতই ছিল। এই ক্যাচালে কওমী জননীর কোনো সহায়তা উনি পান নি বলেই মনে হচ্ছে।

বাবুনগরী এই রাউন্ডের যুদ্ধে জয়ী। বাবুনগরী জেলটেল খেটে একটা মজলুম ইমেজ নিয়ে দাঁড়িয়েছেন। বিএনপি-জামাতের পুরো রিসোর্স এখন উনার পেছনে ঢালবে।

তবে আমার মনে হয় না, আহমদ শফী অন্তত যে যুদ্ধের ময়দানে তার অনুসারীদের নিয়ে হাজির হতে পেরেছিলেন, সেই লেভেল পর্যন্ত বাবুনগরী সহসাই যেতে পারবেন। যেভাবে ‘সম্মানের সাথে অসম্মান’ করে আহমদ শফিকে সরানো হলো, এটি বাবুনগরীর নেতৃত্ব তৈরিতে বড় ঝামেলা হিসেবেই থাকবে।

বিশ্বের বহু দেশ একনায়কতন্ত্র পতনের পর ভালোর দিকে যায় নি। সাদ্দাম কি গাদ্দাফীর পতনে তাদের দেশে গণতন্ত্র ফিরে নি বরং লেজেগোবরে নেতৃত্ব সেই দেশের জনগনের দুর্দশা বাড়িয়েছে মাত্র।

ব্যক্তি পর্যায়ে কওমী নেতাদের অনেকেই জামাতের কাছে বেচাবিক্রি হলেও, কওমীর মূল স্রোত জামাতি ওয়াহিবিজমের বিরোধী। ওয়াহিবীজম প্রতিরোধে তাঁরাই এখানে সম্মুখ সারির পদাতিক।

এখন বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন নেতৃত্ব তৈরি হবে, একক নেতৃত্ব না থাকায় কওমী ধারা সাময়িক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে।

আগামী দশ বছরের মধ্যে কওমী সাম্রাজ্যে বড় ধরনের উথান পতন ঘটবে বলে আমার ধারণা। বিশ্বের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে কওমীদেরকে এডজাস্ট করতে হবে। রুটি রুজির প্রশ্নও জরুরি হয়ে উঠবে। এর বাইরে স্কুলগুলোতে মিড ডে মিল চালু হলে কওমী ছাত্র রিক্রুটমেন্টেও একটা বড় সমস্যা তৈরি হবে।

গত কয়েক দশকে যেভাবে মাদ্রাসা বিস্তৃত হচ্ছিল, সেই গতি এখন স্থিমিত হয়ে যেতে পারে।

তাই আগামী কয়েক বছর কওমী ধারাকে এমন সব প্রতিকূলতা পার হতে হবে যেটি শতাব্দী প্রাচীন এই সিলসিলাকে আগে হয়তো কখনোই মোকাবেলা করতে হয় নি।
কওমীরা কতটা বিজ্ঞতার সাথে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।

(ফেসবুক থেকে নেওয়া)
আরিফ জেবতিক : লেখক, সাংবাদিক।


এখানে শেয়ার বোতাম