বুধবার, জানুয়ারি ২৭

ঈদের সাত দিন পূর্বে শ্রমিকদের বকেয়া বেতনের দাবিতে বগুড়ায় মানববন্ধন

এখানে শেয়ার বোতাম

বগুড়া প্রতিনিধি:: ঈদের কমপক্ষে সাত দিন পূর্বে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, পূর্ণ উৎসবভাতা পরিশোধ, করোনায় কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষদের নগদ সহায়তা প্রদান, পাটকল বন্ধ নয়-আধুনিকায়ন করা এবং শ্রমিক ছাঁটাই-নির্যাতন বন্ধের দাবিতে-কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত।

আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই ২০২০) সকাল ১১:৩০ টায়, বগুড়া সাত মাথায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারীরীক দুরত্ব বজায় রেখে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধন চলাকালে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের বগুড়া জেলা সভাপতি সাইফুজ্জামান টুটুল, উপস্থিত ছিলেন বাসদ বগুড়া জেলা আহ্বায়ক কমরেড অ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু, শ্রমিক ফ্রন্ট জেলা সহ-সভাপতি শিব সংকর শিবু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুরেশ চন্দ্র দাস মনো, সাংগঠনিক সম্পাদক রায়হান আলী, দপ্তর সম্পাদক শ্যামল বর্মন, প্রচার সম্পাদক সানোয়ার হোসেন বাবু প্রমুখ।

কমরেড অ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমণ এবং মৃত্যুতে মানুষ দুর্বিসহ পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। এই প্রেক্ষিতে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমজীবী মানুষ নানা ভাবে কর্মহীন-উপার্জনহীন হয়ে চরম দুর্দশাগ্রস্থ। বর্তমান পরিস্থিতির স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনায় সকলের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী প্রদানের নিশ্চয়তা দিতে সরকার স¤পুর্ণ ব্যার্থ হয়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছে দেশের প্রায় ৫ থেকে সাড়ে ৫ কোটি শ্রমজীবী মানুষ। বগুড়াতে প্রশাসনিক তথ্যমতে ১ লাখ ৬৪ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে অথচ ১২ টি পৌরসভা মিলে ত্রাণ সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে মাত্র ৩১ হাজার পরিবারকে। করোনা পরিস্থিতিতে সরকার এবং মালিকদের উন্নয়নের ফাঁকা আওয়াজের মুখোশ উম্মোচিত করেছে। শ্রমিকের শ্রমই যে অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি এই সত্যটি সবার সামনে স্পষ্ট হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কয়েকদিন পরেই আমাদের দেশের মুসলিম ধর্মবলাম্বীদের বড় উৎসব ঈদ, তাই ঈদের কমপক্ষে ৭দিন আগে সকল শ্রমিকের বকেয়া বেতন-ভাতা, চলতি মাসের বেতন ও পূর্ণ উৎসবভাতা পরিশোধ করতে সকল মালিক ও সরকারের প্রতি অহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে কমরেড সাইফুজ্জামান টুটুল বলেন, শ্রমিকদের বেতন বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে অনেক মালিক অযৌক্তিকভাবে কারখানা লে-অফ ও শ্রমিক ছাঁটাই করেছে, যা শ্রম আইনের অপপ্রয়োগ। যে সব মালিক শ্রমিক ছাঁটাই করেছে ও কারখানা লে-অফকারী করেছে, সে সকল মালিকদের শাস্তি দিতে হবে। অবিলম্বে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে এবং ইতিমধ্যে যাদের ছাঁটাই করা হয়েছে তাদের কাজে পুনর্বহাল করতে হবে। করোনা দুর্যোগে কর্মহীন ও বেকার হয়ে পড়া শ্রমিকদের মাসিক ৮০০০ টাকা নগদ অর্থ সহায়তা ও রেশনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং ঈদের কমপক্ষে ৭দিন আগে সকল শ্রমিকের বকেয়া বেতন-ভাতা, চলতি মাসের বেতন ও পূর্ণ উৎসবভাতা পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় শ্রমিকেরা রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে আর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তার দায় মালিক ও সরকারকেই নিতে হবে।

অন্যন্য নেতৃবৃন্দ বলেন, রাষ্ট্রীয় পাটকলসমুহ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পাট বাংলাদেশের অতীত ঐতিহ্যের প্রতীক। শুধু পাটকল শ্রমিক নয় পাট চাষি, পাট ব্যবসায়ী এবং পাটের সঙ্গে যুক্ত আছে কোটি কোটি মানুষ। হাজার হাজার শ্রমিক কর্মচারী সহ এক বিশাল জনগোষ্ঠী পাট শিল্পাঞ্চলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে। রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধের এই ধরনের পদক্ষেপ দেশের ঐতিহ্য ও অর্থনীতির একটি প্রধান খাত পাট শিল্পের জন্য ধ্বংসাত্মক এবং আত্মঘাতী। করোনা দুর্যোগের এই সময়ে কারখানা বন্ধের ঘোষণা বেসরকারি মালিকদেরকে শুধু উৎসাহিত করবে তাই নয়, তাদেরকে বেপরোয়া করে তুলবে। শ্রমিক ছাঁটাই করে সরকারের প্রণোদনা নেয়ার প্রবণতা বাড়বে, যার ফলে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিক্ষোভ সৃষ্টি হবে। তাই নেতৃবৃন্দ, রাষ্ট্রীয় পাটকল সমুহ বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে পূর্ণোদ্দমে পাটকলগুলো চালু করা ও পাটকল আধুনিকায়ন করার দাবী জানান।


এখানে শেয়ার বোতাম