শনিবার, মার্চ ৬
শীর্ষ সংবাদ

অবেলায় চলে গেলেন মেজবাহ, ফেইসবুকে শত শোকগাঁথা

এখানে শেয়ার বোতাম

নিজস্ব প্রতিবেদক :: চট্টগ্রামের রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক অঙ্গণের প্রিয় মুখ মেজবাহ উদ্দীন (৩৮) চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

আজ সকাল ১১ টার দিকে কলকাতা ফর্টিস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্তায় মারা যান তিনি।

জানা যায়, মেজবাহ উদ্দীন স্ত্রী জেরিনের চিকিৎসার ফলোআপের জন্য কলকাতা গিয়েছিলেন।কিন্তু গতকাল (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তার খুব খারাপ লাগায় ইমারজেন্সি কলকাতা হার্ট ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। তখন চিকিৎকরা জানান, তাঁর ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক হয়েছে।

এরপর তাঁকে কলকাতা ফর্টিস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতেই তাঁর এনজিওপ্লাস্টি করা। কিন্তু আজ সকালে তিনি মৃত্যুর কাছে হার মানেন।

মেজবাহ কলেজ জীবন থেকেই রাজনীতির শুরু করেন। এরপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ সময় ছাত্র রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতি শেষে জেলা ছাত্র ফ্রন্টের সহসভাপতির দায়িত্ব শেষে ছাত্র রাজনীতি শেষ করেন। এরপর থেকে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবে কাজ করছিলেন। অনেক সম্ভাবনাময়, নিবেদিত, সাংস্কৃতিক আন্দোলনে কর্মী মেজবাহ মৃত্যুতে শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের আন্দোলনে অপূরণীয় ক্ষতি হলো।

তাঁর মৃতদেহ কলকাতা থেকে দেশে নিয়ে আসা হবে। শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতার সময় পরে জানা যাবে।

তাঁর অকাল মৃত্যুতে ফেইসবুকে শত শোকগাঁথা চলছে।

বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জাম্ন রতন লিখেছেন………..

অবিশ্বাস্য কিন্তু বেদনাদায়ক সত্য !
মেজবাহ নেই !
চট্টগ্রামে সাময়িক বিপর্যয়ের পরে আবার একটু একটু করে তখন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কাজটা গড়ে উঠছিল। নতুন কাউকে পেলে চেষ্টা থাকতো তাকে দলের প্রতি আগ্রহী করে তোলার । তখন ছোটখাট চেহারার সুন্দর এক ছেলে এলো অফিসে। তারপর কত দিন, কত স্মৃতি ! কত বেদনাও না মিশে আছে সেইসব দিনের সাথে!
রাজনীতি কি ভাবে করবে, বাড়ীর মা বাবা’র সঙ্গে কি যুক্তি করবে রাজনীতি নিয়ে এসব আলোচনা করতে করতে সে সার্বক্ষণিক রাজনীতি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল।
স্বপ্নময় এক যুবক ! তার তো যাওয়ার সময় হয় নি ।
ওর এই অকালে চলে যাওয়া যে কত বেদনার !

বাতিঘরের কর্নধার দিপঙ্কর দাশ লিখেছেন …..

মেজবাহ’র সঙ্গে আমার খুব বেশি ঘনিষ্টতা বা আলাপচারিতা হয়েছে তা নয়। কিন্তু যতবারই কথা হয়েছে তার সংবেদনশীল হৃদয়ের উষ্ণতা পেয়েছি সবসময়। বাতিঘরের একজন অকৃত্রিম শুভানুধ্যায়ী ছিল মেজবাহ।
বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের একজন হৃদয়বান গুরুত্বপূর্ণ কর্মীকে আমরা হারালাম।

নোয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লিটন চন্দ্র ভৌমিক লিখেছেন ……….

কিছুক্ষণ আগেই এই চমৎকার মানুষটি আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন। মেজবাহ ভাই একটু আগে ক্যালকাটা হার্ট ক্লিনিকে মৃত্যুবরণ করেছেন। আমার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বড়ভাই, রুমমেট, বন্ধু। তুমুল আড্ডাবাজ, উন্মত্ত ভ্রমনপিপাসু, অবিরাম মুভি- সঙ্গিত- বই পোকা। সহস্র সঙ্গিত মুখস্ত, রাজনীতির সব শ্লোগান মুখস্থ, যে কোন স্থানের তথ্য মুখস্থ, ইতিহাসের ভাণ্ডার এই মানুষটি। পরিবারের বেশিরভাগ সদস্য আমেরিকা- কানাডাতে সেটেল হলেও এই একরোখা মানুষটি জেদ ধরেছেন- দেশে থাকবেন, মানুষের জন্য কাজ করবেন, রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন নিয়ে পড়ে থাকবেন। তাই বোধয় পরিবারের সাথে কিছুটা বিচ্ছেদ; কিন্তু সমাজ, সংস্কৃতি, শিল্প, মানুষ, পরিবেশ সবকিছুর সাথে তীব্র ঘনিষ্ঠতা। কতো স্মৃতি, কতো আড্ডা, কতো তর্ক, কতো ঝগড়া, কতো জায়গায় দলবেঁধে ভ্রমণ, আরও কতকিছু এখনও যে বাকি।

মেজবাহ ভাই, দীর্ঘ জীবন পাননি; কিন্তু সুগভীর জীবন পেয়েছেন। স্বল্পসময় পেয়েছেন, কিন্তু জীবনের উথান-পতন, রুপ-সৌন্দর্য, ঘাত-প্রতিঘাত দেখেছেন। আর আপনাদের মতো মানুষরা এই দেশ সমাজে জন্মাক; বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আপনাদের মতো মানুষের খুব অভাব!

… ওহে চঞ্চল, বেলা না যেতে খেলা কেন তব যায় ঘুচে॥

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাসুদ রানা লিখেছেন ……….

মেজবাহ দা এভাবে চলে গেলেন!!! আপনাকে আমাদের ভীষণ প্রয়োজন ছিল। লাল সালাম……

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আল কাদেরী জয় লিখেছেন……

৯৭ সালের কথা। চট্টগ্রাম সিটি কলেজের S1 সেকশনের একেবারে শেষ বেঞ্চে ইন্টারমিডিয়েট ফার্স্ট ইয়ারের কিছু ছেলে ক্লাসের ভেতরেই হেঁড়ে গলায় গান ধরেছে।ক্লাসের অন্য ছেলেমেয়েরা তো একটু অবাক – এই গানগুলো তো তারা আগে শোনে নি। কেমন অপরিচিত সুর ও কথা.. ঠিক জেমস,আইয়ুব বাচ্চুর মতন নয় আবার রবীন্দ্র-নজরুলের গানের মতনও নয়!
এই গানগুলো এ-ই ছেলেরা কোত্থেকে পেলো? টেবিল চাপড়িয়ে গান বেজেই চলেছে -” হ্যালো 2441139 বেলা বোস তুমি পারছো কি শুনতে/ মেরি অ্যান.. মেরি মেরি অ্যান…/ ও গানওয়ালা -আরেকটা গান গাও…!”

গানগুলো চলতে চলতে হঠাৎ একটু তুলতুলে, গাট্টাগোট্টা চশমা পড়া গোলগাল চেহারার এক ছেলে এসে বললো-“আমিও শুনেছি গানগুলো”- বলে সেও জুটে গেলো এই গানের দলের ছোকরাগুলোর সাথে!

ছাত্র ফ্রন্টের সাথে যুক্ত হই তার আরো কিছুদিন আগে।কলেজে ছাত্রলীগের আধিপত্যের কারণে সরাসরি সংগঠনের কথা প্রচার করা যেত না।পাশেই নিউ মার্কেটের মোড়ে দোস্ত বিল্ডিংয়ের ৫ তলায় ছিলো পার্টি অফিস। তাই কোনোমতে বন্ধুদের অফিসে নিয়ে যাওয়াটাই ছিলো মূল টার্গেট,বিশেষ করে রতন ভাই,আদনান ভাইসহ পার্টি নেতাদের সাথে আলাপ জমিয়ে দেয়াটা ছিলো উদ্দেশ্য।তাই ক্লাসে গানের আড্ডা, জিআরপি মাঠে সিগারেট খাওয়ার মধ্যে গড়ে উঠে পুস্পেন,সাকিব, শাওনসহ ফার্স্ট ইয়ারের এক বন্ধু সার্কেল।
একবার অফিসে প্রোগ্রামের জন্য গণচাঁদা সংগ্রহ করতে যাওয়ার কথা। টার্গেট ছিলো বন্ধু পুষ্পেনসহ যাবো।কিন্তু ওর রেড ক্রিসেন্টের কাজে দেরি হয়ে যাওয়ার কারণে একাই অফিসে চলে যাই।গিয়েই লিপন ভাইয়ের কাছে শুনি-সিটি কলেজ থেকে একটা নতুন ছেলে এসেছে। ছেলেটার নামটা উনি বলতে পারছেন না।
পরে দুপুরে অফিসে ফিরে দেখি-ঐ চশমা পরা ছেলেটা বসে আছে। সিটি কলেজ থেকে ওই এসেছিলো।তখনই মনে পড়লো এর আগের দিন পুষ্পেনকে অফিসে আসতে বলার সময়-ছেলেটাও পাশে ছিলো। পুষ্পেন ওর সাথে পরিচয় করে দিয়েছিলো।ওরা একসাথে নাসিরাবাদ বয়েজ স্কুলে পড়তো। এই প্রথম ছেলেটার পার্টি অফিসে যাওয়া,হয়তো কিছু না বুঝেই, কিছুটা বন্ধুত্বের খাতিরে…
সেই ছেলেটাই ছিলো আজকে ছেড়ে চলে যাওয়া বন্ধু মেজবাহ।
এভাবে একসাথে রাজনীতির পথচলা শুরু হয় আমাদের। কত গান, স্মৃতি, বকাঝকা, মান- অভিমান ছিলো আমাদের।ক্লাস না করে নুরুর বাসায় সুমন, অঞ্জনের গান শোনা, নদীর ধারে গান গাওয়া,মার্ক্স- লেনিনের বিপ্লবী আলোচনা আরো কত কি…
কলেজের বাইরে আমি কাজ করতাম কোতোয়ালি থানায় আর ও ছিলো চাঁনগাও-পাচঁলাইশ থানায়। পরে ইন্টারমিডিয়েটে ওর রেজাল্ট খারাপ হওয়ার পর বেশকিছু দিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরের বছর আবার পাশ করে ভর্তি হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। ওখানেই ওর সাংগঠনিক কাজের বড় পরিচিতি ঘটে।
এরপর তো জরুরি পরিস্থিতির সময় পটিয়ায় চলে আসে জেলার দায়িত্ব নিয়ে। তারপর থেকে যখনই আসতো মেসে নিচের তলায় আমরা একই খাটে ঘুৃৃমাতাম,সকালে বের হতাম একইসাথে…

মেজবাহ..,
পথ আমাদের আলাদা হয়েছিলো ঠিকই। কিন্তু ঠিকানা তো কখনো আলাদা হয় নি,ভুলেও যাই নি।জানি তুইও ভুলিস নি।
আজকে এই অবেলায় চলে গেলি, বড্ড একা করে দিলি… যেখানেই যাস মনে রাখিস- আমাদের স্বপ্ন একটাই – গড়বো এবার বিশ্বজুড়ে যৌথখামার।
বন্ধু মেজবাহ – ভালোবাসি!
কমরেড মেজবাহ! লাল সালাম!..

বাসদ (মার্কসবাদী) চট্টগ্রাম জেলার নেতা সত্যজিৎ বিশ্বাস লিখেন………..

অবিশ্বাস্য, গভীর বেদনার হলেও কঠিন এক বাস্তব সত্য খবর আমাদের প্রিয় কমরেড মেজবাহ উদ্দীন বেঁচে নেই। তাঁর স্ত্রী জেরিনের চিকিৎসার ফলোআপের জন্য সে কলকাতা গিয়েছিল। সন্ধ্যায় তার খুব খারাপ লাগায় ইমারজেন্সি কলকাতা হার্ট ক্লিনিকে ভর্তি হয়।
সেখানে জানা যায়, তাঁর ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। এরপর তাকে কলকাতা ফর্টিস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতেই তার এনজিওপ্লাস্টি করা। আমরা আশা করেছিলাম, মেজবাহ ফিরে আসবে। কিন্তু আজ সকালে সে মৃত্যুর কাছে নিজেকে সঁপে দিল।
স্কুল জীবন থেকেই তাঁর রাজনীতির শুরু। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ সময় সে ছাত্র রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিল। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি দায়িত্ব পালন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতি শেষে জেলা ছাত্র ফ্রন্টের সহসভাপতির দায়িত্ব শেষে ছাত্র রাজনীতি শেষ করেন। এরপর থেকে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবে কাজ করছিল। অনেক সম্ভাবনাময়, নিবেদিত, সাংস্কৃতিক আন্দোলনে কর্মী মেজবাহ মৃত্যুতে শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের আন্দোলনে অপূরণীয় ক্ষতি হলো। তাঁর অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীর শোকাহত। বাসদ( মার্কসবাদী) চট্টগ্রাম জেলার তরফ থেকে কমরেড মেসবাহকে লাল সালাম।

তাঁর মৃতদেহ কলকাতা থেকে দেশে নিয়ে আসা হবে। শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতার খবর পরে জানানো হবে।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয কমিটির সাবেক সভপতি বেলাল চৌধুরী লিখেছেন…..

মেজবাহ উদ্দিন। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জেলা শাখার সাবেক সহ সভাপতি। চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’র সংগঠক। দুরন্ত যুবক। স্বপ্ন দেখতো বিপ্লবের। স্বপ্ন দেখতো দিন বদলের।

আত্মকেন্দ্রিকতা ও ব্যক্তিগত স্বার্থপরতার এ যুগে বিপ্লবী রাজনীতির সাথে জড়িয়ে যাওয়া মোটেই সহজ নয়। বিপ্লবের অনিবার্যতা নিয়ে যাদের বিন্দুমাত্র সংশয় নেই, মেজবাহ ছিলো তাদেরই একজন।

সে মেজবাহ চলে গেলো হুট করে! ভীষণ কষ্টের তার এ চলে যাওয়া! গভীর শোক! অপার শ্রদ্ধা!
লাল সালাম- কমরেড মেজবাহ!

সুদীপ্ত বিশ্বাস বিভু লিখেছেন …….

সে চলে গেল, বলে গেল না
সে কোথায় গেল ফিরে এল না।

মেজবাহ ভাই, আমার অভিমানের গল্পগুলো শোনানোর অবসরটুকু আপনি দিলেন না।

সিলেট জজ কোর্টের আনজীবী রনেন সরকার রনি লিখেছেন …….

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সহ-সভাপতি, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সংগঠন কমরেড মেসবাহউদ্দিন আজ সকালে কলকাতার একটি হাসপাতালে হার্ট এট্যাকে না ফেরার দেশে চলে গেছেন! মৃত্যুর উপর কারো হাত নেই। তবুও সদ্য বিবাহিত মেসবা ভাই’র অকাল মৃত্যু মেনে নেওয়ার মত নয়!!!

ছাত্র ফ্রন্ট সিলেট মহানগর সভাপতি সঞ্জয় দাস লিখেছেন….

গত ১৮ তারিখে সিলেটে আসার ব্যাপারে কথা হচ্ছিল মেজবাহ ভাই’র সাথে। জানালেন দেশে থাকবেন না…. তখন তো বুঝিনি এতদূরে যাচ্ছেন……
মেজবাহ ভাই’র সাথে প্রথম পরিচয় ঢাকার কোন এক প্রোগ্রামে। স্লোগান দিচ্ছিলেন ” যুগে যুগে বিপ্লবীরা/তারাই যুগের শ্রেষ্ঠ মানুষ”। এ লড়াই চলবে মেজবাহ ভাই।

ফাহিমা কানিজ লাভা লিখেছেন …..

আপনার মতো বন্ধু এমন অকালে হারাব ভাবিনি মেসবাহ ভাই। পার্টি প্রোগ্রামে আমি আপনার ছবি বেশি তুলতাম। অনেকেই ফাজলামো করে বলতো- আপনাকে নাকি আমি বেশি ভালোবাসি বলে। সত্যিই আপনাকে খুব ভালোবাসতাম শুরু থেকেই।
আপনার সাথে ইয়ার্কি -ফাজলামো, তর্ক আর করব না, আপনার গান শুনব না- এটা ভাবা যাচ্ছে না। এই তো সেদিনও ‘স্তালিন’ নাটক নিয়ে আমরা তর্ক করলাম, এই তো সেদিন আমরা রাতভর আড্ডা দিলাম!! আপনার প্রিয় টেনিদা পড়লেই যে আমার মন ভারি হবে এখন। যদি মৃত্যু মিথ্যা হয়ে যেত, হায়!
কমরেড, শত প্রতিকূলতায়ও আপনি জীবনের শেষদিন পর্যন্ত লড়াই জারি রেখেছেন। আমাদের অনেকের হৃদয়ে আপনি বেঁচে থাকবেন। লাল সালাম মেজবাহ ভাই।

ফেইসবুকে এমন শত শোকগাঁথা চলছে….


এখানে শেয়ার বোতাম