শনিবার, ডিসেম্বর ৫

আল-জাজিরার অফিসে মালয়েশিয়ান পুলিশের তল্লাশি

এখানে শেয়ার বোতাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: অভিবাসীদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে প্রামাণ্যচিত্র প্রচারের ঘটনায় মঙ্গলবার কুয়ালালামপুরে আল-জাজিরার অফিসে তল্লাশি চালিয়ে কম্পিউটার নিয়ে গেছে মালয়েশিয়ান পুলিশ। আল-জাজিরার পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

‘‘লকড আপ ইন মালয়েশিয়া’স লকডাউন’’ শিরোনামের ওই প্রামাণ্যচিত্রে কথা বলে বিপদে পড়েছেন বাংলাদেশের রায়হান কবির নামের এক যুবক। তিনি ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

আল-জাজিরার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুলিশ তাদের অফিসে হানা দিয়ে দুটি কম্পিউটার নিয়ে গেছে।

বাংলাদেশের রায়হান কবিরকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি আল-জাজিরার সাত সাংবাদিককে এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

কী আছে ওই প্রামাণ্যচিত্রে: ‘‘লকড আপ ইন মালয়েশিয়া’স লকডাউন’’ শিরোনামের প্রামাণ্যচিত্রে শুধু বাংলাদেশ নয়, আরো কয়েকটি দেশের অভিবাসীরা নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। প্রায় ২৬ মিনিটের ভিডিওটিতে সাড়ে পাঁচ মিনিটের দিকে রায়হান কবিরকে দেখা যায়।

ভয়েস ওভারের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির চোয়াক জেলায় থাকেন রায়হান। উপস্থাপককে নিজের মোবাইলে একটি ভিডিও দেখান তিনি। সেই ভিডিওতে মালয়েশিয়ান প্রশাসনের কিছু পদক্ষেপের দৃশ্য ছিল। দেখা গেছে, ৬০০ মানুষকে তারা ট্রাকে করে অন্য কোথাও নিয়ে যাচ্ছেন।

রায়হানের অভিযোগ, ‘তারা আমাদের ফাঁদে ফেলেছে। ওষুধ, খাবারসহ সবকিছু দিয়েছে। কিন্তু কেউই বুঝতে পারেনি গ্রেপ্তার করা হবে। তারা খুনি নয়, সন্ত্রাসী নয়। শুধু কাগজপত্রহীন অভিবাসী।’

রায়হানের অবশ্য কাগজপত্রের সমস্যা নেই। বৈধ ওয়ার্ক পারমিট নিয়েই দেশটিতে যান তিনি। তবে হৃদয় নামে তার এক বন্ধুর ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ায় পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে।

‘আমার বন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু দোষ তার নয়,’ দাবি করে রায়হান বলেন, ‘তার কোম্পানি ভিসা নবায়ন করেনি। আমি ইমিগ্রেশনে গিয়েছি, পুলিশের কাছে গিয়েছি। আমার বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গেটে কান্নাকাটি করেছি।’

ভিডিওতে আরেক বাংলাদেশির কথা বলা হয়েছে, যিনি ২০ বছর ধরে দেশটিতে আছেন। উপস্থাপককে নিয়ে রায়হান তার কাছে যান। লকডাউনের সময় তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। রায়হান ইংরেজিতে কথা বললেও ওই ব্যক্তি বাংলায় নিজের দুর্দশার বর্ণনা দেন।


এখানে শেয়ার বোতাম