শনিবার, ডিসেম্বর ৫

এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ী হোমায়রা-মুন বিয়ে করলেন

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 6
    Shares

অধিকার ডেস্ক:: বিয়ে করলেন ২০১৯ নেপাল এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ী করাতেকা হোমায়রা আক্তার অন্তরা। বর কারাতে জগতেরই প্রতিষ্ঠিত তারকা- হোসেন খান মুন। যিনি ২০১০ এসএ গেমসে পুরুষ দলগত কারাতেতে স্বর্ণ উপহার দিয়েছিলেন দেশকে।

অন্যদিকে ২০১৯ এসএ গেমসে তিনটি ইভেন্টে অংশ নিয়ে সব কটিতেই পদক জয় করেন হোমায়রা। আসরে দেশকে প্রথম পদকটি উপহার দেন তিনিই। মেয়েদের একক কাতায় জয় করেন ব্রোঞ্জ। এরপর মেয়েদের কুমিতে অনূর্ধ্ব-৬১ কেজিতে জয় করেন স্বর্ণ। পরে দলগত কুমিতে জেতেন রুপা।

শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলের একটি কমিউনিটি সেন্টারে হোমায়রা ও মুনের কাবিন সম্পন্ন হয়েছে। ছোট পরিসরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শুধু দুই পরিবারের সদস্য ও কারাতে অঙ্গনের কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

বিয়ের আগে চার বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল তাদের। কারাতে খেলতে এসেই মুনের সঙ্গে পরিচয় হোমায়রার। তার কাছেই কারাতে শেখা।

হোমায়রা ও মুন জানান, বেশ কিছুদিন আগেই পারিবারিক সম্মতিতে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন। তবে করোনার কারণে তা পিছিয়ে গিয়েছিল।

আপাতত ছোট পরিসরে শুধু কাবিন সারলেও করোনার প্রকোপ কমলে নভেম্বর-ডিসেম্বরে বড় করে অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তারা।

কারাতেতে এসে মুনের সঙ্গে পরিচয় থেকে পরিণয় পর্বের কথা হোমায়রা বললেন এভাবে, ‘আসলে ওনার কাছে আমার কারাতেতে হাতেখড়ি। ট্রেনিংয়ে ওনার ধ্যান ধারণা ছিল খেলোয়াড়দেরকে সাফ (এসএ গেমস) পর্যন্ত পৌঁছাবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই প্র্যাকটিস করিয়েছেন সব সময়। আমার পারফরম্যান্স, চিন্তা-ভাবনাও ছিল ওরকম। খেলাধুলা নিয়ে দুজনের চিন্তা, লক্ষ্য… এগুলো থেকেই জিনিসটা হয়েছে। এ ছাড়া অন্য কোনো ব্যাপার ছিল না। বোঝাপড়া থেকেই সম্পর্ক।’

মুন বলছিলেন, ‘খেলাধুলা করতে করতেই আসলে সম্পর্ক। ও আর আমি দুজনই একই ক্লাবে ট্রেনিং করতাম। আমি ক্লাবের সিনিয়র হিসেবে ওকেসহ ৪-৫ জনকে নিয়ে একটা টিম করি ন্যাশনাল গেমসের জন্য। এভাবে ওদের ট্রেনিং করাতে করাতে ওদের পারফম্যান্সটা ভালো হয়। হোমায়রার পারফরম্যান্সের ওপর আমার এটা কমিটমেন্ট ছিল, যে ওকে ভালো খেলোয়াড় হিসেবে তৈরি করব। দেখলাম আমার নির্দেশনা বা ধ্যান ধারণাগুলো ও অক্ষরে অক্ষরে পালন করছে। এভাবেই একটা মানুষিক দুর্বলতা আসে।’

তবে হোমায়রাকে লক্ষ্যে পৌঁছে দেওয়ার পর তবেই সংসার জীবনে প্রবেশ করতে চেয়েছেন মুন, ‘অনেকদিন ধরেই অপেক্ষা করছিলাম কখন বিয়েটা হয় বা কখন সংসার করতে পারব। আসলে ওর লক্ষ্য গুলো পূরণ না হওয়ার পর্যন্ত আমি এগোতে পারছিলাম না। কারণ খেলোয়াড়ি জীবনে যদি উন্নতির মাঝে হঠাৎ বিয়ে হয়, সে ক্ষেত্রে মানসিক পরিবর্তন ঘটতে পারে। সবশেষ এসএ গেমসে ও প্রত্যাশার চেয়ে ভালো রেজাল্ট করেছে। পড়াশোনাতেও ভালো করছে। সব মিলে মনে হয়েছে এখন বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।’

হোমায়রা কারাতেতে দীর্ঘ ক্যারিয়ার গড়তে চান। মুনের কাছ থেকে পাওয়া মানসিক সাপোর্টই এ ক্ষেত্রে তার বড় ভরসা, ‘আমি অনেক দিন খেলাধুলা করতে চাই। উনিও আমাকে সেভাবে সাপোর্ট করতে চায়।’

আর মুন সুনির্দিষ্ট করে নির্ধারিত লক্ষ্যের কথাও জানিয়ে দিলেন। বর্তমানে বিকেএসপিতে কোচ হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি খেলাও চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। পরবর্তী এসএ গেমসে স্বামী-স্ত্রী দুজনে একসঙ্গে জিততে চান স্বর্ণ। বলেন, ‘আমার ইচ্ছে আগামী পাকিস্তান এসএ গেমসে দুজন একত্রিতভাবে যেন ভালো রেজাল্ট করতে পারি। দেশকে বড় সাফল্য উপহার দিতে পারি।’


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 6
    Shares