সোমবার, মার্চ ১
শীর্ষ সংবাদ

অডিও ক্লিপে সরগরম ইবি ছাত্রলীগের রাজনীতি, সাধারণ সম্পাদক হালিম ১০ কোটি টাকা আয় করেছেন

এখানে শেয়ার বোতাম

ইবি প্রতিনিধি :: কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রলীগের দফায় দফায় অডিও ফাসেঁ সরগরম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতির মাঠ। দফায় দফায় নিয়মিত বিরতিতে নেতাদের অডিও ফাঁসে বের হয়ে আসছে বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্র রাজনীতির হালচাল সাথে বেরিয়ে আসছে বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর তথ্য।

সর্বশেষ অডিও ক্লিপটি ইবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সাথে সাবেক বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-সম্পাদক যুবায়ের আল মাহমুদের মধ্যে কথোপকথন।

বুধবার (৩০ অক্টোবর) রাত ১টা ৫৪ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ও আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র জুবায়ের আল মাহমুদের কথোপকথনের ৪ মিনিট ৯ সেকেন্ডের একটি অডিও ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’ নামে একটি ফেসবুক আইডির মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা কে কত টাকা কামিয়েছেন, বর্তমান বিদ্রোহী কর্মীদের কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। অবৈধ টাকার উৎস কোথায় এবং জুবায়ের ইবি শাখা ছাত্রলীগের বিদ্রোহী নেতাদের কথা না শুনলে খুন হয়ে যেতে পারেন বলে মন্তব্য করা হয়েছে। অডিওতে রাকিবকে তার সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিতেও বলা হয়েছে।

অডিওতে জুবায়েরকে বলতে শোনা যায়, ইবি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিম ১০ কোটি টাকা আয় করেছেন বলে জুবায়ের রাকিবকে জানান। এই টাকা থেকে দুই কোটি টাকা ভাগ পেয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের একান্ত সচিব রাজু। অডিওতে ইবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সঙ্গে জুবায়ের আল মাহমুদ এর কথোপকথন হয়েছে।

পাঠকদের জন্য অডিও কথোপকথন তুলে ধরা হলো:

জুবায়েরঃ আরাফাতের কোনো ছেলে পেলের গাঁয়ে হাত দেবো না। আরাফাতের যে কটা কাজের ছেলে পেলে আছে, যারা গাঁজা খায় তাদের গাঁজা খাওয়ার টাকা দিতে হবে। যারা একটু মাল খায়, তাদের মাল খাওয়ার টাকা দিতে হবে। যারা হলের সুবিধা চায় তাদের হলে সুবিধা দিতে হবে। কিন্তু সেই কাজটা….

রাকিবঃ তাইলে আমি এখন কী করব? আমি এখন রাজু ভাইয়ের কাছে যাব?

জুবায়েরঃরাজু ভাই তোরে মেনে নিবে না।

রাকিবঃকেন?

জুবায়েরঃএই হলো মূল কথা। তোর একটাই কাজ পদত্যাগ করা।

রাকিবঃরাজু ভাই কী চায়?

জুবায়েরঃআমি ঐডা জানি না। কমিটি ভাইঙা দিতে কইছে। হালিম, শাহীনের কাছ থেকে টাকা খেয়েছে না রাজু। এই ক্যাম্পাস থেকে আট, দশ কোটি কামিয়েছে হালিম। ঐখান থেকে দুই কোটি খাইছে না রাজু। তুমি বুঝো না রাজনীতি? তুমি যদি আমারে দুই কোটি টাকা দাও, তুমি আমারে মাইরা মাডার কল্লেও আমি তোমার কথা শোনব। আমি শিবির মারতাম। মেলা আগেত্তে। মনে কর তোরে চাকরি দিলাম। বিশ লাখ পেলাম, চলে গেল পাঁচ লাখ। মনে করো গিভ অ্যান্ড টেক কোনো প্রমাণ নাই। দিছিস বিশ লাখ তুই আমারে? কোনো প্রমাণ নাই রেকর্ডিংও নাই বাল ছিড়তে পারবি তুই আমার? করার কিছু আছে? তুই পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে চইলা যা। তোরে ভালো কিছু পদ দেবনে। আমার ভালো লাগে না ওগুলো। তোরে নিয়ে ভাবতে আর ওগো নিয়ে ভাবতে আর ভালো লাগে না। আমি যে তোর রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত করে দিলাম, তুই আমার কথা কখনো শোনিসনি, গুরুত্ব দেসনি। তোর রুমেত্তে সরাই দিছিস আমার খারাপ লাগছে।

তুই তুহিনের কথা শোনলি।……… আমারে তো কোনো দিন আরাফাতেরা ভালোবাসেনি। আজগে ভালোবাসে আমি রাজনীতি করি তাই। আমারে ইউজ করে। এখনো ইউজ করতেছে অস্বীকার করার কিছু নেই।

রাকিবঃ আমি কী তোর সাথে কোনো খারাপ ব্যবহার করছি?

জুবায়েরঃখারাপ ব্যবহার করিসনি। তোরে খারাপ বানানো হয়েছে মেইনলি। আব্দুস সোবহান গোলাপ ফোন দেয় হানিফ ভাইরে। কার জন্য ফোন দেয়? আমি মাডার হয়ে যাই… কালুর ছেলে পেলের হাতে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমার জন্য ফোন দেয় এসপি তানভীররে……. এই কাহিনী জানিস? তোরে কোনোদিন কইছি আমি বোকা(গালি)? তুই কী মনে করিস আরাফাত, খসরোর ভরসায় আমি ঢাকায় চো(গালি) বেড়াই? তোর মনে হয় তাই? খসরো, আরাফাত আমার টাকা চো*(গালি)? টাকা দেয় আমার কাকা আবু বকর হোসেন জামাল। কালকেও পাঁচ হাজার টাকা লাগিছে। আমি জানি আমি থাকলে তুই ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারবি। এই বিশ্বাস আমার আছে বন্ধু কিন্তু আমি মাডার হয়ে যাব বন্ধু। আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাব। বউ-বাচ্চা আছে বুঝছিস। নাইলে মনে কর হানিফ আবার মামলা টামলা দিয়ে…..বুঝছিস?। তুই কী চাস আমি মাডার অইয়া যাই? আমি তোরে কথা কইলে, বাস্তব কথা কইলে তুই বিশ্বাস করবি? মনেত্তে কতা কইলে, আমি কতা কইলে তোর চোখে পানি চইলা আইব। আবার বুকের ভেতর অনেক যন্ত্রণা আছে। আমার যন্ত্রণার চেয়ে আমার বুকে অনেক অভিমান। আমার দুঃখ কষ্ট দেখার, আল্লাহ ছাড়া কেউ দেখে না সত্যি কথা বললাম। লক্ষ লক্ষ টাকা আরাফাতের কাছ থেকে নিয়ে একটা টাকাও দেয় নাই। আমি জানি যে কোন জায়গা থেকে টাকা নেচ্ছে, আইসতেছে।

এ বিষয়ে জুবায়ের আল মাহমুদ বলেন, ‘আমি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। রাকিব সহ ৬\৭ জন আমাকে ফোনের মাধ্যমে কল দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় গেটের (ডরমেটরি)দিকে ডেকে আমাকে প্রান নাশের হুমকি দিয়ে এ কথা গুলো বলিয়ে নিয়েছেন। আমি থানায় সাধারণ ডায়রি করেছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘আমাদের দুজনের মধ্যে কথা হয়েছে। কিভাবে বাইরে আসলো আমার জানা নেই। প্রতিনিয়তই আমাকে চাপের মুখে থাকতে হচ্ছে। বিদ্রোহী নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে আমাকে নিয়ে একের পর এক সমস্যা করেই চলেছে।’

এর আগে চার দফায় ইবি ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবের অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়েছে। ইবি ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক ও ছাত্র লীগ নেতা জুবায়ের আল মাহমুদের অডিও ক্লিপ ফাঁসের আগে ২৯ই অক্টোবর ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ডের একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়। অডিওটিতে আদালত নিয়ে বিভিন্ন আপত্তিকর কথা উঠে এসেছে।

এর আরো আগে ড্রাইভার নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে ১ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের এবং ৪০ লাখ টাকার বিনিময়ে নেতা হওয়া নিয়ে রাকিবের ৪ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড৷
ফাঁস হওয়া অডিও বেশিরভাগই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বলে মনে করছেন ছাত্রলীগের কর্মীরা।


এখানে শেয়ার বোতাম