শনিবার, নভেম্বর ২৮

ঈদের পূর্বে বেতন পরিশোধের দাবিতে প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সমাবেশ

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: আসন্ন ঈদুল আজহার কমপক্ষে এক সপ্তাহ পূর্বে প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বোনাস (উৎসব ভাতা) পরিশোধ এবং করোনার কারণে কর্মচ্যুত ও কর্মহীন শ্রমিক-শ্রমজীবীদের নগদ অর্থ সহায়তা প্রদানের দাবিতে ২০ জুলাই বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের উদ্যোগে দেশব্যাপী সমাবেশের কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় উদ্যোগে বেলা ১২ টার সময় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সহ-সভাপতি মোঃ খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় সদস্য আতিকুল ইসলাম টিটোর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দত্ত ও রফিকুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক রহমত আলী, বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, করোনা দূর্যোগের মধ্যে মালিকদের দুরভিসন্ধি ও অবহেলার শিকার হয়ে বেতন-বোনাস নিয়ে দুর্ভোগের পাশাপাশি ছাঁটাই এবং লে অফের যন্ত্রণার মধ্যে শ্রমিকরা রমজানের ঈদ প্রচ- কষ্টে অতিবাহিত করেছেন। এপ্রিল, মে ও জুন মাসের শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের জন্য সরকারের নিকট হতে ৫,০০০ কোটি টাকার প্রণোদনা নিয়েও বেতন পরিশোধে তালবাহানা করেছেন অনেক গার্মেন্টস মালিক। এখন জুলাই, আগষ্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বেতন পরিশোধের কথা বলে আরও ৭,৫০০ কোটি টাকা আদায়ে গার্মেন্টস মালিকরা তৎপরতা চালাচ্ছে। মালিকদের স্বার্থরক্ষাকারী সরকারও এই ব্যাপারে ইতিবাচক। অথচ সম্ভবনাময় রাষ্ট্রীয় পাটকলসমূহ আইএমএফ ও বিশ্ব্যাংকের প্রেসক্রিপসনে প্রথমে ব্যক্তিমালিকানা, পরবর্তীতে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে বিশ্বের বৃহত্তম পাটকল আদমজী বন্ধ করে দেশীয় কাঁচা মালের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বিক্রির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমান সময়েও ঐ একই নীতি নির্দেশনায় পরিকল্পিতভাবেই এই মিলগুলোকে চুড়ান্তভাবে বন্ধ ও ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তর করার পথেই হাঁটা হচ্ছে। আর নিজেদের লুটপাট ও ষড়যন্ত্রকে ধামাচাপা দিতে শ্রমিকদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে পরিত্রাণের অপচেষ্টা কার্যকর করা হচ্ছে। পাটকলসমূহ বন্ধ করে পাটের উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল প্রায় এক কোটি জনগণের জীবন ও জীবিকা হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে। বক্তারা এরকম পরিস্থিতিতে কোরবানি ঈদের সময় শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিয়ে সরকার ও মালিকপক্ষকে সতর্ক করে বলেন করোনা দূর্যোগে হোটেল-রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল এবং এখনও অনেক অপ্রতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের কর্মজীবী অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সম্প্রতি কিছু সংখ্যক হোটেল রেস্টুরেন্ট খুললেও অধিকাংশ শ্রমিককে এখনও কাজে নেওয়া হয়নি। শ্রমিকদের এই দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে না কোন মালিক তাদের সহায়তা করছে, না তারা পাচ্ছে সরকারি সহায়তা। ঢাকা শহরের ১৩ লক্ষ গৃহকর্মী, যাদের অধিকাংশই এখন কর্মহীন। তারা না আছে কোন আলোচনায়, না আছে সরকারের কোন সহায়তার তালিকায়। এই সকল শ্রমিক ও কর্মজীবী নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন নির্বাহ করার জন্য ঈদের আগেই পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান করারও দাবি জানান।

বক্তারা বলেন , মালিকদের অবহেলার কারণে ঈদ যেন শ্রমিকদের জন্য আশংকা ও উত্তেজনার বিষয় না হয় সে বিষয়ে নজর রাখার জন্য সরকারের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তর, শ্রমঅধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বেতন বোনাস নিয়ে যে কোন জটিলতা সৃষ্টি হলে তার দায় মালিক ও সরকারকে বহন করতে হবে বলে নেতৃবৃন্দ হুশিয়ারি প্রদান করেন। নেতৃৃবৃন্দ করোনার দূর্যোগকালে চা ও রাবার শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা না করা এবং দীর্ঘ ১৯ মাস অতিবাহিত হতে চললেও মজুরি বৃদ্ধি না করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বর্তমান দ্রব্যমুল্যের ঊদ্ধগতির বাজারে চা-শ্রমিকদের সর্বোচ্চ দৈনিক মজুরি মাত্র ১০২ টাকা। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে বর্তমান বাজারদরের সাথে সংগতি রেখে ৬/৭ জনের একটি শ্রমিক পরিবার সুস্থ্যভাবে বেঁচে থাকার প্রয়োজনে চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৬৭০ টাকার নির্ধারণ করার দাবি জানান। সমাবেশ থেকে বক্তারা রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সমূহ বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল এবং সকল ধরনের ছাঁটাই ও লে-অফ বন্ধ, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, নৌযানসহ সকল ধরনের পরিরহন, স’মিল, পাদুকা, বারকি, লোকাল গার্মেন্টস, দর্জি, মুদ্রণ, পুস্তক বাঁধাই, নির্মাণ, পরিচ্ছনতা কর্মী, রিকশা-ঠেলা-ভ্যান শ্রমিক, হকারসহ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের সকল শ্রমিকদের কাজ, খাদ্য, চিকিৎসার নিশ্চয়তা ও রেশন চালুর দাবিতে আপোসহীন সংগ্রাম গড়ে তোলার আহ্বান জানান।


এখানে শেয়ার বোতাম