মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৬

আম্পান: রাতভর বৃষ্টি আর ১৫ ফুট পর্যন্ত উচ্চতায় জোয়ার হতে পারে

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 17
    Shares

অধিকার ডেস্ক:: ঘূর্ণিঝড় আম্পানের মূল অংশ বাংলাদেশে না এলেও এর প্রভাবে আজ রাতভর ঝড়ো বা দমকা হাওয়া বইবে পুরো উপকূলজুড়ে। আর ঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টি আর স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানির উচ্চতা বেশি হওয়ার কারণে উপকূলবর্তী নিম্নাঞ্চলসহ আশেপাশের জেলা শহরগুলো প্লাবিত হবে। আবহাওয়া অধিদফতরের আশঙ্কা, জোয়ারের সময় ১০ থেকে ১৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। এতে মাছ, গবাদিপশু, আমসহ বিভিন্ন মৌসুমী ফল ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে উপকূলের বিভিন্ন পয়েন্টে বেরিবাঁধ ভেঙে নোনাপানি ঢুকে পড়ায় এরইমধ্যে ডুবে গেছে অনেক গ্রাম।

এদিকে ঝড়ে উপড়ে পড়েছে বিপুল পরিমাণ গাছপালা। বিদ্যুতের খুঁটির ওপর গাছ পড়ে সাতক্ষীরা শহর দুপুর থেকেই বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে। ফলে পুরো উপকূলবাসী এ মুহূর্তে আছেন চরম ভোগান্তির মধ্যে। এছাড়াও খাবার পানির সংকট এবং পয়োঃনিষ্কাশনের সমস্যার কারণে বেশ ঝামেলায় পড়েছেন বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করা মানুষরা।

বর্তমানে আম্পানের মূল অংশ অর্থাৎ কেন্দ্র ভারতের মধ্য দিয়েই যাচ্ছে। কিন্তু এর ব্যাস বড় হওয়ার কারণে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা, খুলনা জেলা ও সুন্দরবনের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে এই ঝড়। এসব জেলাসহ আশেপাশের এলাকাগুলোতে এখন ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। রাতে উপকূলীয় জেলাগুলোতে জোয়ারের সময় পানি উঠবে অনেক বেশি পরিমাণে। এখনই উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলগুলো ৫ থেকে ৭ ফুট পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি ভারী বৃষ্টি হবে প্রায় সারারাতই। আবহাওয়া অধিদফতর ধারণা করছে, জোয়ারের সময় ১০ থেকে ১৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।

জানা যায়, রাত দশটার পর থেকে উপকূলে এই জোয়ার আসার কথা রয়েছে। উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর এরইমধ্যে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জোয়ার শুরু হলে পানি আরও বাড়বে।

আবহাওয়া অধিদফতরের মহাপরিচালক শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, আম্পান এরইমধ্যে উপকূল অতিক্রম করেছে। এটি এখন ধীরে ধীরে দুর্বল হবে। এরইমধ্যে উপকূলের নিচু এলাকা ৫ /৬ ফুট পানি এসে প্লাবিত। এছাড়া ঝোড়ো হাওয়াসহ ভারী বৃষ্টি হবে প্রায় সারা রাতই। এতে পানির উচ্চতাও বাড়বে।

এদিকে আবহাওয়াবিদ কামরুল হাসান বলেন, আগামী তিন চার ঘণ্টা ঝড় চলবে, দেশের প্রায় সব এলাকা বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলে এই অবস্থা থাকবে। এরপর ভারী বৃষ্টি হতে পারে সারারাত। এই ভারী বৃষ্টির কারণে প্রচুর এলাকা প্লাবিত হবে।

সাতক্ষীরা ও খুলনা অঞ্চলের কাছ দিয়ে পরে এর প্রভাব পড়বে যশোর ও নড়াইল জেলায়। এরপর রাত ১২ টা থেকে ১টার মধ্যে ঝড়ের প্রভাব পড়বে মাগুরা, গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ী, সিরাজগঞ্জ থেকে জামালপুরের দিকে। এরপর সকালের দিকে সারারাতের বৃষ্টিতে রাজশাহীর দিকে গিয়ে নিম্নচাপে রূপ নেবে বলে আবহাওয়া অধিদফতর আশা করছে।

এদিকে আবহাওয়া সতর্কবার্তায় বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় এবং দ্বিতীয় পক্ষের চাঁদের সময়ের শেষ দিনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষীপুর, চাদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

আরও বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম জেলাগুলো এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোতে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়ার বৃষ্টির পূর্বাভাসেও বলা হয়, দেশের প্রায় সব জেলায় ভারী বৃষ্টি অর্থাৎ ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার থেকে অতিভারী বৃষ্টি অর্থাৎ ৮৯ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হতে পারে।

আজ বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে ফেনীতে ৮০ মিলিমিটার। এছাড়া ঢাকা বিভাগের মধ্যে গোপালগঞ্জে ৩৪, রাজশাহী বিভাগের মধ্যে ঈশ্বরদীতে ২০, খুলনা বিভাগের মধ্যে মংলায় ৭৩, এছাড়া সাতক্ষীরায় ৬৪, যশোরে ৫৭,, বরিশালে ৪৮, পটুয়াখালীতে ৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 17
    Shares