মঙ্গলবার, মে ১১
শীর্ষ সংবাদ

আন্দোলন করে শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি আদায় করতে হবে: রাজেকুজ্জামান রতন

এখানে শেয়ার বোতাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:: ন্যায্য মজুরি ও গণতান্ত্রিক শ্রম আইনসহ শ্রমিকের অধিকারসমূহ আন্দোলন সংগ্রামের পথেই আদায় করতে হবে বলেছেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি শ্রমিকনেতা রাজেকুজ্জামান রতন। তিনি আজ বরিশালে শ্রমিক সমাবেশে এই কথা বলেন।

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ (৬ ফেব্রয়ারি) সকাল ১০.৩০টায় অশ্বিনী কুমার হলে এই শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলা কমিটির সহ-সভাপতি দুলাল মল্লিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি শ্রমিকনেতা রাজেকুজ্জামান রতন, বাসদ বরিশাল জেলা আহবায়ক ইমরান হাবিব রুমন, সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের শহীদুল ইসলাম, বাবুল তালুকদার, মিজানুর রহমান, হানিফ মৃধা, জাহাঙ্গীর মাঝি, জাকির হোসেন, মহসীন মীর, মানিক হাওলাদার, কালাম, মোকলেস, সোহেল, বাশার, রফিক প্রমুখ।

শ্রমিক সমাবেশে কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, স্বাধীনতার ৪৯ বছরে এসে দেশের উন্নয়নের নানা বয়ান প্রতিদিন প্রচারিত হচ্ছে অথচ এই উন্নয়ন আর অগ্রগতির নিয়ামক শক্তি শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি এখনও নিশ্চিত হয়নি। ১০২টি প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পখাতের অন্তত ৬২টিতে ঘোষিত মজুরি কাঠামো নেই। রপ্তানি আয়ের প্রধান খাতের গার্মেন্টস শ্রমিরা ন্যূনতম মজুরি ১৮ হাজার টাকা দাবি করছে দাবির অর্ধেক বেতনও তাদের দেয়া হয়নি। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে মজুরির কোন ন্যূনতম নীতিও নেই। শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক শ্রম আইনের দাবি উপেক্ষিত। যতটুকু আইন আছে তারও কার্যকারিতা নেই। শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতির জন্য নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র তাও প্রদান করা হয় না। কাজ করতে এসে প্রতিবছর হাজার হাজার শ্রমিক মৃত্যুবরণ করে কিন্তু তাদের কর্মক্ষেত্রে জীবনের নিরাপত্তা নেই, কর্মক্ষেত্রে নিহত-আহত হলে আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা আর পুনর্বাসনের দাবি উপেক্ষিত। শ্রমিকরা দেশের শিল্প বা কারখানা বাঁচিয়ে রাখতে সংগ্রাম করে জীবন দিচ্ছে; তারা তাদের সকল জীবনীশক্তি ক্ষয় করে উৎপানের চাকাকে সচল রাখছে, উন্নয়নের গতিকে ধরে রাখছে কিন্তু তারা মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকতে পারছেন। তাদের থাকার ঘর নেই, তিন বেলা মানসম্মত খাবার জোটে না, তাদের রেশনের দাবি উপেক্ষিত। চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল নাই, তাদের সন্তানের লেখাপড়ার কোন ব্যবস্থা নেই।

বাসদ আহবায়ক ইমরান হাবিব রুমন বলেন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট তার জন্মলগ্ন থেকেই প্রাতিষ্ঠানিক, অপ্রাতিষ্ঠানিক সকল খাতের শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন করার সংগ্রাম চালিয়ে আসছে। শ্রমিক ফ্রন্ট মনে করে আন্দোলন সংগ্রামের পথেই গণতান্ত্রিক শ্রম আইন, ন্যায্য মজুরি, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার আদায় ও সুবিধাবাদী ট্রেড ইউনিয়নের বিপরীতে বিপ্লবী ধারার ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যেখানে শ্রমিকদের সমস্যা সেখানেই সংগঠন এবং আন্দোলন গড়ে তুলে দাবি আদায় করতে হবে।

ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী বলেন, পর্যাপ্ত শিল্প-কলকারখানা না থাকায় বরিশালে কর্মসংস্থানের সুযোগ একবারেই কম। বিসিকসহ যে কারখানাগুলো আছে সেখানেও ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। ফলে শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। আবার ভোলার গ্যাস দেশি কোম্পানী বাপেক্সকে দিয়ে উত্তোলন করে বরিশাল বিভাগে গ্যাসভিত্তিক কারখানা নির্মাণ করে বেকার সমস্যা সমাধান এখন সময়ের দাবি। তিনি বিকল্প কর্মসংস্থান ছাড়া বস্তি, রিক্সা-ভ্যান উচ্ছেদ না করার জন্য কর্তপক্ষের প্রতি আহবান জানান এবং অবিলম্বে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন করে ব্যাটারী চালিত সকল যানবাহনের লাইসেন্স প্রদানের আহবান জানান।

সমাবেশ শেষে একটা লাল পতাকার সুসজ্জিত র‌্যালী নগরীর বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে।


এখানে শেয়ার বোতাম