শনিবার, নভেম্বর ২৮

ঈদের ৭ দিন পূর্বে বেতন ও পূর্ণ ঈদ বোনাস পরিশোধ কর: গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: ঈদের কমপক্ষে ৭ দিন পূর্বে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বকেয়াসহ চলতি বেতন ও পূর্ণ ঈদ বোনাস পরিশোধ করা, করোনা দুর্যোগের মধ্যে শ্রমিক ছাঁটাই – নির্যাতন- হয়রানি বন্ধ, শ্রমিকের প্রাপ্য আত্মসাৎ প্রচেষ্টাকারী মালিকদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে শ্রমিকদের প্রাপ্য পাওনা পরিশোধ, সকল শ্রমিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা, করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকের চিকিৎসা ব্যায় ও সর্বোচ্চ ক্ষতিপুরণ নিশ্চিত করার দাবিতে ‘গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট’ এর

আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে “গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট” এর উদ্যোগে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ কর্মসূচী পালিত হয়।

গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি আহসান হাবিব বুলবুল এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি খালেকুজ্জামান লিপন, অর্থ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরিফ, রুহুল আমিন সোহাগ, আনোয়ার হোসেন খান, সংহতি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম এন্ড হোটেলস ওয়ার্কার্স এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের আহবায়ক রাশেদুর রহমান এবং ঢাকা জেলা ট্যাক্সি, ট্যাক্সি কার, অটোটেম্পু, অটোরিক্শা চালক শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর হোসেন প্রমুখ।

বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের শুরুতেই গার্মেন্টস মালিকদের ৫ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দিয়ে মুলত রাষ্ট্র গার্মেন্টস শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের দায়িত্ব গ্রহণ করলেও গার্মেন্টস মালিকরা মানবিকতার ধারধারেননি। বরং গাছেরটি খাব তলারটিও নিব এই রকম অনৈতিক স্বার্থপরতার নীতি অবলম্বন করে সরকারের কাছ থেকে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধের নামে ১৫ হাজার কোটি টাকা গ্রহণ করলেও শ্রম আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ১ বছরের কম সময় চাকরিরত শ্রমিকদের কোন ধরণের ক্ষতিপূরণ না দিয়ে ছাঁটাই করেছে, দীর্ঘদিন চাকরিরত শ্রমিকদের প্রাপ্য পাওনা বঞ্চিত করার উদ্দ্যেশে উস্কানিমূলক আচরণের মাধ্যমে উত্তেজনা তৈরি করাচ্ছে আর সেই উত্তেজনার অজুহাতে ঐ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করে, সন্ত্রাসী দিয়ে আতংক সৃষ্টি করে শ্রমিকদের চাকরি ছেড়ে পালাতে বাধ্য করা হচ্ছে। এক কারখানা থেকে দক্ষ শ্রমিককে ছাঁটাই করে দিয়ে শ্রমিকের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে অন্য কারখানায় কম মজুরিতে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।

মালিকদের এই হীন আচরনের নিন্দা জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, মহামারির সুযোগ নিয়ে শ্রমিকদের জিম্মি করার মালিকদের স্পর্ধা রুখতে শ্রম মন্ত্রণালয়ের দপ্তর সমুহের ব্যার্থতা প্রমাণ করে শ্রমিকদের সুরক্ষায় বিদ্যমান শ্রম আইন অকার্যকর। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, শেষ কার্যদিবসে বেতন পরিশোধ করার কথা বলে মালিকরা মুলত শ্রমিকদের উপায়হীনতার সুযোগ নিতে চাই কিনা সেই সংশয় অমূলক নয়। গার্মেন্টস মালিকরা জানে একই পুরোনো কৌশলের পুনরাবৃত্তি ঘটালেও তাদের শাস্তি পেতে হবেনা। তাই হয়ত ঈদের আগের শেষ কার্যদিবসে চলতি বেতনের অর্ধেক পরিশোধের প্রস্তাব করা হয়েছে। নেতৃবৃন্দ ঈদুল ফেতরের সময়ের মত বেতন-বোনাস পরিশোধে গরিমিসি করে শ্রম অসন্তোষ সৃষ্টি করা হলে উদ্ভুত পরিস্থিতির দায় মালিকদের বহন করতে হবে বলে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন ২৭ বা ৩০ জুলাই ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে চলতি মাসের বেতন এবং পূর্ণ উৎসব বোনাস প্রদান করতে হবে।


এখানে শেয়ার বোতাম