রবিবার, মার্চ ৭
শীর্ষ সংবাদ

আবরার হত্যাকান্ড: উত্তাল বুয়েটে অবরুদ্ধ প্রাধ্যক্ষ-পুলিশ, লাঠিচার্জ

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক :: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শের-ই বাংলা হলের অবরুদ্ধ প্রভোস্ট ও পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্ধারে আসা পুলিশকে ধাওয়া দিল বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। আজ রাত ৮টার দিকে শতাধিক পুলিশ সদস্যকে ধাওয়া দিয়ে হল গেটের বাহির করে দেয় শিক্ষার্থী। ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে ।

এসময় প্রভোস্টের অফিসের সামনে অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের ধাক্কাসহ লাটিচার্জ করার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহাদ হত্যায় জড়িদের ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করা যাবে বলে জোর দাবি তুলছে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করতে প্রশাসনের অনীহা দেখা গেছে। তারা বলছে, পুলিশ ভিডিও ফুটেজ নিয়ে গেছে।

আজ সোমবার সকাল থেকে হলের প্রভোস্টের কক্ষের সামনে অবস্থান ‍নিয়েছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, হল প্রশাসন হত্যাকারীদের আড়াল করতে সিসিটিভির ফুটেজ নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করতে চাইছে।

প্রসঙ্গত, রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা হলের একতলা থেকে দোতলায় ওঠার সিঁড়ির মাঝ থেকে আবরারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আবারের লাশ যে স্থানে ফেলে রাখা হয়, ঠিক তার উপরে হলের সিসিটিভি রয়েছে। এবং ওই সিসিটিভি সচলও ছিল। ফলে আবরারের দেহ কারা সেখানে রেখে যায় বা সেসময় হল থেকে কারা বের হয়- তার সবটুকু সিসিটিভিতে ধারণ থাকার কথা।

এদিকে, সিসিটিভির ফুটেজ প্রকাশ করতে শিক্ষার্থীদের দাবি উঠলেও হল প্রশাসন থেকে বলা হচ্ছে, সিসিটিভির সব ফুটেজ পুলিশ নিয়ে গেছে। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সন্ধ্যায় কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও ফুটেজ হল প্রশাসন দিতে রাজি হয়েছিল বলে জানায় অবস্থানকারী শিক্ষার্থীরা। ওই কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও ফুটেজে হত্যাকারীদের ভিডিও নেই। শুধু সিডিতে ফেলে যাওয়া আবরারকে নিরাপত্তাকর্মী উদ্ধারের মুহূর্তগুলো দেখা যাচ্ছে। তাই এই ভিডিও ফুটেজ নিতে অস্বীকার করে শিক্ষার্থীরা।

হলের সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত পুরো ভিডিও প্রকাশের দাবি তুললে হল প্রশাসন জানায়, পুরো ভিডিও পুলিশ নিয়ে গেছে। তাদের কাছ থেকে নিয়ে আসতে বলা হয় শিক্ষার্থীদের। কিন্তু শিক্ষার্থীরা দাবি তুলে- পুলিশের কাছ থেকে নয়, হল প্রশাসনকে দিতে হবে ভিডিও ফুটেজ। দরকার হলে পুলিশ ওই ফুটেজ হলে নিয়ে আসুক।

রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা হলের একতলা থেকে দোতলায় ওঠার সিঁড়ির মাঝ থেকে আবরারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। জানা যায়, গতকাল দিবাগত রাতে বুয়েটের শের-ই বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে পেটান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা। পরে দিবাগত রাত তিনটার দিকে হল থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।

মারা যাওয়া আবরার বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭ তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাড়ি কুষ্টিয়া শহরে।


এখানে শেয়ার বোতাম