শনিবার, এপ্রিল ১৭
শীর্ষ সংবাদ

আওয়ামী সরকার ভোটাধিকার হরণ ও নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে : বাম গণতান্ত্রিক জোটে

এখানে শেয়ার বোতাম

নিজস্ব প্রতিবেদক:: আওয়ামী মহাজোট সরকার শুধু জনগণের ভোটাধিকারই হরণ করেনি, গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থাকেই ধ্বংস করে নিয়মতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরের পথকে রুদ্ধ করে অগণতান্ত্রিক শক্তির ক্ষমতা দখলের রাস্তা প্রসস্ত করেছে বলে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা মনে করেন। বাম জোটের এক সভায় নেতৃবৃন্দ এই কথা বলেন।

বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের এক সভা আজ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সকাল ১১টায় তোপখানা রোডস্থ বাসদ (মার্কসবাদী) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

জোটের সমন্বয়ক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড মো. শাহ আলম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদক কমরেড অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশরেফা মিশু, গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদক মনির উদ্দিন পাপ্পু, বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা ফখরুদ্দিন কবির আতিক, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের হামিদুল হক, বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান, আ.ক.ম. জহিরুল ইসলাম, বাচ্চু ভুইয়া ও শহীদুল ইসলাম সবুজ।

সভায় বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ অনুষ্ঠিত ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ও করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভার এক প্রস্তাবে বলা হয়, গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ অনুষ্ঠিত ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে শতকরা ৯০ ভাগ ঢাকাবাসী ভোট কেন্দ্রে না গিয়ে বর্তমান সরকার, নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি চূড়ান্ত অনাস্থা প্রকাশ করেছে। বিগত জাতীয় নির্বাচনে ৩০ ডিসেম্বরের দিনের ভোট ২৯ তারিখ রাতে ডাকাতি করে ভোটাধিকার হরণের যে নজির স্থাপন করেছে তাতে জনগণ মনে করে বর্তমান আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের অধীনে কোন সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে না। তারই প্রমাণ হলো ঢাকা সিটি নির্বাচন।

প্রস্তাবে বলা হয়, শাসক দলের তথ্যমন্ত্রী বলেছেন ‘বিএনপির ইভিএম বিরোধী প্রচারণার কারণে জনগণ ভোট কেন্দ্রে আসেনি’, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘ভোটার অনুপস্থিতির কারণটা গবেষণার বিষয়’, শাসক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, ‘১০০ বছরেও এমন স্বচ্ছ ভোট হয়নি’, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘শীতের কারণে ভোটার কম এসেছে’, পরিকল্পনামন্ত্রী বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রার্থী জিতবেই এ অতিবিশ্বাসের কারণে ভোটার কম’; আর দলকানা নির্বাচন কমিশন সচিব বলেছেন, ‘ব্যস্তার কারণে ভোটার উপস্থিতি কম’, ‘আওয়ামী লীগের কর্মীরা ভোট কেন্দ্রে গেলেই তো আরো বেশি ভোট পড়ার কথা’ ইত্যাদির মধ্য দিয়ে ভোট নিয়ে শাসক দল, নির্বাচন কমিশন, আমলা প্রশাসন, পুলিশ ও গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থার অগণতান্ত্রিক চেহারা ফুটে উঠেছে। ঢাকাবাসী জনগণ এ বিষয়টা আগেই টের পেয়েছিল ফলে তারা ভোট কেন্দ্রে না গিয়ে সরকার ও কমিশনের প্রতি চূড়ান্ত অনাস্থা প্রকাশ করেছে।

প্রস্তাবে বলা হয়, ভোট এতো কম পড়েছে যে বিভিন্ন গণমাধ্যমের হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে ১০% এর বেশি ভোট পড়েনি। আর সিইসি যেহেতু বলেছে ৩০% এর কম পড়েছে ফলে পরীক্ষার টেবুলেশন সীট মিলানোর মতো ভোটের হিসাব ও বিলিবণ্টন মিলাতে ইভিএম-এ ভোট হওয়ার পরও ফল ঘোষণায় অপ্রয়োজনীয় সময়ক্ষেপণে তা স্পষ্ট হয়েছে। এটা যেন মোল্লা দোপেয়াজার শহরে কাকের হিসাব মেলানোর মতো অবস্থা।
প্রস্তাবে বলা হয়, ভোটে যে অনিয়ম, কারচুপি হয়েছে তা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত কথিত ভোট সহায়তাকারীর উপস্থিতি, ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীদের আনসার হিসেবে ভোটে নিয়োগ, কেন্দ্রের বাহিরে-ভিতরে ৩ স্তরের আওয়ামী ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনী মোতায়েন করে জনমনে শংকা তৈরি ইত্যাদি ঢাকাবাসীসহ দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে।

সভার প্রস্তাবে বলা হয়, বর্তমান আওয়ামী সরকার তথা দলীয় সরকারের অধিনে কোন সুষ্ঠ নির্বাচন সম্ভব নয় এটা আবারো প্রমাণ হলো সিটি নির্বাচনে। ফলে রাজপথের আন্দোলনে বর্তমান সরকারকে উচ্ছেদ করেই জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে।

কর্মসূচি:
ভোটাধিকার হরণ ও নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংসের প্রতিবাদে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বুধবার বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।


এখানে শেয়ার বোতাম