বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৩

অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসানকে অপসারণ ঢাবি প্রশাসনের স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 34
    Shares

ঢাবি প্রতিনিধি:: গত ৯ সেপ্টেম্বর বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসানকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্থায়ীভাবে চাকুরিচ্যুত করেছে। গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের সুপারিশের ভিত্তিতে ড. মোর্শেদ হাসান খানকে চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এ সম্পর্কে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী এবং সাধারণ সম্পাদক প্রগতি বর্মণ তমা এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, “যে কারণ দেখিয়ে এবং যে প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপককে চাকুরিচ্যুত করা হলো, তা নিন্দনীয় এবং নজিরবিহীন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি নিবন্ধে তিনি ‘বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি’ করেছেন।

কারও প্রকাশিত কোনো চিন্তা যদি সঠিক মনে না হয়, তবে তা যুক্তি দ্বারা খ-নের সুযোগ থাকে। এটাই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ। কিন্তু প্রশাসনিক ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে কাউকে শাস্তি প্রদান নিঃসন্দেহে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ ১৯৭৩-এর ৫৬(২) ধারা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক রাজনীতির সাথে নিজেকে যুক্ত রাখতে পারেন, স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের অধিকার রাখেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযোগ উত্থাপন করলে অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। তারপরও এই চাকুুরিচ্যুতি ভিন্নমত দমনের ঘৃণ্য কৌশল ছাড়া আর কিছুই না।

চাকুরিবিধি অনুযায়ী একজন শিক্ষক দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে কিংবা তার নৈতিক স্খলন হলে বিশ্ববিদ্যালয় তাকে অপসারণ করতে পারে। কিন্তু অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসানের বিরুদ্ধে এধরনের কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। অর্থাৎ এক্ষেত্রে চাকুরিবিধিও মানা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৩ সদস্যের একটি ‘বিশেষ ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করে এবং এর ভিত্তিতেই চাকুরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত হয়। এই ট্রাইব্যুনাল গঠন প্রক্রিয়া এবং এর সিদ্ধান্ত যে নিরপেক্ষ নয়, তা বুঝতে কষ্ট হয় না।”

তারা আরও বলেন, “এ রাষ্ট্রে জনগণের মতপ্রকাশের অধিকার প্রতিনিয়ত খর্ব হচ্ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও নানা কালাকানুন প্রয়োগ করে মানুষের মতপ্রকাশের অধিকারকে স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীন অস্তিত্ব আছে বলেই আমরা বিশ্বাস করি। তাই বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয় ‘রাষ্ট্রের ভেতরে রাষ্ট্র’। কিন্তু আমরা বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রাষ্ট্রের ঘৃণ্য ফ্যাসিবাদী নীতিকে কার্যকর করতে বেশ তৎপর।

স্বাধীনজ্ঞান চর্চার জন্য অ্যাকাডেমিক ফ্রিডম খুব জরুরি। কিন্তু ‘অবমাননা’, ‘বিকৃতি’-এসমস্ত অভিযোগ তুলে জ্ঞানচর্চার স্বাধীন পরিবেশকে বিঘ্নিত করা হচ্ছে। অনেককে চাকুরি থেকে অপসারণ করা হচ্ছে, প্রমোশন আটকে দেওয়া হচ্ছে। এভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন একটি ভয়ের পরিবেশ গড়ে তুলতে তৎপর।”

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসানকে চাকুরিতে পুনর্বহাল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 34
    Shares