বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৫
শীর্ষ সংবাদ

আমরা এক মানবিক পৃথিবীর অপেক্ষায়

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 1
    Share

উম্মে শায়লা রুমকী::
আজ ৮ই মার্চ। আন্তর্জাতিক নারী দিবস। আজকের দিনটি কি উদযাপনের? বেগুনি শাড়ি পরে কেক মিষ্টির পার্টি , না কি শত শত বছরের যে বৈষম্য, আর প্রথাগত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মাথা নত না করা কিছু মানুষের অবদান তাকে সম্মান জানানো? প্রতিটি মানুষের চিন্তা ভাবনার ধরন আলাদা, দেখার ভঙ্গীও নির্ভর করে অনেক কিছুর উপরে।

ইতিহাস বলে, ১৯০৮ সালে নিউইয়র্ক শহরে ১৫০০০ নারী, পথে নেমে এসেছিলেন সমুন্নত বেতন কাঠামো, ভোটাধিকার আর সীমিত কর্মঘণ্টার দাবীতে, সেই সূত্র ধরেই কর্মজীবি নারীরা ক্লারা জেটকিন্সের নেতৃত্বে ১৯১০ সাল থেকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাবনা রাখেন। এরপর হাওয়া বদল হয় অনেক। ইউরোপ আমেরিকায় ভোটের অধিকারের জন্যে, নিরাপদ কর্মক্ষেত্রের জন্যে, বিশ্বযুদ্ধ এবং তৎসংশ্লিষ্ট মানবিক বিপর্যয় রোধের জন্যে নারীরা শুধু আন্দোলনই করেননি, প্রাণও দিয়েছেন।

প্রথমদিকে বেগুনি, সবুজ, সাদা তিনটি রঙই ব্যবহৃত হতো নারীর প্রতি ন্যায়বিচার বোঝাতে। বেগুনি ন্যায়বিচার আর সম্মানের প্রতীক, সাথে ছিলো সবুজ আর সাদা,সবুজ আশার আর সাদা শুদ্ধতাকে বোঝায়। কিন্তু শুদ্ধতা বিষয়টি বিতর্কিত হওয়ায় সাদা আর ব্যবহৃত হয় না।

এই হলো মোটামুটি ইতিহাস।তাহলে এই দিবসের তাৎপর্য কি? তার আগে জেনে নেই,নারী আসলে কারা?
মেয়ে,ভগ্নী,স্ত্রী,মা,বউ,খালা, মামী,দাদী,চাচী, বান্ধবী ইত্যাদি নামে যে প্রাণী সমাজে বিদ্যমান থাকে তাদেরকেই নারী বলা হয়!সমাজপতিরা আবার এদেরকে মাঝে মাঝে মমতাময়ী, ছলনাময়ী,যৌন আবেদনময়ী,সর্পিণী, কুহকিনী, মঙ্গলময়ী ইত্যাদি নানা রকম ভালোমন্দ বিশেষনে
ডেকে থাকে।

তো এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ধারক ও বাহক কারা?

ইতিহাস বলে,সমাজ প্রথমে নারীর অধীনে থাকলেও কালক্রমে তা পুরুষ নামক প্রাণিটির দখলে চলে যায়।তারপর থেকে শুরু হয়ে যায় নারী নামক প্রাণীর প্রতি অবজ্ঞা, অবহেলা,নির্যাতন। নিজেদের স্বার্থে নারী ব্যবহারের মাত্রা ছাড়িয়ে পুরুষ হয়ে ওঠে অমানবিক!অসুন্দর!অপ্রেমিক!!

এর মাঝেই নারী পুরুষের এই খোলস ছেড়ে কিছু প্রাণী হয়ে ওঠে মানবিক,মানুষ।তরুলতা বা পশুপাখি সহজে তাদের জীবন পায়,কিন্তু মানুষ হতে হলে লাগে প্রাণপণ চেষ্টা!মানবিক হবার চেষ্টায় রত সকল নারী পুরুষকে একসাথে চলতে হবে।নারীর প্রতি সংহসিতা, নির্যাতন, বৈষম্য দূর করার জন্য নারী পুরুষ সকলের একত্রে লড়াই করা প্রয়োজন।একত্রিত হয়ে নারীর প্রতি সংহসিতা রোধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবী।একদিন শুভেচ্ছা না জানিয়ে প্রতিদিনই নারীকে শুভেচ্ছা জানানো দরকার।

কেনো নারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন?

পৃথিবীতে যার হাত ধরে এসেছেন,তিনি মা।যার স্নেহে বড় হয়েছেন তিনি বোন,যার ভালোবাসায় বিকশিত হয়েছেন তিনি প্রেমিকা,যার সাহায্যে ক্যারিয়ারে এগিয়েছে তিনি বন্ধু,তিনি কলিগ,যার অনুপ্রেরনা প্রতিনিয়ত বাঁচতে শেখায় তিনি স্ত্রী,যার জন্য বেঁচে থাকেন তিনি আপনার কন্যা!!তাই একদিন নয়,প্রতিদিন নারীকে সম্মান করুন,শ্রদ্ধা করুন,শুভেচ্ছা জানান,বিপদে পাশে থাকুন।

প্রকৃতির নিয়মে সব প্রাণীর মধ্যে নারী পুরুষ লিঙ্গভেদ থাকে। কেউ কারো চেয়ে বড় বা ছোট নয়।কেউ সবল বা দূর্বল নয়।কেউ নিন্দিত বা নন্দিত নয়।

আমরা এক মানবিক পৃথিবীর অপেক্ষায়।

লেখক : উদ্যোক্তা ও ফিজিক্যাল থেরাপি কনসালটেন্ট , পিটিআরসি


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 1
    Share