রবিবার, মার্চ ৭
শীর্ষ সংবাদ

আবরারের পরিবার চার্জশিটে খুশি, খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক :: বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফায়াদ হত্যাকাণ্ডের এক মাস সাতদিনের মাথায় এ মামলায় আদালতে চার্জশিট দেওয়ায় খুশি আবরারের পরিবার। তবে দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে মামলার বিচারকাজ শেষে খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেখতে চায় তারা। একই সঙ্গে বুয়েটে র‌্যাগিংয়ের নামে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের ঘটনাগুলোতে বুয়েট কর্তৃপক্ষের অবহেলার বিষয়টি উঠে আসায় সব শিক্ষার্থীর প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে আহ্বান জানিয়েছেন।

আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে বুধবার আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। এরপর দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কে আবরার ফায়াদের বাসায় গিয়ে চার্জশিট

দাখিলের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তার মা রোকেয়া খাতুন বলেন, পুলিশ কথা রেখেছে। তারা বলেছিল নিরপেক্ষভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে। তারা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছে। এজন্য তাদের ধন্যবাদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে আবরার ফাহাদের বিচারের দায়িত্ব নিয়েছেন। সেই দায়িত্ববোধ থেকে তিনি নিজে বিষয়টি মনিটরিং করছেন। তাই তাকেও ধন্যবাদ। সব মিলিয়ে ২৫জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে শুনেছি। চার্জশিট যেমন দ্রুত হলো এখন দ্রুততম সময়ে দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচার করতে হবে। সবাইকে সর্বোচ্চ সাজা দিতে হবে।

আবারের মা আরও বলেন, বুয়েট কর্তৃপক্ষের অবহেলার বিষয়টি আমরা বলে আসছিলাম। পুলিশও তদন্তে সেটা প্রমাণ পেয়েছে। তাই এখন থেকে তাদেরও প্রতিটি শিক্ষার্থীর ব্যাপারে যত্নবান হতে হবে। যাতে আর কোনো আবরারকে আমাদের হারাতে না হয়।

একই সঙ্গে আবরার হত্যার বিচার দাবিতে সোচ্চার থাকায় দেশের সব মিডিয়া, বুয়েট ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আন্দোলনকারীসহ দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফায়াজ সাব্বির বলেন, পুলিশ তাদের কথা অনুযায়ী দ্রুত তদন্ত করে অভিযোগপত্র দিয়েছে। এখন দ্রুত বিচারের কাজ শুরু করতে হবে। যাতে সাজাও দ্রুত কার্যকর হয়। এ জন্য স্বরাষ্টমন্ত্রীর কাছে আমাদের দাবি, ভাইয়ার মামলাটি যেন দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে করা হয়।

তিনি আরও বলেন,বুয়েট কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই আমার ভাইয়া অকালে মারা গেছে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নিলে হয়তো ভাইয়া বেঁচে থাকতো। তাই তারাও দায় এড়াতে পারে না। তাদেরও সাবধান করতে হবে।

আবরারের বাবা বরকতুল্লাহ এ সময় বাড়িতে ছিলেন না। তিনি তার কর্মস্থল আলাউদ্দিনগরে ছিলেন। তার সঙ্গে এই প্রতিবেদকের মোবাইল ফোনে কথা হয়। এ সময় তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা পুলিশের কাজে খুশি। ১৯ জনের নামে মামলা করেছিলাম। তার তদন্ত করে ২৫ জনের সম্পৃক্ততা পেয়ে অভিযোগপত্র দিয়েছে। এখন দ্রুত শুনানি শেষে বিচার কাজ শুরু করতে হবে। আর চার্জশিটের কপি হাতে পেলে বিস্তারিত জানতে পারব।


এখানে শেয়ার বোতাম