শুক্রবার, ডিসেম্বর ৪

ঈদের ৭ দিন পূর্বে হোটেল-রেঁস্তোরার শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ও ঈদ বোনাস দাবি

এখানে শেয়ার বোতাম

নিজস্ব প্রতিবেদক:: ঈদুল আজহার কমপক্ষে ৭ দিন পূর্বে হোটেল-রেঁস্তোরা শ্রমিক-কর্মচারীসহ পর্যটন শ্রমিকদের বকেয়া বেতন – ঈদ বোনাস পরিশোধ, ছাঁটাই ও বেতন কর্তন বন্ধ করে করোনাকালে পর্যটন খাতের সকল শ্রমিকদের কাজ ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা এবং করোনায় কর্মহীন পর্যটন শ্রমিকদের প্রতিশ্রুত নগদ সহায়তা ও ত্রাণ সহায়তা প্রদান করার দাবিতে ‘বাংলাদেশ ট্যুরিজম এন্ড হোটেলস ওয়ার্কার্স-এমপ্লয়িজ ফেডারেশন’ এর উদ্যোগে ঢাকায় প্রতীকী মানববন্ধন এবং পর্যটন জেলা কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচী পালিত হয়।

আজ রবিবার (১৯ জুলাই, ২০২০) সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতীকী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

“বাংলাদেশ ট্যুরিজম এন্ড হোটেলস ওয়ার্কাস-এমপ্লয়িজ ফেডারেশন” এর আহবায়ক মোহা: রাশেদুর রহমান এর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আহসান হাবিব বুলবুল এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন যুগ্ম আহবায়ক ফারহানা ইয়াসমিন, খালেকুজ্জামান লিপন, সাহীদুল ইসলাম, শামীম আহমেদ, আহসান হাবিব শেফ, শরিফ আহমেদ, ফরহাদ হোসেন, মহিউদ্দিন রিমেল, আজম আলী, মুরাদ দেওয়ান শেফ, রবিউল আওয়াল শেফ প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমঘন ও বিকাশমান খাত হল পর্যটন শিল্প। প্রত্যক্ষভাবে ১৫ লক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ২৩ লক্ষসহ প্রায় ৪০ লক্ষ অর্ধদক্ষ – দক্ষ, অর্ধ শিক্ষিত -উচ্চ শিক্ষিত শ্রমিক – কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যসহ প্রায় ২ কোটি মানুষ জীবন-জীবীকার জন্য পর্যটন খাতের উপর নির্ভরশীল। ভূ-প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য কে তুলে ধরা আর ভ্রমণ পিপাসু অতিথিদের উপর দক্ষ হাতের আন্তরিক সেবার প্রভাব
সৃষ্টির মাধ্যমে পর্যটন খাত হয়ে উঠতে পারে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের সবচেয়ে বড় উৎস, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। অথচ এই খাতের শ্রমিক – কর্মচারীদের সুরক্ষার জন্য শ্রম আইনের প্রয়োগ নেই। শ্রম আইনে বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র দেওয়া হয় না। নেই সুনির্দিষ্ট মজুরি কাঠামো। ফলে এই শ্রমিকরা নামমাত্র বেতনে চাকরি করা সত্ত্বেও হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, রেষ্টুরেন্ট, ট্রাভেল এজেন্সী, ট্যুর অপারেটর, পর্যটক পরিবহনসহ পর্যটন শিল্পের বিভিন্ন খাতে কর্মরত প্রায় ৪০ লক্ষাধিক শ্রমিক – কর্মচারীদের প্রায় সকলেই করোনাকালে বিনাবেতনে ছুটির নামে কোন ধরনের ক্ষতিপুরণ ছাড়াই কর্মচ্যুত হয়েছে। বিগত চারমাস যাবত উপার্জনহীন অবস্থায় এই শ্রমিকরা পরিবার -পরিজন নিয়ে অর্ধাহার – অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেকে পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হয়েছে। সরকার গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের জন্য প্রথমে ৫ হাজার কোটি টাকা প্রদান করেছিল। এখন আরও সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা প্রদান করবে বলে শোনা যাচ্ছে। অথচ করোনাকালে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের কর্মহীন শ্রমিকদের ত্রাণ সহায়তা প্রদানের কথা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলেও পর্যটন শ্রমিকরা সেই সহায়তা পায়নি। পর্যটন শিল্পের বর্তমান কর্মীদের এই দুরাবস্থা ভবিষ্যতে মেধাবী ও দক্ষ কর্মীদের এই খাতে আসতে নিরুৎসাহিত করবে। যা পর্যটন শিল্পের বিকাশ সম্ভাবনা কে দারুনভাবে বাধাগ্রস্থ করবে।

নেতৃবৃন্দ পর্যটন শিল্পের ভবিষ্যত বিকাশকে নিশ্চিত করতেই এই খাতে প্রণোদনা দিয়ে এই শিল্পের সাথে যুক্ত দক্ষ শ্রমিক – কর্মচারীদের রক্ষা করার আহবান জানান। পাশাপাশি আগামী ২৪ জুলাই ২০২০ এর মধ্যে পর্যটন খাতের সকল শ্রমিকের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করার দাবি জানিয়ে বলেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচালনার শর্তে অবিলম্বে স্পটগুলি খুলে দিয়ে পর্যটন শ্রমিকদের জীবীকা উপার্জনের পথ উম্মুক্ত করা এবং করোনায় কর্মহীনকালিন সময়ে পর্যাপ্ত নগদ ও ত্রান সহায়তা নিশ্চিত করার আহবান জানান।

একই সময় পর্যটন জেলা কক্সবাজারে করোনাকালে কর্মহীন শ্রমিকদের পর্যাপ্ত সহায়তা প্রদান এবং পর্যটন স্পটগুলি চালু করার অনুমতি প্রদান করে জীবিকা অর্জনের সুযোগ দেয়ার দাবিতে “বাংলাদেশ ট্যুরিজম এন্ড হোটেলস ওয়ার্কাস- এমপ্লয়িজ ফেডারেশন” কক্সবাজার জেলা কমিটি কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের নিকট সম্মারকলিপি প্রদান করেন।


এখানে শেয়ার বোতাম