মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৬

ঈদের আগে বকেয়া মজুরি ও বোনাস পরিশোধের দাবি বাংলাদেশ স’মিল শ্রমিক ফেডারেশনের

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 335
    Shares

অধিকার ডেস্ক:: আসন্ন ঈদুল আজহায় স’মিল শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও দেড় মাসের মজুরির সমপরিমান বোনাস পরিশোধ করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ স’মিল শ্রমিক ফেডারেশন রেজিঃ নং বি-২২০০ এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোঃ খলিলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস।

নেতৃবৃন্দ এক যুক্তবিবৃতিতে উল্লেখ করেন করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক মহামারীতে তিন মাস কর্মহীন ছিলেন দেশের কয়েক লাখ স’মিল শ্রমিক। বর্তমানে স’মিল প্রতিষ্ঠান চালু হলেও এখনও অনেক শ্রমিককে কাজে নিযুক্ত করা হয়নি। করোনা দূর্যোগের মধ্যে মালিকদের অবহেলার শিকার হয়ে বেতন-বোনাস নিয়ে দুর্ভোগের মধ্যে স’মিল শ্রমিকরা রমজানের ঈদ প্রচ- কষ্টে অতিবাহিত করেছেন। মালিকদের অবহেলার কারণে আসন্ন ঈদুল আজহা যেন শ্রমিকদের জন্য আশংকার বিষয় না হয় সে বিষয়ে নজর রাখার জন্য সরকারের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তর, শ্রমঅধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। নেতৃবৃন্দ আগামী ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে সকল শ্রমিকদের বকেয়া পূর্ণ মজুরি ও দেড় মাসের মজুরির সমপরিমান উৎসব বোনাস প্রদান করার দাবি জানান।

নেতৃবৃন্দ করোনা দূর্যোগে স’মিল শ্রমিকরা কোন রকম সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন স’মিল শ্রমিকরা কঠিন পরিশ্রম করে যে মজুরি পান তা দিয়ে একজন শ্রমিক পরিবারের ১০ দিনও চলে না। ঝুঁকিপূর্ণ স’মিল সেক্টরের শ্রমিকদের চাকুরির নিশ্চয়তা ও জীবনের নিরাপত্তা নেই। শ্রমিকদের ছেলে মেয়েদের শিক্ষার ব্যয় বহণ করা সম্ভব হয় না বিধায় শ্রমিক সন্তানরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। শ্রমিকদের দাবি ও আন্দোলন সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে সরকার গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪ স’মিল শিল্প সেক্টরে নি¤œতম মজুরির গেজেট প্রকাশ করেন। শ্রম আইন অনুযায়ী ৫ বছর অন্তর নি¤œতম মজুরি নির্ধারণ করার বিধান রয়েছে। কিন্তু প্রায় ৬ বছর হতে চললেও নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হচ্ছে না। তাই স’মিল শিল্প সেক্টরে নি¤œতম মজুরি বোর্ড গঠন এবং বাজারদরের সাথে সংগতিপূর্ণ মজুরি নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ জরুরী। স’মিলের মালিকরা শ্রমআইন, রাষ্ট্রীয় আইনের তোয়াক্কা করে না। শ্রমআইন অনুযায়ী নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিসবুক প্রদান, দৈনিক ৮ ঘন্টা কাজ, অতিরিক্ত কাজের দ্বিগুণ মজুরি, মজুরিসহ সাপ্তাহিক ছুটি, নৈমিত্তিক ছুটি(বছরে ১০ দিন), চিকিৎসা ছুটি(বছরে ১৪ দিন), উৎসব ছুটি(বছরে ১১ দিন) অর্জিত ছুটি(বছরে ২০ দিন) ইত্যাদির প্রদানের বিধান থাকলেও তা প্রদান করা হয় না। শ্রমিকদের কথায় কথায় ছাঁটাই করা হয় কিন্তু আইন অনুযায়ী ৪(চার) মাসের নোটিশ পে, প্রতিবছর চাকরির জন্য ৩০/৪৫ দিনের গ্রাচুয়েটি প্রদান করা হয় না। অথচ শ্রমদপ্তর ও কলকারখানা প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মালিকদের বেআইনী কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে কার্যকর কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।

এরকম অবস্থায় নেতৃবৃন্দ আসন্ন ঈদুল আজহায় সকল শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ এবং দেড় মাসের মজুরির সমপরিমান উৎসব বোনাস প্রদান, কর্মহীন হয়ে পড়া মানবেতর জীবনযাপন করা স’মিল শ্রমিকদের জন্য সরকারের উদ্যোগে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ বরাদ্দ, খাদ্যসহায়তা প্রদান, রেশনিং চালু এবং অবিলম্বে স’মিল শিল্প সেক্টরে নি¤œতম মজুরি বোর্ড গঠন এবং বাজারদরের সাথে সংগতিপূর্ণ মজুরি নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করার জোর দাবি জানান।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 335
    Shares