শনিবার, নভেম্বর ২৮

ঈদের আগে সকল শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করার দাবি শ্রমিক ফ্রন্টের

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: দেশব্যাপী ঘোষিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট ঢাকা মহানগর শাখার উদ্যোগে আজ ১৭ জুলাই সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে “দুর্নীতি ও লুটপাটের দায় শ্রমিকের উপর চাপিয়ে পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, পিপিপি নয় পাটকলের আধুনিকায়ন করা, ঈদের এক সপ্তাহ আগে সকল শ্রমিকের বকেয়া মজুরী ও বোনাস পরিশোধ, সরকারী খরচে সকল শ্রমিকের করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসা এবং শ্রমিকদের রেশন ও খাদ্য সহায়তা প্রদানের দাবিতে “ সমবাশে ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের মহানগর শাখার সাধারন সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিপন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি, স্কপের শীর্ষ নেতা, শ্রমিক জননেতা কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন। সংগঠনের মহানগর কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এড.ফারুখ হোসেন, সহ-সম্পাদক মনির হোসেন মলি, আইন বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান,দপ্তর সম্পাদক রুবেল মিয়া।

সমাবেশে বক্তাগন বলেন, ২৫ টা পাটকল আধুনিকায়নে স্কপের এর সুপারিশ অনুযায়ি ১ হাজার কোটি বরাদ্দ করলে ২৫ হাজার টাকা মাসিক নিম্নতম মজুরি দিয়েও লাভজনক করা সম্ভব ছিল। কিন্তু সরকার ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক এর নামে এই করোনা দুঃসময়ে স্থায়ী-অস্থায়ী ৭০ হাজার শ্রমিক ছাঁটাই করার ব্যবস্থা করেছে। শ্রমিকদের করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার ব্যপারে মালিকদের আগ্রহ না থাকলেও সরকার থেকে নগদসহ নানা প্রণদোনা নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। মালিকরা শ্রমিক-ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধ অব্যাহত রাখলেও ইতোমধ্যে এপ্রিল-মে-জুন মাসে তিন মাসের শ্রমিকদের মজুরি বাবদ ৫ হাজার কোটি বরাদ্দের কথা জানা গেলেও তারা ইতোমধ্যে ৭ হাজার ৫ শত কোটি নিয়েছে এবং জুলাই-আগষ্ট-সেপ্টেম্বর মাসের মজুরি বাবদও তাদের জন্য আরোও ৭ হাজার ৫ শত কোটি বরাদ্দ ঘোষণার কথা শোনা যাচ্ছে। সব মিলে গার্মেন্টস মালিকদের ইতোমধ্যে ১৫ হাজার কোটি টাকার নগদ প্রণোদোনা দেয়া হচ্ছে, এবং সরকারের পক্ষ থেকে আরোও লাগলে দেয়া হবে সেই আশ্বাস দেয়া হচ্ছে। গত ৪০ বছরে পাট খাত ১০ হাজার কোটি টাকা লোকসান দেওয়ার অপবাদ দিয়ে আর নগদ সহায়তা দেয়া সম্ভব নয় বলে পাটকল ব্যক্তি মালিকদের হাতে তুলে দেওয়ার আয়োজন করছে আর অন্যদিকে গার্মেন্টস খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা প্রণোদোনা দিতে সরকারের কোন আর্থিক সংকট হয় না।

বক্তাগন আরোও বলেন, ঈদের ৭ দিন পূর্বেই সকল শ্রমিকের বকেয়া বেতন-বোনাস পরিশোধ করতে হবে।কোন কারখানা মালিক বেতন-বোনাস দিতে ব্যর্থ হলে এবং এ থেকে যে কোন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তার দায় দায়িত্ব সরকার ও মালিককেই নিতে হবে।

বক্তাগন, করোনা মোকাবিলায় সরকারি খরচে সকল শ্রমিকের করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসা দায়িত্ব নেওয়া, করোনা প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পরা শ্রমজীবী মানুষদের নগদ সহায়তা প্রদান, রেশন ও খাদ্য সহায়তা দিতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান এবং শ্রমিক ছাঁটাই-নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা বন্ধ করারও জোর দাবি জানান।


এখানে শেয়ার বোতাম