মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১

ঐতিহাসিক ২০ মে ‘চা শ্রমিক দিবস’র ৯৯তম বার্ষিকী মৌলভীবাজারে পালন

এখানে শেয়ার বোতাম

সজিব তুষার, মৌলভীবাজার সংবাদদাতা:: ঐতিহাসিক ২০ মে ‘চা শ্রমিক দিবস’র ৯৯তম বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশন মৌলভীবাজার জেলার উদ্যোগে সমাবেশ করা হয়েছে।

আজ বুধবার (২০ মে) সকাল ১১ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত মৌলভীবাজার শহরের প্রেসক্লাব চত্তরে চা শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবী দাওয়া নিয়ে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে এই মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে চা শ্রমিক ফেডারেশন এর সংগঠক সজিবুল ইসলাম তুষারের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন বাসদ মৌলভীবাজার জেলা শাখার আহবায়ক এড. ময়নুর রহমান মগনু, মৌলভীবাজার জেলার ৬ নং টেংরা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য চা শ্রমিক নেতা বিপ্লব মাদ্রাজী পাসী, চা শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক দিপংকর ঘোষ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাবেক সাধারন সম্পাদক রায়হান আনসারী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট মৌলভীবাজার জেলা শাখার সহসভাপতি বিশ্বজিৎ নন্দী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক মারুফ হোসেন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট মৌলভীবাজার শহর শাখার সদস্য সীমান্ত দাস, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট মৌলভীবাজার শহর শাখার সদস্য আবু তালেব প্রমূখ।

বক্তারা অবিলম্বে চা শ্রমিকের দৈনিক মজুরী চারশত টাকা করা, শিক্ষা-স্বাস্থ খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ, পর্যাপ্ত রেশনিং ব্যবস্থা, আবাসন সংকট নিরসন নিয়ে দাবী দাওয়া উত্থাপন করেন।

উল্লেখ্য, ১৯২১ সালে চা বাগান মালিক পক্ষের মিথ্যা আশ্বাসে আগত চা শ্রমিকদের “মুল্লুক চল” পদযাত্রায় চাঁদপুর লঞ্চঘাট যাওয়ার সময় বৃটিশ সরকারের গোর্খা বাহীনি কর্তৃক হত্যাকান্ডের ফলস্বরুপ এই চা শ্রমিক দিবস। সেই হত্যাকান্ডের আজ ৯৯ বছর পার হলেও আজ পর্যন্ত চা বাগানে পৌছেনি সভ্যতার ছিটে ফোটা। বিশ্বব্যপী কররোনার প্রকোপে যেখানে সারাবিশ্ব লক ডাউন সেখানে প্রতিদিন গাদাগাদি করে কাজ করতে যায় চা শ্রমিকরা, লাইনে দাঁড়িয়ে পাতা মাপা, হাজিরা রেশন নেওয়াতো চলছেই। স্বাস্থ খাতে তাদের জন্য বরাদ্দ হয় নাপা, হিসটাসিন আর টেট্ট্রাসাইক্লিন জাতীয় কয়েকটা ঔষধ। হাসপাতাল গুলো চলে কম্পাউন্ডারদের দ্বারা। শিক্ষা খাতে নেই কোন বরাদ্দ। এক সপ্তাহ খাটুনির পরে মিলে সভ্য সমাজের খাবার অযোগ্য আটা। যেখানে এক কেজি চালের দাম চল্লিশ- পঞ্চাশ সেখানে দৈনিক মজুরী একশত দুই টাকা। এমন সব বৈষম্যের মাঝেও রোজ করে রোদ ঝড় বৃষ্টিতে তেইশ কেজির নিচে চা পাতা তুললে কাটা যায় ওই দিনের হাজিরা।


এখানে শেয়ার বোতাম