রবিবার, এপ্রিল ১১
শীর্ষ সংবাদ

উহান করোনা ভাইরাস: কিছু প্রশ্ন ও উত্তর

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: চীনে এক নতুন ধরনের ভাইরাসের আবির্ভাব ঘটেছে যা ইতিমধ্যে চীনের সীমানা ছাড়িয়ে অন্য দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। জানুয়ারির ২৫ তারিখ পর্যন্ত ১৩০০ জন রোগী চিহ্নিত হয়েছে এবং অন্তত ৪০ জনের মৃত্যর খবর পাওয়া গেছে। নিম্মে কিছু প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে এই ব্যাপারে আলোচনা করেছেন বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চ এর কেন্দ্রীয় সংগঠক মাসুক হেলাল অনিক।

এটা কি ধরনের রোগ?
এই রোগ এক ধরনের করোনা ভাইরাসের কারণে হয়েছে। সাধারণ করোনা ভাইরাসে খুব বেশি হলে ঠাণ্ডা -কাশি কিংবা জ্বর হলেও কিছু করোনা ভাইরাসে নিউমোনিয়া এবং পরিণতিতে মৃত্য হতে পারে। এই ভাইরাসের শরীরে কণ্টক থাকার কারণে ল্যাটিন ‘করোনা’ (যার মানে মুকুট) রাখা হয়েছে বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটাকে “2019 novel coronavirus.” সংক্ষেপে 2019-nCoV বলা হচ্ছে। মার্স এবং সার্সের পর এটি হল তৃতীয় করোনা ভাইরাস যা মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে।

কোথায় এর উদ্ভব?
করোনা ভাইরাসগুলোর উৎস হলো পশুপাখির দেহ এবং সাধারণত এটা মানুষে সংক্রমণ করতে পারে না । কিন্তু সার্স,মার্সের পর নতুন আবির্ভূত করোনা ভাইরাস অভিযোজনের মাধ্যমে মানুষকে সংক্রমণ এবং মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পরার সক্ষমতা অর্জন করেছে।
ধারনা করা হচ্ছে চীনের উহান শহরের এক অবৈধ পশু পাখির বাজার এর প্রধান উৎস। ২০১৯ এর ডিসেম্বরে সেখানে প্রথম এই ভাইরাসটি সনাক্ত হয়। তখন থেকে বাজারটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এটি চীনের অন্যতম বাণিজ্য এবং যোগাযোগের কেন্দ্র হওয়ায় এই ভাইরাস বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে পরার সুযোগ পেয়েছে ।

লক্ষণগুলো কি?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে এর প্রাথমিক লক্ষণ জ্বর,স্বর্দি-কাশি,শ্বাস-কষ্ট,শরীর ব্যাথা,ডায়রিয়া। যা পরবর্তীতে নিউমোনিয়া,কিডনি ফেইলিওর এবং তার ফলে মৃত্য পর্যন্ত হতে পারে।

কারো জ্বর হলেই তাকে উহান করোনা ভাইরাসের জন্য পরীক্ষা করতে হবে কি ?
এই রোগের লক্ষণগুলো অনেক রোগের লক্ষণের সাথে মিলে যায়। তাই,আপাতত উহান ভাইরাস আক্রান্ত এলাকা থেকে কেউ দেশে আসার ১৪ দিনের মধ্যে জ্বর আক্রান্ত হলে তাদেরকে এই রোগের জন্য পরীক্ষা করাতে হবে । এছাড়া যেকোন প্রয়োজনে আইইডিসিআর এর হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। হটলাইন নম্বরগুলো হল – 01937110011, 01937000011, 01927711784, 01927711785

আক্রান্ত হবার ঝুঁকি আছে কাদের?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এ বিষয়ক জরুরী কমিটি গত ২২শে জানুয়ারি জানিয়েছে এই ভাইরাসে আক্রান্ত এবং যারা মারা গেছেন এর বড় অংশের বয়স ৪০ এর বেশী এবং এদের ডায়বেটিকস ও হৃদরোগের মত সমস্যা ছিল । তবে বয়সে তরুণ এমন রোগীর সংখ্যাও কম না । বিষয়টা সম্পুর্ন নির্ভর করে রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর।

কি ধরনের চিকিৎসা এর জন্য প্রযোজ্য?
নির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা নেই এই রোগের । প্রচুর পানি পান,বিশ্রাম এবং সার্বক্ষনিক ডাক্তারের পরামর্শ নেয়ার উপদেশ দেয়া হচ্ছে । এই ভাইরাসের কোন টিকা এখনও তৈরি হয় নি।

এখন পর্যন্ত কোথায় কোথায় এই রোগের আবির্ভাব ঘটেছে?
২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চীনে ১৩০০ জন, আমেরিকাতে ২ জন।
এছাড়া বিচ্ছিনভাবে অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স,হংকং,জাপান, ম্যাকাও, মালয়শিয়া, নেপাল,সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া , তাইওয়ান, থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনামে এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী চিহ্নিত হয়েছে ।

এটা কিভাবে ছড়ায়?
এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট করা যায় নি রোগটা কিভাবে ছড়ায়। তবে সংক্রমণের ধরন দেখে ধারনা করা হচ্ছে এটি আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি থেকে বাতাসের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। তবে এই ভাইরাসের প্রধান উৎস হলো এই ভাইরাসে আক্রান্ত পশু-পাখির দেহ ।

কতটা মারাত্বক এটি?
এটা প্রচণ্ড সংক্রামক। যদিও সার্সের মতো মহামারী এখনো হয় নি। এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ রোগী চীনে পাওয়ার কারণে আমাদের দেশ এখনো অতটা ঝুঁকির সম্মুখীন নয়। তবে বিভিন্ন প্রতিরোধক ব্যবস্থা না নিলে খুব অল্প সময়ে এটি মারাত্বক আকার ধারণ করতে পারে।

এটি প্রতিরোধের জন্য কি কি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে?
চীনে উহান শহরে যাওয়া কিংবা সেখান থেকে বের হওয়ার উপর কঠোর অবরোধ আরোপ করা হয়েছে। ১২ টা শহরকে ঝুকিপূর্ন ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর সহ বিভিন্ন এন্ট্রি পয়েন্টে স্ক্রিনিং পয়েন্ট বসানো হয়েছে ।

কিভাবে এই ভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকা যাবে?
নিমোক্ত কিছু পদক্ষেপ নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই ভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকতে পারেন–
১। মাংস-ডিম খুব ভালোভাবে রান্না করে খেতে হবে ।
২। সাবান,পানি অথবা স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোয়া ।
৩। হাত না ধুয়ে চোখ,কান বা মুখ স্পর্শ না করা ।
৪। বন্য জন্তু কিংবা গৃহপালিত পশুকে খালি হাতে না স্পর্শ করা।
৫। বাইরে গেলে মুখ মাস্ক ব্যবহার করা।
৬। ঠাণ্ডা কিংবা ফ্লু আক্রান্ত রোগীর সাথে সাবধানে মেশা।
৭। বাইরে থেকে আসার পর প্রথমেই নিজেকে পরিষ্কার করবেন


এখানে শেয়ার বোতাম