মঙ্গলবার, মার্চ ৯
শীর্ষ সংবাদ

এই দেশের ভবিষ্যত মোটেই আশাজাগানিয়া নয়

এখানে শেয়ার বোতাম

আব্দুল করিম কিম::

নির্যাতনের খবর প্রকাশ করা যাবে না, দূর্নীতির তথ্য উন্মোচন করা যাবে না, দেশ বিরোধী চুক্তির সমালোচনা করা যাবে না, ন্যায় বিচার চাওয়া যাবে না । সেনা শাসনকালে এমন পরিস্থিতি মানা যায়, যদিও মানুষ তা মানেনি। একাধিকবারের সেনা শাসনকালে এমন অভিজ্ঞতা পেয়ে দেশবাসী গণতন্ত্রে উত্তোরণের জন্য বড্ড হাসফাঁস করেছে । গণতন্ত্রের জন্য প্রাণ দিয়েছে। লাভ কি হলো ?
একেকবার একেক দলের লাভ হয়েছে । কখনো বিএনপির লাভ, কখনো আওয়ামীলিগের লাভ।

দেশের মানুষকে গণতন্ত্র বলতে ভোটের অধিকার পাওয়া বোঝানো হয়েছে। যে অধিকার পেতে হলে আবার নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার লাগে। সেই সরকার এসে মানুষকে গণতন্ত্র দিতো। একদিনের সে গণতন্ত্র পেয়ে মানুষ কত খুশি ! নিজেকে কিং মেকার ভেবে ছেঁড়া কাঁথায় আরামের ঘুম দিতো। এখন সেই অধিকারটাও নেই । গণতন্ত্র না থাকলে জবাবদিহিতা থাকে না। জবাবদিহিতা না থাকলে জংগলরাজ কায়েম হয়। খোদ রাজধানীতে দেশের শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদি হেসেখেলে মানুষকে ভিন্নমতের জন্য নাৎসি কায়দায় নির্যাতন করা হয় তবে অজঁপাড়াগাঁতে যে এরচেয়ে ভয়াবহ কিছু হয় না কে বলবে ?

ফেনীর ঐ মেয়েটাকে কত সহজে আগুনে জ্বালিয়ে হত্যা করা হলো। বরগুনায় প্রকাশ্যে বন্ড বাহিনী কুপিয়ে মারলো। এই সব একদিনে হয়নি। এমন হওয়ার পথ তৈরি করে দেয়া হয়েছে। খোদ রাজধানীতে একজন সম্রাট শত শত কোটি টাকার মালিক হয়, ক্যাসিনো ব্যাবসা শুরু করে, ভুইয়া ম্যানশন দখল করে, সেখানে টর্চার সেল বানায় কিন্তু সরকারের মন্ত্রীরা তার সাথে মাখামাখি করেন। আজ তাকে ও তার বাহিনীকে আটক করাকে দূর্নীতি বিরোধী অভিযান বলা অতিরঞ্জন। জেলায় জেলায়, থানায় থানায় থাকা সম্রাটদের আটক করা হলে তা হবে দূর্নীতি বিরোধী অভিযান সম্রাটের টাকাখোরদের ন্যাংটা করা হলে বলা যাবে দূর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্সে। যা আদতে হবে না।

এই দেশের ভবিষ্যত মোটেই আশাজাগানিয়া নয়। দেশের অগ্রসরমান মানুষ, প্রগতিশীল মানুষ, দেশ প্রেমিক মানুষের পছন্দের রাজনৈতিক দল যদি রাস্ট্র পরিচালনায় স্বৈরাচারের কায়দা-কানুন অনুসরন করে তখন হতাশ হতেই হয়। এই হতাশা থেকে আশার পথে যেতে হলে শেখ হাসিনাকে 180 ডিগ্রি ঘুরতে হবে। যা প্রায় অসম্ভব।

লেখক: সাধারণ সম্পাদক, বাপা, সিলেট জেলা

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)


এখানে শেয়ার বোতাম