রবিবার, মে ১৬
শীর্ষ সংবাদ

আলোকচিত্র, সমালোচনার ভাষা ও অন্যান্য

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 20
    Shares

বেলাল আহমেদ ::

‘অন্ধকার শিকারি, ক্যামেরাচো…’, ‘এই গুরুচো…দের সাংবাদিক বলছেন কেন?’ এ শব্দগুলো সাংবাদিকদের নিয়ে লিখেছেন যতট না কবি তারও অধিক প্রুফ রিডার আবিদ ফয়সাল। থুথুও নয়, ঘৃণাও নয়, আপনার জন্য করুণা।


শেরো ভাই এই পোস্টে এসে লিখেছেন, ‘মিডিয়াচো… সাং…’। শেরো ভাই আমি হতাশ হয়েছি, ক্লান্ত হয়েছি। আপনার পরিবারের আরও দু’একজন মানুষ আমার সঙ্গে যুক্ত, আমি জানি ভাষার এমন ব্যবহর দেখলে তারাও হতাশ হবেন।

আপনারা কবিতা এবং সংস্কৃতির সুস্থতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে দিলেন, এতদিনের চর্চাগুলোকে আপনাদের ভাষায় ‘চো…’ দিয়েছেন।

চলুন সাংবাদিকতা নিয়ে, বিশেষ করে বিশ্বের এই ক্রান্তিকালে সাংবাদিকদের নিয়ে বিশ্বভাবনাটা একটু দেখে আসি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য মিরর-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে খ্যাতনামা কলামিস্ট সুসি বোনিফেস লিখেছেন, ‘একটি ধনী দেশ তার নিজস্ব অর্থনীতিতে বিধিনিষেধ আরোপ করলেই লোকজন ঘরে বসে থাকে না। দারিদ্র্য মোকাবিলায় একটি ডানপন্থী সরকারের সমাজতান্ত্রিক পরিবর্তনকে আলিঙ্গনও খুব সহজ বিষয় নয়। ৬৬ মিলিয়ন মানুষকে ঘরে রাখার মতো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নও কষ্টসাধ্য। এর সবগুলো ক্ষেত্রেই সাংবাদিকদের প্রয়োজন রয়েছে। কেননা, সংবাদমাধ্যমগুলোই নানা বয়সের, নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে এসব বিষয়ে সচেতন করতে পারে।’

যে ছবিগুলো নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে সে ছবি নিয়ে একটু ব্যবচ্ছেদ করা যেতে পারে সঙ্গে সেই আলোকচিত্রিদেরও।

যারা ছবি তুলার কাজটি করেন তাদেরকে অনেক কিছুই পাত্তা না দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। সেটা যুদ্ধের সময় হোক আর বিপন্ন যেকোন সময়েই হোক। এর সঙ্গে তার দুটি বিষয় খুব নিবিড় ভাবে যুক্ত থাকে এক. ক্যারিয়ারের সাফল্য আর অন্যটি প্রেম। সেটা দেশপ্রেমও হতে পারে আবার কাজের প্রতি প্রেমও ধরে নিতে পারেন।

চলুন কেন এমন ঝুঁকি নিয়ে তারা এ কাজ করেন সেটা স্পষ্ট করতে আবার কলামিস্ট সুসি বোনিফেসের দ্বারস্থ হব, তার আগে ছবি দু’টির গল্প আরেকটু করে নেই।

গত শুক্রবার সরকারি এক আদেশে জুমা’র নামাজে দশজনের অধিক অংশগ্রহন করতে মানা করা হয়েছিল। যে ছবিটিতে দুইপাশে অসংখ্য আলোকচিত্রি ও ভিডিও চিত্র ধারণ করতে আমারা যাদেরকে দেখি তারা এ দেশের বিভিন্ন খ্যাতনামা সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক। তাদের হাতে ক্যামেরা দেখে ভাববেন না এরা মূর্খ, অসেচতন। কারন এখানে যারা কাজ করেন তারা সকলেই কোন না কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে ক্যারিয়ার গড়তে এ পেশাকে বেছে নিয়েছেন। কেন? আপনি ভাবছেন অনেক টাকা উড়ে এ পেশায়? না। মোটেই না। এ পেশা ঝুঁকির, এ পেশা অনিশ্চয়তার। আপনি ভাবছেন তারা আপনার চেয়ে কম বুঝদার, অসচেতন? মোটেই না। এ ঝুঁকি তারা নিয়েছেন দেশের মানুষের জন্য। যে মসজিদটিতে এ ছবি নেয়া হয়েছে সেটি দেশের অন্যতম প্রধান মসজিদ ‘বায়তুল মোকাররাম’।

এ ছবিটি একারনেই গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে শতশত মুসল্লিকে পাড়ার মসজিদগুলো থেকে ফেরানো যাচ্ছে না সে সময় এ ছবিটি দেখে হয়ত সাধারণ মানুষের বোধোদয় হবে। ঘরে থাকবে মানুষ। নামাজের জন্য মসজিদে ভিড় করবে না। নিরাপদ থাকবেন আপনি, আমি, সমাজ এবং এ দেশটি।

সুসি বোনিফেসের কথা বলেছিলাম। চলুন এ বিষয়ে তার কিছু লাইন পড়ে আসি।

‘উহানে মহামারি ছড়িয়ে পড়ার নিরবতা ভেঙেছিল সাংবাদিকতা। যখন চীনা কর্তৃপক্ষ ভুল তথ্য প্রকাশ করছিল, বারবার একই তথ্য দিচ্ছিল তখনও তা সামনে আনে সাংবাদিকরা। যেখানেই এসব মিথ্যা প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে সেখানেই তা প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমগুলো। ইরানে, উত্তর কোরিয়াতেও এসব সত্যি হয়ে উঠছে। চীন যেভাবে সত্য থামিয়ে রাখতে পারেনি সেভাবেই এসব দেশগুলোও এখন তা পারছে না। সাংবাদিকদের প্রকাশিত খবর এক পর্যায়ে শোরগোল তোলে। এ নিয়ে তদন্ত হয় আর শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। সংবাদমাধ্যমগুলো দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চূড়ান্ত পরিস্থিতিও প্রকাশ করে।’- লিখেছেন সুসি বোনিফেস।

এই ব্রিটিশ কলামিস্ট বলেন, সাংবাদিকতা না থাকলে মজুদ চলতে পারে, এমনকি লুটও হতে পারে। পুলিশ তার নতুন ক্ষমতা নিয়ে আরও উদ্দীপনার সঙ্গে ভুল করে যেতে পারে। পত্রিকায় বা সন্ধ্যার খবরে ছবি ছাপা হবে না জেনে মানুষ আরও বেশি সমুদ্রের তীরে যাবে। ফলশ্রুতিতে আরও বেশি সংক্রমণ হবে এবং আরও বেশি মৃত্যু হবে।

সুসি বোনিফেসের ভাষায় অন্য যেকোনও কাজের চেয়ে সাংবাদিকতাই যে সবচেয়ে বেশি মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে তা প্রমাণ করার আর কোনও উপায় নেই। সে কারণে আমরা ওষুধ, শিক্ষা, স্যানিটেশন ও রাজনীতির পাশাপাশি আমাদের কাজ চালিয়ে যাই। সে কারণেই আমরা গুরুত্বপূর্ণ কাজের তালিকায় থাকি। আর সে কারণে আমাদেরও করোনাভাইরাসে ধরে।

আমরা নির্ভুল নই। আমরা কখনোই আপনাদের ধন্যবাদ দাবি করি না।

লেখক : নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক সিলেট মিরর


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 20
    Shares