শনিবার, মার্চ ৬
শীর্ষ সংবাদ

অধ্যাপক অজয় রায়ের মৃত্যুতে সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও বাসদ(মার্কসবাদী)’র শোক

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক :: বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, শিক্ষা আন্দোলন মঞ্চ-এর সভাপতি এবং ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, মুক্তিযোদ্ধা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. অজয় রায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)।

অধ্যাপক অজয় রায়ের মৃত্যুতে সিপিবি’র শোক :

বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, মুক্তিযোদ্ধা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. অজয় রায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম।


নেতৃবৃন্দ তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন অধ্যাপক অজয় রায় দেশের স্বাধীনতা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তারা আরো বলেন, তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।


নেতৃবৃন্দ কমিউনিস্ট পার্টির সাথে অধ্যাপক অজয় রায়ের অন্তরঙ্গ সম্পর্ক কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। তারা অধ্যাপক অজয় রায়ের পুত্র বিশিষ্ট বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়ের হত্যাকারী মৌলবাদী ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। নেতৃবৃন্দ অধ্যাপক অজয় রায়ের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক অজয় রায়ের মৃত্যুতে বাসদ এর শোক :

বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান আজ ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ সংবাদপত্রে দেয়া এক বিবৃতিতে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক অজয় রায় এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

কমরেড খালেকুজ্জামান বিবৃতিতে বলেন, পদার্থ বিজ্ঞানের বরেণ্য অধ্যাপক অজয় রায় আজ সোমবার দুপুর পৌনে একটায় রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। সমাজে বিজ্ঞানমনস্কতা ও যুক্তিবোধ তৈরিতে এবং বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে ড. অজয় রায় মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

মুক্তিযোদ্ধা এই অধ্যাপকের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল ভাষা আন্দোলন ও উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানেও। তিনি ছিলেন শিক্ষা আন্দোলন মঞ্চ-এর সভাপতি এবং ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। অধ্যাপক অজয় রায় পিতা হিসেবে অসামান্য সাহসীকতা ও দৃঢ় চিত্তের পরিচয় দিয়েছেন তার সন্তান বিশিষ্ট বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায় হত্যার প্রেক্ষিতে। সন্তানের মৃত্যুতে তিনি শোকাহত হলেও ভেঙে পড়েননি। সন্তান হত্যার বিচারের দাবিতে সর্বত্র সক্রিয় থেকেছেন। সন্তানের মৃত্যুর বেদনা বুকে নিয়েও
গনমানুষের স্বার্থের যেকোন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার সরব উপস্থিতি আন্দোলনকে শক্তি যুগিয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় রাষ্ট্রের অবহেলার কারণে তিনি জীবদ্দশায় সন্তান হত্যার বিচার দেখে যেতে পারেন নি। বিশিষ্ট এই শিক্ষাবিদ সর্বজনীন শিক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনসহ গণতান্ত্রিক শিক্ষাঙ্গন প্রতিষ্ঠার দাবিতে আমৃত্যু সোচ্ছার ছিলেন।

তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণার জন্য তাঁর মরদেহ বারডেম হাসপাতালে দান করা হবে। এর মাধ্যমে তিনি মৃত্যুর মধ্যদিয়েও বিজ্ঞান মনষ্কতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার স্বাক্ষর রেখে গেলেন।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)’র শোক প্রকাশ :

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক অজয় রায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, বরেণ্য শিক্ষাবিদ অধ্যাপক অজয় রায় এদেশের স্বাধীনতাসহ সমস্ত গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ভূমিকা পালন করেছেন। স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী সংগ্রামে যেমন সোচ্চার ছিলেন, তেমনি যুক্তিবাদী বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ নির্মাণে ছিলেন সক্রিয়।

তিনি গণতান্ত্রিক শিক্ষা আন্দোলনেরও বলিষ্ঠ সংগঠক ছিলেন। শিক্ষা আন্দোলন মঞ্চ গড়ে তুলে সারাদেশের শিক্ষক ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গ সংগঠিত করেছেন। সৎ, সাহসী ও আদর্শনিষ্ঠ শিক্ষকের আজীবন নিরবিচ্ছিন্ন সংগ্রাম আগামীদিনে শিক্ষা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সকল কর্মীদের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির গভীর শোক :

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক আজ এক বিবৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ডা. অজয় রায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন তাঁর মৃত্যুতে দেশ তার এক বরেণ্য সন্তানকে হারিয়েছে।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, প্রয়াত অজয় রায় ছিলেন প্রগতিশীল, মুক্তমনা, দেশ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ একজন মানুষ। মুক্তিযোদ্ধা এই অধ্যাপক সারাজীবন এদেশের মুক্তিকামী মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্খাকে ধারণ করেছেন।

তাঁর মৃত্যুতে দেশের শিক্ষাঙ্গণ এক মহান শিক্ষাবিদকে হারিয়েছেন। তার শুন্যতা সহজে পূরণ হবার নয়। তার পুত্র অভিজিৎ রায়ের নৃশংস হত্যাকান্ডের পর তিনি যে দৃঢ় মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তা একটি বিরল ঘটনা। মৃত্যুর আগে তিনি তার পুত্রের হত্যাকা-ের বিচার দেখে যেতে পারেননি।

বিবৃতিতে তিনি প্রয়াত অজয় রায়ের স্মৃতির প্রতি গভীর সম্মান জ্ঞাপন করেন এবং তার পরিবার ও গুণগ্রাহীদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।


এখানে শেয়ার বোতাম