শনিবার, জানুয়ারি ২৩

ঈদের আগে শ্রমিকদের পূর্ণ বেতন-বোনাস পরিশোধ করার দাবি

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: ঈদের আগে গার্মেন্টসসহ সকল সেক্টরের শ্রমিকদের পূর্ণ বেতন-বোনাস পরিশোধ, লে-অফ ও ছাঁটাই বন্ধ করার দাবিতে বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন, সিলেট জেলার বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত।

ঈদের আগে গার্মেন্টসসহ সকল সেক্টরের শ্রমিকদের পূর্ণ বেতন-বোনাস পরিশোধ, লে-অফ ও ছাঁটাই বন্ধ করার দাবিতে বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন,সিলেট জেলার বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন আজ ২৪ জুলাই বিকাল ৪টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সামনে অনুষ্ঠিত হয়।সংগঠনের আহবায়ক মুখলেসুর রহমান এর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সদস্য প্রসেনজিৎ রুদ্র, করমলাল,কীর্তিবাস ঋষি,অজিত রায়,আমেনা বেগম প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, “করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি হবার পরেও সরকার মালিকশ্রেণির চাপে দেশের বৃহত্তম শিল্পখাত গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন কারখানাগুলো খুলে দেয়া হয়েছে। বন্ধ চলাকালে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধের জন্য সরকার ৫০০০ কোটি টাকা প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল। অথচ শ্রমিকদের সবেতন ছুটি না দিয়ে বিজিএমইএ-র নেতৃত্বে গার্মেন্টস মালিকরা প্রথমে লে-অফ ঘোষণার মাধ্যমে এবং পরবর্তীতে সরকারের সম্মতিতে বন্ধকালীন সময়ে ৬৫% মজুরি প্রদানের ঘোষণার মাধ্যমে মজুরি কর্তন করেছে। দেশে সংক্রমণ উচ্চহারে বাড়া সত্ত্বেও গত ২৬ এপ্রিল থেকে গার্মেন্টস খুলে দিয়ে শ্রমঘন এ শিল্পে শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজে যোগদানে বাধ্য করেছে।মুনাফালোভী মালিকদের এই দায়িত্বহীন ও অমানবিক সিদ্ধান্তের ফলে গোটা দেশে লকডাউন শিথিল হয়ে পড়েছে। এরপরেও বিভিন্ন সেক্টরে অর্থনৈতিক সংকটের অজুহাতে শ্রমিকদের ছাঁটাই করছে ও বেতন এখনো ঠিকমত পরিশোধ করছে না। আবার অন্য দিকে ২৫টি পাটকল বন্ধ করে পাটশিল্পকে বেসরকারিকরন করে পাটশ্রমিক ও পাটচাষিকে অনিশ্চয়তা ও দুর্বিষহ জীবনের দিকে ঠেলে দিয়েছে সরকার। বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবিতে ও শ্রমিক ছাঁটাই, বেতন কর্তনের প্রতিবাদে শ্রমিকরা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভে নামলে তাদের ওপর পুলিশী হামলা চলেছে।”

সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন, “লকডাউনের কারণে কর্মহীন অপ্রাতিষ্ঠানিক সেক্টরের ৫ কোটি শ্রমিকদের জন্য সরকারের কোন আয়োজন নেই। কাজের পরিপূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়া না থাকাসহ বিভিন্ন কারনে নির্মান শ্রমিক, হকার,দোকান কর্মচারী, পরিবহন শ্রমিক, দর্জি শ্রমিক, হোটেল শ্রমিক, দিনমজুর, রিক্সাচালক, গৃহপরিচারিকা, পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা তাদের বেতন-ভাতা পাচ্ছে না। ফলে তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী ক্রয় করতে পারছে না। ছেলে মেয়েদের নিয়ে তাদের না খেয়ে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। অন্যদিকে করোনাকালীন সময়ে সবেতন চা বাগান বন্ধ করার দাবি উঠলেও তাতে কর্নপাত করেনি বাগান মালিকরা।এই দাবিকে উপেক্ষা করে চা বাগান চালু করলেও কোন ঝুঁকি ভাতা দেওয়া হয়নি।চা বাগানে চুক্তি হয়নি গত প্রায় ২ বছরে। বক্তারা নতুন চুক্তি সম্পাদন,৪০০ টাকা দৈনিক মজুরি প্রদানসহ বিভিন্ন দাবি জানান। আবার কাজ তো বন্ধ নেই এই অজুহাতে পর্যাপ্ত ত্রানও দিচ্ছে না সরকার।আমাদের সরকার শ্রমিকদের জীবন চালানোর মত খাদ্য-অর্থ সহায়তা তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা না করায় এসব শ্রমিকরা কাজের খোজে বা ত্রাণের সন্ধানে বাইরে ভীড় করছে, ফলে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। সারা দুনিয়ায় মানুষ স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন, মানুষকে ঘরে রাখার জন্য নানা আয়োজন করা হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে যাদের সর্বাধিক অবদান সেই শ্রমিকদের রক্ষায় সরকার কোন দায়িত্ব পালন করছে না। কিভাবে মালিকদের ক্ষতি পোষানো যায় – সে লক্ষ্যে সরকার তৎপর। এই পরিস্থিতি আরো একবার প্রমাণ করলো – এই সরকার ও রাষ্ট্রব্যবস্থা পুঁজিপতি মালিকশ্রেণীর স্বার্থ রক্ষাকারী, শ্রমিকদের তারা মানুষ বলে গণ্য করে না, মুনাফা উৎপাদনের কল-কব্জা হিসেবে দেখে।”

সমাবেশে বক্তারা দাবি জানান-ঈদের আগে সকল সেক্টরের শ্রমিকদের ১০০% বেতন বোনাস পরিশোধ করতে হবে। লে-অফ, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে। শ্রমজীবী ও নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য খাদ্য-অর্থ ও চিকিৎসা সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর পুলিশী হামলা বন্ধ করতে হবে, তাদের ন্যায্য দাবি মানতে হবে।


এখানে শেয়ার বোতাম