মঙ্গলবার, মে ১১
শীর্ষ সংবাদ

আমরা কি হেরে যাব করোনার কাছে?

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 15
    Shares

ডা সুশান্ত বড়ুয়া ::

আমরা মানে মানবজাতির কথাই বলছি। আমি নিজে চিকিৎসক হিসেবে বসে বসে অনেক হতাশায় দিন গুনছি এই নতুন অদৃশ্য শত্রুর আক্রমণ ভেবে ভেবে।কারণ এর সমাধান এখনো হাতে পৌঁছেনি। এরচেয়ে ভয়ংকর অনেক রোগ আছে তা জেনে ও কোনদিন অসহায় বোধ করিনি কারণ তার চিকিৎসা আমাদের জানা আছে। যেমন এক সময় ক্যানসারের বা এইডস র কোন answer ছিল না কিন্ত তার ও বেশির ভাগ answer আমাদের আছে যদি সময় মত নির্ণয় হয়।

আশার কথা হলো বিশ্বের বিজ্ঞানীরা বসে নেই, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা প্রায় দু’ডজনের ও বেশি দেশের সাইন্টিস্ট রা The Solidarity নামে একটা গ্রুপ এবং The Discovery নামে ইউরোপ র আরেক গ্রুপ দিনরাত চেষ্টা চালাচ্ছে কি করে এন্টিকরোনা ড্রাগ দ্রুত বের করা যায়। কোন কোন দেশ আশাবাদী ফল ও ইতিমধ্যে পেয়েছে। যেমন হাড্রক্সিক্লোরোকুইন আর Convalescent plasma ট্রান্সফিউশন।দুটোর মধ্যে দ্বিতীয় টির তত্ত্বগত ভিত্তি আছে। আর প্রথমটা অফ লেবেল ব্যবহার করতে বলা হচ্ছে।

ভেকসিনের জন্য চেষ্টা করছে প্রায় ২৬ র অধিক গবেষণাগার।যেকোন ভেকসিন মানবদেহে সফল প্রয়োগে যেতে বছর থেকে দেড় বছর সময় লাগে। এক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা ট্রাই করছে কত কম সময়ে আনা যায়। জাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রুপ বলছে ৬ মাস নাগাদ সময়ে প্রয়োগে যাবে। কাজেই আমরা হারতে পারি না, হারব না এটা নিশ্চিত। চুড়ান্ত বিজয় অর্জন করতে করতে হয়তো কিছু মানুষকে আমরা হারাব তারপরও তো একদিন না একদিন মানবজাতির জয় হবেই। ইতিমধ্যে আমরা অনেক প্রিয়জনকে হারিয়েছি।ইউরোপ আমেরিকান যেই হোক যিনি গত হয়েছেন তিনি কার ও না কারো অতি আপনজন- আমরা বাংলাদেশে বসে সেই বেদনা অনুভব করলেই কেবল নৈতিক অধিকার জন্মায় বিশ্ব বিজ্ঞানের আবিস্কৃত ঔষধ পাবার এবং ভেকসিন সুবিধা পাবার।

সেই দৃষ্টিতে দেখলে সাহস আর ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুতি নিতে হবে আমাদের। এখনি যে যে অবস্থানে আছি, যার যা আছে তাদিয়ে তা নিয়ে যেন মানুষের পাশে দাঁড়াই।

ভয় পাব না আমরা

ইতিমধ্যে যে ডাটা তা বিশ্লেষণ করলে আমরা বলে দিতে পারি – করোনায় মৃত্যু হার চায়নায় ৩%, ইতালিতে ৯%। অর্থাৎ সবাই যদি আক্রান্ত ও হই ৯০থেকে ৯৭ পার্সেন্ট আমরা বেঁচে যাব। মানে আমরা মরব এবং বাঁচব দুটোই অবধারিত।
আমরা জেনে গেছি মরতে হবে। কিন্তু কোনভাবেই যেন মনুষ্যত্ব না মরে সেই চেষ্টা করতে হবে যারা বেঁচে যাবেন তাদেরকেই।

বাংলাদেশ কেন বেশি ঝুঁকিতে পড়ল?

যা ঘটে গেল তার ক্ষতি কোনভাবেই পোষানো সম্ভব নয়। তারপরও কারণ গুলো খতিয়ে দেখতে হবে। না হয় আরো ক্ষতির মুখে পড়ব এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।

প্রথমমত – স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অদক্ষতা এবং অযোগ্যতা সেটা সবার কাছে ক্লিয়ার। মন্ত্রী স্বয়ং ডাক্তার(?) না হলে ছাড় দেয়া যেত যে তিনি বোঝতে সক্ষম হন নি। আসলে তিনি ডাক্তার ছিলেন না তা নিয়ে অনেকে সন্দিহান । যদি হতো তাহলে- করোনা প্রতিরোধ নাই করতে পারতো, কিন্তু মন্ত্রী হিসেবে তাঁর উচিৎ ছিল তলিয়ে দেখা যে,যেকোন জরুরী পরিস্থিতি মোকাবেলায় মন্ত্রণালয় কতখানি প্রস্তুত? কারণ এটি তো সাধারণ মন্ত্রণালয় না। মৌলিক এবং ইমারজেন্সী। তিনি বরং ডাক্তারদের হুমকি ধমকির দিকে বেশি মনোযোগী ছিলেন। এটা এমন এক সংবেদনশীল পেশা সেটা তিনি নিজেও বোঝেন নি স্বয়ং ডাক্তার(?) হয়ে। এটাই তার বড় অযোগ্যতা। অদক্ষতা থাকতেই পারে, যোগ্য হলে তা কাটিয়ে উঠা সম্ভব হতো।

দ্বিতীয়ত- ইতালিসহ বিদেশ ফেরত দের কোয়ারান্টাইন করতে ব্যর্থ হওয়া।

তৃতীয়ত- যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রেখে ছুটি ঘোষনা করা। বলা উচিৎ ছিল- যে যে অবস্থানে আছে তার অবস্থান বদল না ঘটানো। সেটা সম্ভব হতো যদি আগেই যোগাযোগ বন্ধ ঘোষনা করতো। অনেকে হয়তো বলবেন ঢাকা ক্লিয়ার করা দরকার ছিল ঝুঁকি যেহেতু ঢাকায় বেশি। কিন্তু ঢাকায় কন্ট্রোল করা যত সহজ গ্রামে তত সহজ না। তাছাড়া টেস্ট সুবিধা বা কেইস ট্রেসিং ঢাকায় সহজ হতো এবং তা টেস্ট করাও সহজ হতো। এখন অবস্থা হবে
অসহায়ের মত চেয়ে থাকা।

যাই হোক, এখন দরকার হল :

১ স্বাস্থ্য মন্ত্রীর জায়গায় দ্রুত যোগ্য লোক দেওয়া, নেদারল্যান্ড র মত।ওখানে হেলথ মিনিস্টার অযোগ্য হয়ে পড়ায় বিরোধী দল থেকেই যোগ্য লোককে স্বাস্থ্য মন্ত্রী হিসেব দ্রুত নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাতে তাদের মধ্যে সংহতি ও বাড়ল।
২. স্বাস্থ্যঅধিদপ্তরের নিয়মিত তথ্য পরিবেশন স্বচ্ছতার সাথে চালিয়ে যাওয়া।তথ্য গোপন কোন ভাবেই ভালো ফল তো দেবে না বরং আরো খারাপ হবে।
৩. সঠিক ও প্রকৃত অবস্থা জানলে স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন গুলো ও তাদের করনীয় নির্ধারণ করতে পারবে এবং situational analysis করে সবাই সহযোগিতা করতে আগ্রহী হবে।
৪. গরীব ও মেহনতি মানুষের খাদ্য ও ঔষধ সরবরাহ সরাসরি রাষ্ট্র কতৃক পালন করতে হবে।
৫. উপরের সব কাজ সুচারু ভাবে সম্পন্ন করতে সর্বদলীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ সহ সমাজের অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ লোকদের কল দিতে হবে।তাদেরকেই দূর্যোগে নেতৃত্ব দিতে আহবান রাখতে হবে সরকারের দিক থেকে।
৬. বেসামরিক ও সামরিক আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের ঐ কমিটির তত্বাবধানে রাখতে হবে।
৭. স্বাস্থ্য কর্মি সহ ফ্রন্ট লাইনারদের জন্য রাষ্ট্রীয় বীমা ঘোষনা করা হোক।
৮. মেডিকেল স্টাফদের নিরাপত্তা পোশাক নিত্য এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক।
৯. করোনা পরীক্ষার টেস্ট জেলা পর্যায়ের হসপিটালে করার ব্যবস্থা নেয়া হোক।
১০. ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি গুলোকে পর্যাপ্ত অতি প্রয়োজনীয় ঔষধ উৎপাদনে বাধ্য করা হোক।
১১. বেসরকারি হাসপাতাল গুলোর আইসিইউ সুবিধা ডিক্রি জারি করে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নেয়া হোক অন্তত জরুরী পরিস্থিতি পর্যন্ত। এবং সেই সিট ডেডিকেটেড করোনা ইউনিটে হস্তান্তর করতে হবে।
১২. কোন ভাবেই জেনারেল হাসপাতালে করোনা রোগী হেন্ডেল করা যাবে না। সেজন্য করোনা হসপিটাল হবে ডেডিকেটেড করোনা ইউনিট।


তথ্য সূত্র – WHO,FDA(usa),nadim mahmud,Research fellow(osaka University, japan)

নোটঃ অনেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রী কে ডা নয় বলছেন। কেউ বলছেন তিনি চমেক এ ভর্তি হয়েছিল কিন্তু পাশ করেনি।যাই হোক পেশাটা এভয়েড করুন।

লেখক : সদস্য সচিব, জনস্বাস্থ্য অধিকার রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রাম।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 15
    Shares