বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২৪
শীর্ষ সংবাদ

একুশের চেতনায় সম্প্রীতি-সাম্যের হোক আগামী

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 13
    Shares

অশেষ কান্তি দে :: ১৯৪৭ সাল। ব্রিটিশরা শেষমেশ ভারতকে স্বাধীনতা দিয়ে যায়। সৃষ্টি হয় ভারত ও পাকিস্তান নামের দুটি পৃথক রাষ্ট্রের। অবশ্য ভারত ভাগ কে ছাপিয়ে বিষাদময় হয়ে উঠেছিল বাংলা ভাগের কাহিনি। আলাদা দুই রাষ্ট্রে বাংলা ও হয়ে যায় আলাদা।বৃহৎ বাংলার অঙ্গ ছেদ হয়ে যায়। দুই বাংলার অবস্থান হয়ে যায় দুই দিকে। যার একটি অংশ হয় ভারতের। অন্য অংশটি পাকিস্তানের।

দেশ স্বাধীন হলো সত্য কিন্ত বাংলা ভাগ কেউ ঠেকাতে পারলেন না। শেষদিকে শরৎ বসুরা একটি চেষ্টা করেছিলেন বটে তবে তা হালে পানি পায়নি। যাই হোক এক নতুন দেশ পাকিস্তান। শুরুতেই বিতর্ক সৃষ্টি হয় ভাষাকে কেন্দ্র করে। পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকরা রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে উর্দুকে প্রায় জোরপূর্বক ছাপিয়ে দেয়।

অথচ অবাক করা বিষয় পাকিস্তানের জনসংখ্যার মাত্র ৮ ভাগ মানুষের ভাষা হলো উর্দু। যেখানে জনসংখ্যার ৫৬ ভাগ মানুষের মাতৃভাষা হচ্ছে বাংলা। পাকিস্তানের গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।সেখানে বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদা উথাপিত হলে তা রীতিমতো নাকচ করে দেওয়া হয়।

কুমিল্লা থেকে নির্বাচিত জাতীয় পরিষদের সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত যখন বাংলা ভাষার সমর্থনে দাবি জানালেন উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার লিয়াকত আলি খান তখন তাকে দেশদ্রোহী বলতে ছাড়েননি। ১৯ শে মার্চ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় এসে রেসকোর্স ময়দানে জনসভায় ঘোষণা করেন উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা।

এমনি করে ২১ শে মার্চ কার্জন হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে জিন্নাহ যখন বলে উঠলেন, উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা। ছাত্ররা তখন নো নো বলে তার তীব্র প্রতিবাদ করে।

জিন্নাহ ক্ষুনাক্ষরে ও বুঝলেন না তিনি পাকিস্তানের দুই অংশের মাঝে রোপন করে গেলেন সন্দেহ আর অবিশ্বাসের বীজ। সব ধর্মের তো নয়ই দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে গড়ে উঠা পাকিস্তান মুসলমানদের ও হয়ে উঠতে পারেনি। পাকিস্তানি শাসকরা এই বাংলার মানুষকে মুসলমান বানাতে খুব উঠে পড়ে লেগেছিল।যার প্রেক্ষিতে মাওলানা ভাসানীকে তীব্রতার সহিত বলতে হয়েছিল-লুঙ্গী উচাইয়া দেখাইতে হইবো আমরা মুসলমান কিনা!

ভাষা শহীদদের একজন আবুল বরকত এসেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ থেকে।পরিবার থেকে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল নিরাপত্তার কথা ভেবেই।ঢাকা এসে উঠলেন মামা আব্দুল মালিকের বাসায়।ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।উচ্ছ্বল বরকত যুক্ত হলেন ভাষা আন্দোলনে।২১ শে ফেব্রুয়ারিতে শোষকের লেলিয়ে দেওয়া বাহিনীর গুলিতে ভিজে গিয়েছিল বরকতের পরিহিত নীল শার্ট। মায়ের ভাষার দাবি আদায়ে তরতাজা প্রাণ গেল প্রাণঞ্চল আবুল বরকতের। টেলিগ্রামে ছেলের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে নির্বাক হয়েছিলেন বরকতের মা বাবা। মুসলমানের এই দেশ ও তাদের প্রানপ্রিয় ছেলের জীবন রক্ষা করতে পারলো না!

পাকিস্তান অবশ্য আর অবিভক্ত থাকেনি। শোষণ ও নিপীড়নের জবাব দিয়েই জন্ম হয়েছে নতুন রাষ্ট্র স্বাধীন বাংলার। একুশে ফেব্রুয়ারি আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাংলা ভাষা চর্চার জন্য দরকার এখন আরও ব্যাপকতা।

সাম্প্রদায়িকতা নয় সম্প্রীতির, বৈষম্য নয় সাম্য এই হোক একুশে ফেব্রুয়ারির প্রার্থনা।

লেখক: প্রভাষক, জগন্নাথপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ, সুনামগঞ্জ।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 13
    Shares