বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৫
শীর্ষ সংবাদ

আগুনে পুড়ে যাওয়া বস্তিতে মানুষের আহাজারি

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক :: রাজধানীর মিরপুর-৬ নম্বরে মিল্কভিটা মোড় সংলগ্ন বস্তিতে আগুন লেগে পুড়ে গেছে সেখানকার সব ঘর-বাড়ি।

শুক্রবার রাতে ভয়াবহ আগুনে যখন বস্তি পুড়ছিল, তখন রাস্তায় বসে অনেকেই আহাজারি করছিলেন। সেই আহাজারি থামেনি শনিবার দুপুর পর্যন্ত।

আগুন লাগার প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় চারজন আহত হয়েছে। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

টেলিভিশন, মোবাইল, টাকা-পয়সা, আসবাবপত্র সহ অনেকের শেষ স্মৃতিটুকুও কেড়ে নিয়েছে এই আগুনের লেলিহান শিখা।

সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে অনেকেই রাত থেকে এখনও কাঁদছেন। অনেকে আবার আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরের ধ্বংসাবশেষ হাতড়ে পুরনো স্মৃতি খোঁজার চেষ্টা করছেন।

বস্তির বাসিন্দা শামীম হাসান বলেন, ‘আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। সকাল থেকে ঘর খোঁজার চেষ্টা করেছি। ঈদে বউ আর বাচ্চা জামালপুরে বাড়ি গেছে। আগুন লাগার কথা শুনে দৌড়ে বেরিয়ে এসেছি। কিছু সঙ্গে আনতে পারিনি।’

বস্তির পাশেই দুই নম্বর রোডের বাসিন্দা দিলদার আহমেদ বলেন, আগুন দেখে তাঁরা ভয় পেয়েছিলেন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল। বস্তির পাশাপাশি মসজিদসহ আশপাশের চারটি বাড়িতে ওই আগুন ছড়াতে দেখেন তিনি। সরেজমিনে দেখা যায়, বস্তির পাশে একটি বাড়ি ও মসজিদ আগুনে বেশি পুড়ে গেছে।

স্থানীয় অনেক লোক বলছেন, মিরপুর ৭ নম্বরের বস্তিটি অবৈধ। এখানে বেশির ভাগ বাড়ি টিন ও কাঠের। একেকটি বাড়ি টিন দিয়েই তিন-চারতলা করা হয়েছে। গা ঘেঁষাঘেঁষি করে তৈরি করা এসব ঘরের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়েছে। বস্তির আশপাশের বাড়িগুলোতেও আগুন নিয়ে আতঙ্ক ছড়ায়।

স্থানীয় বাসিন্দা খায়রুল বাশার বলেন, বস্তির পাশেই তাঁদের বাসা। তাঁরা আগুন ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে ছিলেন। দ্রুত বাড়ি ছেড়ে সবাই বাইরে চলে আসেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আগুন নেভানো সম্ভব হওয়ায় তাঁরা রক্ষা পেয়েছেন।

ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ২৪টি ইউনিট কাজ করেছে। র‍্যাব, পুলিশ, ওয়াসা ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মী জাহিদ হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শর্টসার্কিট সার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে। পরে তদন্ত করে বিস্তারিত বলা যাবে।

আগুনের খবর পেয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, স্থানীয় সাংসদ ইলিয়াস মোল্যা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে সহায়তা আশ্বাস দেন।

সাংসদ ইলিয়াস মোল্যা বলেন, ৫০ থেকে ৬০ হাজার লোক বস্তিতে থাকত। সবাই ঈদে বাড়ি গিয়েছিল। কিন্তু ফিরে এসে কেউ কিছু পায়নি। এখানে যা ছিল সব শেষ হয়ে গেছে।

পুলিশ সূত্র বলছে, এ ঘটনায় চারজন আহত হয়েছে। তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কেউ নিখোঁজ নেই।


এখানে শেয়ার বোতাম